২৪ আগস্ট ২০১৯

‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে সরকার মিথ্যাচার করছে ’

-

বাংলাদেশ সরকার ও প্রশাসনের সমালোচনাকারী ব্রিটেনে অবস্থানরত বাংলাদেশী সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা বলেছেন, বাংলাদেশে আওয়ামী সরকার স্বৈরাচারী ভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য গণমাধ্যম ও মানুষের বাকস্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ করছে। অগণতান্ত্রিক ভাবে ও ভোটচুরির মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ করায় এ সরকার সমালোচনা সহ্য করতে পারছে না। সরকার জোরপূর্বক বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম বন্ধ করে দিলেও মিথ্যাচার করে বলছে, গণমাধ্যম স্বাধীন ভাবে কাজ করছে।

লন্ডনে দ্যা গ্লোবাল কনফারেন্স ফর মিডিয়া ফ্রিডম ২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের বাইরে এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন সাংবাদিকরা।

দ্যা গ্লোবাল কনফারেন্স ফর মিডিয়া ফ্রিডম ২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত দু’দিনব্যাপী লন্ডনের কনফরেন্সে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তথ্যমন্ত্রী, গণমাধ্যমের মালিক, সাংবাদিক, শিক্ষক ও সিভিল সোসাইটির নেতৃবৃন্দ অংশ নেয়।

যুক্তরাজ্য ও কানাডার যৌথ আয়োজনে ১০ ও ১১ জুলাই অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন দু’দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

সম্মেলনে চারটি মূল বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা। প্রথম দিনে আলোচ্য বিষয় ছিল : গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক ও অন্যান্য কর্মীরা গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট কাজে বাধার সম্মুখীন হলে তাদের রক্ষা করা। একই সাথে তারা অন্যায়ভাবে আটক হলে মুক্তির ব্যবস্থা করা। এছাড়া গণমাধ্যম বিষয়ে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও আইন কিভাবে কাজ করবে। দ্বিতীয় দিনে আলোচ্য হচ্ছে : জনগণের মাধ্যমে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানো এবং মিথ্যা তথ্য ও মিথ্যা প্রচারণাকে কিভাবে মোকাবেলা করা যাবে। আর টেকসই গণমাধ্যমের জন্য কি কি করা যায়।

সম্মেলনে বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন। এই সম্মেলনে উপস্থিতির কয়েকদিন আগে তিনি বিবিসির সাথে সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, যুক্তরাজ্যের চেয়ে বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বেশি। তার এই বক্তব্যের পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে সারা বিশ্বের বাংলাদেশী সাংবাদিকরা। বাংলাদেশে সরকারের সমালোচনাকারী সাংবাদিকরা তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে কোনো মানববন্ধন করতে পারেনি। তবে ব্রিটেনে অবস্থানকারী বাংলাদেশী সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা ওই সম্মেলন উপলক্ষে এবং তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে দু’দিনব্যাপী মানববন্ধনের আয়োজন করে।

বাংলাদেশী ভিকটিম জার্নালিস্ট ইন ইউকে’র মানববন্ধন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশ পরিচালনা করেন দৈনিক আমার দেশের সাবেক সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী মাহবুব আলী খানশূর। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দৈনিক মানবজমিনের পলিটিকাল রিপোর্টার কাফি কামাল, এশিয়ান বাংলার বিশেষ প্রতিনিধি ফরিদুল ইসলাম, মানবাধিকার কর্মী আবু তালেব, কাজী নুরুজ্জামান, নুসরাত জাহান সানি, মুহাম্মদ কবির হোসাইন, মোহাম্মদ তারেকুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।


আরো সংবাদ