১৮ অক্টোবর ২০১৯
মেয়ের সন্ধান চেয়ে বাবার থানায় জিডি

‘জিন’ নিয়েছে মাদ্রাসা ছাত্রীকে!

‘জিন’ নিয়েছে মাদ্রাসা ছাত্রীকে! - ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীর একটি মাদ্রাসা থেকে সাজমিন আক্তার (১৩) নামে একছাত্রী নিখোঁজ হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট সে নিখোঁজ হয়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বলছে, মেয়েটিকে জিন নিয়ে গেছে। মেয়েটির পরিবার বলছে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তার মেয়েকে গুম করেছে। বুধবার সকালে মেয়ের সন্ধান চেয়ে বাবা মো. শরিফ উল্লা এবং মা শিল্পী আক্তার রাজধানীর সেগুনবাগিচায়বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র‌্যাব) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এ সময় তারা একমাত্র মেয়েকে উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাজমিনের মা শিল্পী আক্তার বলেন,গত চার বছর ধরে আমার মেয়ে পল্লবীর বাউনিয়াবাদ জামিয়া ফোরকানিয়া তালিমিয়া মহিলা মাদ্রাসায় পড়ছে। সে খুছুছি জামায়াত বা ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ২৭ আগস্ট তাকে মাদ্রাসায় দিয়ে আসি। ৩১ আগস্ট মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ফোন করে জানায়, সাজমিনকে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর আমি মাদ্রাসায় গেলে নিরাপত্তাকর্মী বলে, আপনার মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর আমি মাদ্রাসার হুজুর ও আপাকে ফোন দেই। তারা একেক সময় একেক কথা বলছেন।

তিনি আরো বলেন, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ প্রথমে বলে, গেটে বাবার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে সাজমিন আর আসেনি। আবার জানায়, আমার মেয়ের সঙ্গে জিন আছে। তাকে জিনে নিয়ে গেছে। আবার বলে সে অসুস্থ। মাথা ঘুরে সিঁড়িতে পড়ে গেছে। এভাবে তারা একেকবার একেক তথ্য দিচ্ছেন। কোনও নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারছে না।পরে এ বিষয়ে ১ সেপ্টেম্বর পল্লবী থানায় একটি জিডি করি। কিন্তু পুলিশ আজ পর্যন্ত মেয়েটির সন্ধান দিতে পারেনি। এর মধ্যে কয়েকটি নম্বর থেকে পুলিশ পরিচয়ে আমার কাছে টাকা চাওয়া হয়েছে।

সাজমিনের বাবা মো. শরিফ উল্লাহ বলেন, মাদ্রাসায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল বলে মেয়েকে সেখানে পড়তে দিয়েছি। আমরা দেখা করতে গেলেও ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হতো। মাদ্রাসায় সিসিটিভি রয়েছে। নিরাপত্তাকর্মী রয়েছে। রয়েছে শিক্ষকদের নজরদারী। সেখান থেকে অনুমতি ছাড়া কেউ বের হতে পারে না। এমনকি বাবা-মা ছাড়া কারো সঙ্গে দেখাও করতে দেয় না। এত কিছুর পরও আমার মেয়ে কিভাবে নিখোঁজ হয়। সাজমিন আমাদের একমাত্র মেয়ে। আমরা তাকে ফেরত চাই।

জানা গেছে, মিরপুর-১ নম্বর শাহ আলীবাগের ১ নম্বর রোডের একটি বাড়িতে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতেন সাজমিন আক্তার। সাজমিনের বাবা মো. শরিফ উল্লা ইলেকট্রিক মিস্ত্রি এবং মা শিল্পী আক্তার একজন গার্মেন্টস কর্মী। তাদের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর কবিরহাটে। সাজমিন গ্রামের বাড়িতে প্রাইমারী স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়াও করেছে। এরপর মেয়েকে নিয়ে বাবা-মা ঢাকায় আসেন। শান্তশিষ্ট ও বিনয়ি স্বভাবের সাজমিনকে গত চার বছর আগে ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক মাসুদ আকবর বলেন, মেয়েটি নিখোঁজের সময় আমাদের প্রিন্সিপাল হজে ছিলেন। সিসি ক্যামেরা মনিটরিং তার কক্ষ থেকে করা হয়। রুম পরিষ্কার করতে গিয়ে ক্লিনাররা সিসি ক্যামেরার স্যুইচ অফ করে রাখে। তাই সিসি ক্যামেরায় কিছু ধরা পড়েনি। তবে ঘটনার দিন সকালে একজন ম্যাডাম তাকে গেট থেকে বের হতে দেখছে। তখন সে তার বাবার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি বলে বের হয়ে যায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ রয়েছে। জিনের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেয়েটির সহপাঠীরা বলছে সে অসুস্থ ছিল।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা ঘটনার পর মেয়েটিকে উদ্ধারে কাজ করছি। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আমরাও বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি। তবে এখনও তেমন কোনও আপডেট নেই। 


আরো সংবাদ