২৩ আগস্ট ২০১৯

সড়ক দুর্ঘটনায় বাড়ছে প্রাণহানি

-

এইতো সেদিন চট্টগ্রামের রাংগুনিয়ায় ঘুমন্ত নিরীহ মানুষের উপর ওঠে গেল মালবাহী গাড়ি। মারা গেল চারজন, আহত কয়েকজন। এরও আগে সড়কে শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় সারাদেশে তাদের সহপাঠীদের প্রচণ্ড বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এমনিতে সড়কে প্রতিনিয়ত নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটছেই। প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে মানুষ।

গত ১২ জুন সংসদে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, গত ১০ বছরে ২৫ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। আহত হাজার হাজার।

গাড়ির যাত্রীরা শুধু নন, সড়ক-মহাসড়কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়াও নিরাপদ নয়। কখন চাকার নিচে চাপা পড়ে সে শংকায় থাকতে হয় নিয়ত। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষকে চাকরি, ব্যবসাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে বাইরে বেরোতে হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের। পথে দুর্ঘটনার ভয় থাকলেও আল্লাহর উপর ভরসা করে একপ্রকার জানবাজী রেখেই কাজে যেতে হচ্ছে। কোন উপায় নেই।

অনেক চালক আছেন যারা ড্রাইভিং সিটে বসলে নিজেদেরকে কী মনে করেন বোঝা দায়। ‘যেভাবেই হোক অপর গাড়িকে ওভারটেক করে এগুতে হবে’- এমন মানসিকতা নিয়েই গাড়ি চালান। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন অনেক মানুষ। এবারের ঈদের এক সপ্তাহেই মারা গেছেন দেড় শতাধিক মানুষ। কেবল মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ২২/২৩ জন। বলা যায়, সড়ক দুর্ঘটনা এদেশে একটি মানবসৃষ্ট মহাদুর্যোগ, যা প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে কোন পক্ষ থেকেই কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেই। বিভিন্ন বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠন এ ‘দুর্যোগ’ থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করে থাকে। কিন্তু তা তেমন প্রভাব ফেলে না।

এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট সকলকে কার্যকর ও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে গাড়ি চালকদের মাঝে সচেতনতা তৈরির পদক্ষেপ নিতে হবে। দায়ী চালকদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। নিষিদ্ধ করতে হবে গাড়ি চালানোর সময় চালকদের মোবাইল ফোনে কথাবার্তা বলা।

মানুষ মারার পরও যখন দেখা যায় গাড়ি চালক সদর্পে ঘুরে বেড়ায় তখন ভয়টা আরো বেড়ে যায়। আইনে পরিবর্তন এনে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি ‘মৃত্যুদণ্ড’র বিধান রাখা উচিত। রাস্তায় যেন কোন ধরনের লক্কর-ঝক্কর মার্কা কিংবা দুর্বল ইঞ্জিনের যান চলাচল করতে না পারে সে ব্যাপারে কঠোর হতে হবে। নিয়ন্ত্রণ করতে হবে যানবাহনের বেপরোয়া গতি।

পাল্লা দিয়ে ‘ওভারটেকিং’ করা বন্ধ করতে হবে। চোখে ঘুম নিয়ে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকতে ড্রাইভারদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার সময় চালকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতাকে আমলে নিতে হবে। কোন অযোগ্য ও অদক্ষ চালক যেন লাইসেন্স না পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। দেশের বিভিন্ন সড়ক, মহাসড়কের পাশাপাশি স্টেশনগুলোকেও প্রশস্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। বৃষ্টি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মহাসড়কগুলোর সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।

একজন চালক কত মানুষের প্রাণ ‘হাতে নিয়ে’ রাস্তায় গাড়ি চালান। সেই মানুষগুলোর প্রতি চালকদের দরদ থাকা উচিত। যেভাবেই হোক একজন চালককে মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সম্ভব সবকিছুই করতে হবে। ‘সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য বেশি’ একথা চালকদের মাথায় রাখতে হবে। পাশাপাশি গাড়ি চালকদের উন্নত ও কার্যকর প্রশিক্ষণ প্রদানে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।

দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পাশাপাশি অসংখ্য মানুষ সারাজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করছে। সরকারি, বেসরকারি সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহন কর্তৃপক্ষকে নিহত ও আহত হওয়া পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। করতে হবে সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা।
আমরা সড়ক দুর্ঘটনামুক্ত একটি সুন্দর বাংলাদেশ চাই। সড়কে এই মৃত্যুর মিছিল কবে থামবে? আর কত প্রাণ ঝরবে? নিরীহ প্রাণের ক্ষয় আর চাই না।


আরো সংবাদ