২৬ আগস্ট ২০১৯

কথা বলছে শাহীন, হাত-পা নাড়াতে পারছে না

হাসপাতালে শাহীন - ছবি : নয়া দিগন্ত

দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত যশোরের শাহীন শঙ্কামুক্ত। কিছুটা সেরেও উঠেছে এই কিশোর। কিন্তু শরীরের সব অংশ ঠিকভাবে কাজ করছে না তার। এগুলো ধীরে ধীরে ঠিক হবে বলে আশা করছেন চিকিৎসকরা। কিছু দিনের মধ্যেই তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হবে। এমনটিই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

শনিবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের ২০৩ নম্বর ওয়ার্ডে মা শাহীনের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন। পাশে দাড়িয়ে আছে ছোট বোন। খাবার শেষে আবার শুইয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে শাহীন শুতে চাচ্ছে না। বসে বসে কথা বলতে চায়; কিন্তু সাধারণ বেডে হেলান দিয়ে বসার সেই ব্যবস্থা না থাকায় বসতেও পারছে না। এইচডিইউ থেকে তা‌কে সাধারণ বে‌ডেই পাঠা‌নো হ‌য়ে‌ছে।

চেষ্টা করলেও ডানহাত আর ডান পা নাড়তে পারছে না শাহীন। বামহাত আর ডান পা নাড়াতে পারছে কিছুটা। শাহীন জানায়, সে ডান হাত আর ডান পায়ে কোন শক্তি পাচ্ছে না। সামান্য নাড়াচাড়াও করতে পারছে না।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক উজ্জ্বল কুমার জানান, শাহীন এখন অনেকটাই সুস্থ। মাথার অস্ত্রোপচারের স্থান শুকিয়ে গেছে। আঘাতের কারণে খুলির ভাঙা হাড়ের ছোট ছোট অংশ মস্তিষ্কে আঘাত করেছিল। সেসব অপসারণ করা হলেও ভাঙা হাড়ের জায়গা ফাকাই থেকে গেছে। তিন মাস পর সেখানে কৃত্রিম হাড় বসানো হবে।

তিনি বলেন, শাহীন ডান হাত ও ডান পায়ে শক্তি পাচ্ছে না। মস্তিষ্কে আঘাত হওয়ার কারণেই এমনটি হচ্ছে। এই অবস্থা পুরোপুরি কেটে উঠতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। যতো লোকজনের সাথে মিশবে তার ততোই উন্নতি হবে।

গত ২৮ জুন সাতক্ষীরায় দুর্বৃত্তরা শাহীনের ভ্যান ছিনতাইয়ের সময় তার মাথায় আঘাত করে ফেলে রেখে চলে যায়। শাহীনের বাড়ি যশোরের কেশবপুরে। সে গোলাঘাটা দাখিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। আর্থিক অনটনের সংসারে বাবার পাশাপাশি ছোট দুই বোন ও পরিবারের খরচ জোগাতে ভ্যান চালাতো সে।

শাহীনের মা জানায়, শাহীন এখন সব ধরণের খাবার খেতে পারছে। ডাক্তার বলেছে যতো সম্ভব ভাল খাবার দিতে। আর মেডিকেলে প্রতিদিন যে খাবার দেয় তা খেতে চায় না শাহীন। প্রতিদিন কোন না কোন খাবার বাহির থেকে এনে খাওয়ানো হচ্ছে। ফলমুলও খেতে দেয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, শাহীনের বাবা এখন অনেকটাই বেকার। দিনমজুরি ঠিক মতো পান না। পরিবারের খরচ ও কোর্ট কাচারিতে দৌড়াতে হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শাহীনের মা বলেন, শাহীনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবু হাসপাতালে যেসব মেডিসিন পাওয়া যায় না তা বাহির থেকে কিনতে হচ্ছে। শাহীনকে ভালমন্দ খাওয়ানোর ইচ্ছা থাকলেও টাকার অভাবে পারছি না।

শাহীনের খালু রবিউল বাশার জানান, প্রধানমন্ত্রী শাহীনের চিকিৎসার জন্য যা করেছেন তাতে আমরা তার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ থাকবো। শাহীন এখন অনেকটাই সুস্থ। ডাক্তার বলেছেন দু’এক মাসের চিকিৎসায় তার ডানহাত ও ডান পা ভাল হয়ে যাবে। তবে সে এখনো সব কথা ঠিকভাবে বলতে পারছে না। সবকিছু মনেও করতে পারছে না ঠিকমতো।

তিনি বলেন, পরিবারটির এখন আর্থিক সহযোগিতা দরকার। একমাত্র উপার্জক্ষম ব্যক্তি শাহীনের বাবা এখন ভ্যান হারিয়ে বেকার। দিনমজুরির কাজও মিয়মিত পান না। শাহীনের চিকিৎসার পারিপার্শ্বিক ব্যয়, দুই মেয়ের শিক্ষা ব্যয় সব মিলিয়ে লোকটি এখন বিপর্যস্থ।
তিনি জানান, সমাজের বিত্তবানেরা যদি এগিয়ে আসে তাহলে শাহীনের পরিবার আবার ঘুরে দাড়াতে পারবে।


আরো সংবাদ

জিয়া নিজেও বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছেন : কাদের সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাটের গাড়িতে হামলায় জড়িতরা শনাক্ত এবার ভুটানের সাথে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমঝোতায় যাচ্ছে বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়েই সৌদি আরবের ভুয়া ভিসাসহ আটক ২ মাউশিতে টেন্ডার নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ কাশ্মির সঙ্কট নিয়ে লেবার পার্টির গোলটেবিল বৈঠক আজ আরবান কো-অপারেটিভ ব্যাংক চেয়ারম্যানসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা আপন জুয়েলার্সের মালিকের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবেদন পুত্রবধূর নারাজি আবেদন সংবাদপত্র কর্মচারী ফেডারেশন : সভাপতি মতিউর মহাসচিব খায়রুল শুল্কমুক্ত সুবিধা না নিয়ে নৈতিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপনের আহ্বান টিআইবির খিলগাঁওয়ে অস্ত্রসহ ৪ ছিনতাইকারী গ্রেফতার

সকল