স্মরণ : খান আতাউর রহমান

খান আতাউর রহমান। প্রখ্যাত গায়ক, গীতিকার, সুরকার, চলচ্চিত্র অভিনেতা ও পরিচালক। জন্ম ১৯২৮ সালের ১১ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলা রামকান্তপুর গ্রামে। ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ১৯৪৩ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৪৬ সালে তিনি আইএসসি পাস করেন। এরপর ভর্তি হন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে। তিনি ১৯৪৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি-তে ভর্তি হন। বিএসসি পরীক্ষা না দিয়েই ১৯৫০ সালে চাকরি নেন করাচিতে রেডিও পাকিস্তানে। এ সময় খ্যাতনামা উচ্চাঙ্গসঙ্গীতজ্ঞ ওস্তাদ জহুরী খানের কাছে সঙ্গীতে তালিম নেন। ১৯৫৩ সালে ভর্তি হন সিটি লিটারারি ইনস্টিটিউটের নাট্যকলা বিভাগে। একই বছর লন্ডনের পাকিস্তান স্টুডেন্টস ফেডারেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। ইউনেস্কোর বৃত্তি নিয়ে ১৯৫৪ সালে শিক্ষা সফরে হল্যান্ড গমন করেন। লন্ডনে ফিরে একটি কলেজে অঙ্ক ও ইংরেজির শিক্ষকতার পাশাপাশি বিভিন্ন থিয়েটার কোম্পানিতে প্রায় দুই বছর কাজ করেন। ১৯৫৬ সালে তিনি ঢাকায় ফিরে এ জে কারদারের জাগো হুয়া সাভেরা ছবির সাথে যুক্ত হয়ে ভারতের বিখ্যাত অভিনেত্রী তৃপ্তি মিত্রের বিপরীতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। তার রচিত ও সুরারোপিত পাঁচ শতাধিক আধুনিক, দেশাত্মবোধক, শিশুতোষ ও বিষয়ভিত্তিক গান আজো জনপ্রিয়। বিশেষত দেশাত্মবোধক সঙ্গীতে তার সুর সৃষ্টির ক্ষমতা ছিল অসাধারণ। খান আতাউর রহমান একটি বিশেষ গায়কী ঢং প্রবর্তন করেন। তার নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র অনেক দিনের চেনা (১৯৬৩)। এরপর তিনি রাজা সন্ন্যাসী, সিরাজউদ্দৌলা, সোয়ে নদীয়া জাগে পানি, সাত ভাই চম্পা, অরুণ বরুণ কিরণমালা, আবার তোরা মানুষ হ, সুজন সখী, আরশী নগর, এখনো অনেক রাত বিভিন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। ডানপিটে ছেলে, দু’টি পাতা একটি কুঁড়ি, গঙ্গা আমার গঙ্গা, বাংলা কবি জসীম উদ্দীন, চাবাগানের রোজনামচা ও গানের পাখি আব্বাসউদ্দীন ইত্যাদি স্বল্পদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন। অন্যদের বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে তিনি সঙ্গীত পরিচালক, কেন্দ্রীয় চরিত্র ও অভিনেতা হিসেবে কুশলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য তিনি পুরস্কার লাভ করেন। এর মধ্যে রয়েছেÑ পাকিস্তান চলচ্চিত্র উৎসব পুরস্কার, নিগার পুরস্কার, মস্কো ও তাসখন্দ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব পুরস্কার, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ১৯৯৭ সালের ১ ডিসেম্বর তিনি ইন্তেকাল করেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.