২১ অক্টোবর ২০১৯

  পা দিয়ে ছবি আঁকে মোনায়েম

-

দুই হাত ছাড়া জন্মগ্রহণ করলেও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আটকাতে পারেনি ফেনীর দাগনভূঞা একাডেমির তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র আবদুল্লাহ আল মোনায়েমকে। তার ইচ্ছাশক্তি দিয়ে ক্লাসের মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। অর্জন করেছে একের পর এক পুরস্কার।
জানা যায়, দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের এনায়েতনগর গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে মোনায়েম জন্মের পর দুই হাত না থাকায় মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদের মন খারাপ হয়। বাড়তি পরিশ্রম করে আদর-¯েœহ দিয়ে বড় করে তোলেন তার মা বিবি কুলসুম। ছয় বছর বয়সে ভর্তি করান স্কুলে। এরপর থেকেই সে ভালো ফলাফল করতে থাকে। পা দিয়ে প্রতিদিনের পড়া খাতায় নোট করে। দুই ভাইয়ের মধ্যে মোনায়েম বড়। অন্য সবার মতো তার সহপাঠী, শিক্ষক-শিক্ষিকারা তাকে আদর করেন। পড়ালেখার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায়ও অংশগ্রহণ করে সে। চিত্রাঙ্কনে আগ্রহ দেখে তার মা তাকে দাগনভূঞার উজ্জীবক আর্ট স্কুলে ভর্তি করান। জেলা ও উপজেলায় সেরা পুরস্কার লাভ করে জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হয়েছে সে।
শিশু মোনায়েম জানায়, এমন সাফল্যে খুশি তার পরিবার। বড় হয়ে সে ইঞ্জিনিয়ার হবে, এমন স্বপ্ন সব সময় মনে লালন করছে।
মোনায়েমের মা বিবি কুলসুম জানান, সে ৭ মার্চ ও ২৬ মার্চ উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় জেলায় দ্বিতীয় হয়েছে, মাতৃভাষা দিবস ও বিজয় দিবসে উপজেলা পর্যায়ে দ্বিতীয় হয়েছে এবং বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলা আয়োজিত জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। তিনি মোনায়েমের সফলতায় সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।
উজ্জীবক আর্ট স্কুলের পরিচালক গিয়াস উদ্দিন বলেন, শিশু মোনায়েমকে পা দিয়ে চিত্রাঙ্কনের প্রশিক্ষণ প্রদান করি। তার ইচ্ছাশক্তি তাকে আরো অনেক দূর নিয়ে যাবে বলে আশা করি।
একাডেমির প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, পড়ালেখায় মনোযোগী হওয়ায় শিক্ষকেরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করেন।
দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম ভূঞা বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে মোনায়েম উচ্চতর পড়া শেষ করে কর্মক্ষেত্রে সফল হবে, এমন প্রত্যাশা সবার। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোনো বাধা নয়, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মোনায়েম।


আরো সংবাদ