১৪ অক্টোবর ২০১৯

কী হলো আষাঢ়ের

-

আষাঢ় মাস চলছে। গগন গর্জে উঠার কথা। যদিও আষাঢ় মাসে তেমন বর্ষে না। তবুও কিছুটা মেঘাচ্ছন্নের সাথে বৃষ্টি থাকার কথা! অথচ বৃষ্টি যেন আমাদের সাথে লুকোচুরি খেলা শুরু করে দিয়েছে! এদিকে গরমের তাপে মানুষ হাঁসফাঁস করছে। আষাঢ়ের সেই চিরচারিত রূপ এখন দেখা যাচ্ছে না! তাই মনে প্রশ্ন জাগে, ‘কী হলো আজ আষাঢ়ের’?
অথচ আষাঢ় এলেই মনে বেজে উঠে কবিগুরুর সেই কবিতা ‘নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে তিল ঠাঁই আর নাহি রে
ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।
বাদলের ধারা ঝরে ঝরঝর,
আউশের খেত জলে ভরভর,
কালি-মাখা মেঘে ওপারে আঁধার ঘনিয়েছে দেখ চাহিরে।
ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে’।
আষাঢ়ে মানে হচ্ছে কাল্পনিক কিছু। অর্থাৎ আষাঢ় মাসে আকাশ যেভাবে গুড়ুম গুড়ুম করে গর্জে উঠে ভয় দেখায়, ঠিক সেভাবে বর্ষে না। আবার মাঝে মধ্যে ঝরা শুরু হলে থামতেও চায় না। আষাঢ় মাসে অনেকেই আষাঢ়ে গল্প করতে ভালোবাসেন। আষাঢ় মাসের মেঘাচ্ছন্ন পরিবেশে ভুনা খিচুড়ি খাওয়ার ধুম বেশ জমে ওঠে। আষাঢ় মাসে আমাদের প্রকৃতি খুব ঝরঝরে হয়ে ওঠে। গাছগাছালিতে প্রচুর নবপল্লব সেজে উঠতে দেখা যায়। মৎস্য শিকারিরা হাঁটুপানিতে মাছ শিকারের নেশায় ছুটে যায়। আষাঢ় মাস ঝড়ের মাস না হলেও মাঝে মধ্যে দমকা হাওয়াসহ ঝড়োবাতাস বয়ে যাওয়া আষাঢ়ের ধর্ম। আকাশে গুড়ুম গুড়ুম করা আষাঢ়ের স্বভাব। নদী-নালা, পুকুর-ডোবা, খাল-বিল এ মাসে পানিতে ভরে ওঠে। আষাঢ়-শ্রাবণে গাছ লাগানোর জন্য সবচেয়ে উৎকৃষ্ট সময়। গাছে গাছে অপরূপা করে সাজিয়ে দিই এই বৃষ্টির মেলায়। কাজে লাগিয়ে নিই ঋতুর এই বিচিত্রতাকে! ফিরে আসুক আষাঢ় নিজের রূপে এখনো সে আশায় আছি।
পূর্ব শিলুয়া, ছাগলনাইয়া, ফেনী।


আরো সংবাদ