২২ জানুয়ারি ২০২০
নিউ ইয়র্কে দোয়া ও স্মরণ সভায় বক্তারা

সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন দেশপ্রেমিক ও তৃণমূলের নেতা

নিউ ইয়র্কে দোয়া ও স্মরণ সভা - ছবি : নয়া দিগন্ত

তৃণমূল থেকে জাতীয় নেতায় পরিণত হয়েছিলেন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। দলীয় রাজনীতি করলেও তিনি দায়িত্ব পালনে রাজনীতির উর্ধ্বে উঠতে পেরেছিলেন। যার প্রমাণ দেশে ও বিদেশে তার বিশাল জানাজা।

সম্প্রতি নিউ ইয়র্কে আয়োজিত প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিক সমাজ আয়োজিত দোয়া ও স্মরণ সভায় এসব কথা বলেন প্রবাসের বিশিষ্ট নাগরিকরা। নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি পার্টি হলে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক ছাত্রনেতা আতিকুর রহমান সালু ও সঞ্চালনায় ছিলেন সাপ্তাহিক বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান।

গত রোববার বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে প্রিয় নেতাকে দোয়া ও স্মরণ করতে জ্যাকসন হাইটসে বেলাজিনো পার্টি হলে সমবেত হন প্রবাসের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। সর্বস্তরের প্রবাসী বাংলাদেশীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাদেক হোসেন খোকার কন্যা সারিকা সাদেক, খোকার বোন মাজেদা হোসেন, প্রবীণ সাংবাদিক মনজুর আহমদ, নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ঠিকানার প্রধান সম্পাদক মুহম্মদ ফজলুর রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক মঈনুদ্দীন নাসের, বাংলা পত্রিকার সম্পাদক আবু তাহের, সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নজমুল আহসান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শিল্পী বেবি নাজনীন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু, অধ্যাপক ড. শওকত আলী, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন খান, মাওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি আলী ইমাম শিকদার, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, প্রবাসী নাগরিক ফোরামের সমন্বয়ক মুক্তিযোদ্ধা ফরহাদ খন্দকার , এডভোকেট মজিবুর রহমান, বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী, বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী কাজী আশরাফ হোসেন নয়ন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ জসীম উদ্দিন ভুইয়া, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান ভুইয়া মিল্টন ভূইয়া প্রমূখ ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক, মানবতাবাদী এবং প্রকৃত দেশপ্রেমিক একজন নেতা। তার সাথে কারো তুলনা চলে না। তার তুলনা শুধু তিনি নিজেই। তারা আরো বলেন, সাদেক হোসেন খোকাকে হারিয়ে বাংলাদেশ একজন দেমপ্রেমিক এবং গণতান্ত্রিক নেতাকে হারালো। তিনি ছিলেন দলমতের উর্ধ্বে। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সড়ক নামকরণ করেছেন দলের উর্ধ্বে থেকে। এ ছাড়া তিনি সার্বজনীন নেতা ছিলেন। তার কাছে কেউ খালি হাতে ফিরে আসতে পারেননি। তিনি সব সময় দেশ এবং বাংলাদেশের মানুষের জন্য কাজ করেছেন।

কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগামীতে যেন কোন মুক্তিযোদ্ধাকে বাংলাদেশে ট্রাভেল ডমুমেন্ট নিয়ে যেতে না হয়। একজন মুক্তিযোদ্ধার নামে যেন রাজনৈতিক কারণে মিথ্যা মামলা দেয়া না হয় এবং প্রতিহিংসার বসবর্তী হয়ে সম্পত্তি কেড়ে নেয়া না হয়।

সারিকা সাদেক অনুষ্ঠানের আয়োজন করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রবাসী এবং বাংলাদেশীরা আমার বাবার প্রতি যে ভালবাসা দেখিয়েছেন সে জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। তবে সত্যি বলত কী- এখনো বিশ্বাস হয় না, আমার বাবা নেই। তাকে সব সময় ফিল করি। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

মাজেদা হোসেন বলেন, ছোট বেলা থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন আমার ছোট বেলা থেকেই সাথী। কখনো খেলার সাথী, কখনো বন্ধু। তার সাথে আমার অনেক স্মৃতি। সেগুলোতে বলে আর শেষ করা যাবে না। তবে প্রবাসী এবং দেশবাসী আমাদের যে সহযোগিতা করেছেন সে জন্য তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আলোচনা শেষে দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন জ্যামাইকা মুসলমি সেন্টারের ইমাম মাওলানা মির্জা আবু জাফর বেগ।

 


আরো সংবাদ