১৮ নভেম্বর ২০১৯

ডেঙ্গুতে আরো ৫ জনের মৃত্যু

ডেঙ্গু
ফরিদপুরে মৃত দেলোয়ার হোসেনের স্বজনের আহাজারী - ছবি : নয়া দিগন্ত

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, খুলনা ও জামালপুরে আরো পাঁচজনের মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে। রোববার বিকেল ও আজ সোমবার সকালে মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে। আমাদের সংবাদদাতাদের পাঠানো প্রতিবেদন :

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে একজনের মৃত্যু
ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম রাসেল মিয়া (৩৫)।

রোববার বিকেল পৌনে তিনটায় কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি ভর্তি হন এবং সন্ধ্যা ৬টার দিকে মারা যান। নিহত রাসেল কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার মঞ্জু মিয়ার ছেলে।

এর আগে গত শনিবার কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর ইটনা ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ফরহাদ হোসেনের মৃত্যু হয়। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা: এ বি মো: শামসুজ্জামান খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ঈদের পর থেকে কমতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ৩৫ জন ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ২৫ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৬২ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৮৯ জন। এ পর্যন্ত মারা গেছে দুই জন।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক লক্ষী নারায়ণ মজুমদার জানান, গত ২১ জুলাই থেকে রোববার পর্যন্ত ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৩৪ জন। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৪৪ জন।

ফরিদপুরে মসজিদের খাদেমের মৃত্যু
ফরিদপুর সংবাদদাতা জানান, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেখ মো: দেলোয়ার হোসেন (৩৫) নামে মসজিদের এক খাদেমের মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

দেলোয়ার হোসেন ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের গোলডাঙ্গীচর এলাকার শেখ শফিউদ্দিনের ছেলে। তিনি শহরের পূর্বখাবাসপুর মসজিদের খাদেম হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নিহত দেলোয়ারের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত চার দিন আগে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেলোয়ার ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়। গতকাল রোববার তাকে সদর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিলে সন্ধ্যার দিকে তিনি পূর্ব খাবাসপুরস্থ বাসায় যান। সেখানে রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক কামদা প্রসাদ সাহা বলেন, দেলোয়ার শেখ গত ১৮ আগস্ট ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতাল থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হন।

এদিকে, দেলোয়ার শেখকে দিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ছয় রোগীর মৃত্যু হলো। গত ২৪ ঘন্টায় ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৫৭ জন ভর্তি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ফরিদপুরের এ রোগে ভর্তি রয়েছে ৩৪৬ জন রোগী।

খুলনায় ডেঙ্গুতে পঞ্চম মৃত্যু
খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনায় ডেঙ্গুতে মিজানুর রহমান (৪০) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ৭টায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

মিজানুরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খুমেক হাসপাতালের আবাসিক ফিজিসিয়ান (আরপি) ডা: শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস।

এ নিয়ে খুলনায় ডেঙ্গুতে মোট পাঁচজনের মৃত্যু হলো।

মিজানুর রহমান ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে গত বৃহস্পতিবার খুমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

মৃত মিজানুর পেশায় সবজিবিক্রেতা ছিলেন। তার বাড়ি রূপসা উপজেলার খাঁজাডাঙ্গা গ্রামে। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

খুলনার সিভিল সার্জন ডা.এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, খুলনায় সোমবার পর্যন্ত ৫৭৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৮৯ জন এবং সোমবার ভর্তি হয়েছে ২০ জন। বাকিরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

জামালপুরে ২ জনের মৃত্যুর দাবি পরিবারের
জামালপুর সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে জামালপুর শহরের হাটচন্দ্র এলাকার হামিদুল ইসলাম রাজু (৩৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং একই হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরার পর জেলার দেওয়ানগঞ্জের বৃষ্টি আক্তার (২৫) নামে এক গার্মেন্টসকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।

রোববার ভোরে ও দুপুরে এ মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে। ডেঙ্গু রোগে হামিদুল ইসলাম রাজু ও বৃষ্টি আক্তার মারা গেছেন বলে দাবি করেছেন উভয় পরিবারের স্বজনরা। তবে কোনো চিকিৎসক তা নিশ্চিত করেননি।

হামিদুল ইসলাম রাজু জামালপুর শহরের হাটচন্দ্রা উত্তরপাড়া এলাকার ইকবাল হোসেনের ছেলে এবং রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন। অন্যদিকে বৃষ্টি আক্তার জেলার দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার চিকাজানী আকন্দপাড়া গ্রামের লাল মিয়ার মেয়ে এবং ঢাকায় একটি গার্মেন্টে কাজ করতেন।

মৃত হামিদুল ইসলাম রাজুর খালাতো ভাই সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, রাজু জ্বরে আক্রান্ত হলে শনিবার তাকে স্থানীয় নকিব উদ্দিন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হলে ওই দিনই তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরে ওই রাতে রাজুকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করানো হয়। রোববার দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

মৃত গার্মেন্টসকর্মী বৃষ্টি আক্তারের মা ছমিনা বেগম জানিয়েছেন, বৃষ্টি ঢাকায় জ্বরে আক্রান্ত হলে ১০ আগস্ট তাকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরদিন দেওয়ানগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বৃষ্টির ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওইদিনই তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসা শেষে গত শনিবার রাতে তাকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়। রোববার ভোর ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাক্তার প্রফুল্ল কুমার সাহা বলেন, ‘শহরের চন্দ্রার হামিদুল শনিবার রাতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন কিনা তা জানা নেই। রোগীর অবস্থা খারাপ হলে অনেক সময় জরুরি বিভাগ থেকেই রোগীর স্বজনরা ময়মনসিংহে নেন।’

জামালপুরের সিভিল সার্জন ডাক্তার গৌতম রায় বলেন, ‘বৃষ্টি নামে এক নারীর ডেঙ্গু জ্বর শনাক্ত হয়েছিল। স্বজনরা তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি না করিয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তার মৃত্যুর পর স্বজনরা সেখানকার ছাড়পত্র দেখাতে পারেননি। হয়তো সেখান থেকে না বলে চলে এসেছেন।’


আরো সংবাদ