২১ নভেম্বর ২০১৯

শিক্ষক

জীবনের বাঁকে বাঁকে
-


জীবনে কিছু অর্জন করতে গেলে হয়তো অর্জিত কিছু জিনিসের কাছেই ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। হোক সেটা মন্দ, হোক না সেটা জীবনের সবচেয়ে ভালো কিছু। যখন কোনো এক ভোরে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে দেখি স্কুলের সেই পুরনো বাসটা আমার পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে, তখন কোনো এক তীব্র বেদনা মনে ধাক্কা দেয়। আবার হঠাৎ কোনো একদিন কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পর ছোট ভাই ঘুমুতে যাওয়ার সময় যখন বলে উঠে, ‘ভাইয়া আজ স্যার তোমার কথা জিজ্ঞেস করেছে আর ক্লাসের সবার কাছে তোমার তারিফ করেছে।’ আমি ভাবতে থাকি, আমি তো স্যারদের চোখে স্কুলের তেমন ভালো বিশেষত্বপূর্ণ ছাত্র ছিলাম না। ক্লাসের দুষ্টদের মধ্যে অন্যতম ছিলাম। স্যারদের খুব জ্বালাতাম। ভাবতে ভাবতে চোখ বেয়ে দুই ফোঁটা পানি নিচে গড়িয়ে পড়ে। সেই মুহূর্তটায় নিজেকে পৃথিবীর সুখী মানুষদের একজন মনে হয়। মাঝে মধ্যে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে আমার পাগুলোর দিকে তাকাই। একসময় এই পায়ে ছিল এক জোড়া কেডস। আজ কালো সু, কতই না পৃথিবীটা বদলে গেছে মনে হয়। আজ ছোট পায়ের ছাপগুলো বড় পায়ের পদক্ষেপে পরিণত। ছোটবেলা থেকেই বাবাকে দেখে ভিন্ন কিছু শিখেছি যা অন্য কারো কাছ থেকে শিখতে পারিনি। মাঝে মধ্যে আবার আমার কাজে খুশি হয়ে যখন ম্যানেজার কর্মস্থলে সবার কাছে আমার প্রশংসা করে, তখন মনে পড়ে পৃথিবীর সব শিক্ষকের কথা। যাদের কাছ থেকে জীবনের প্রায় অর্ধেকটাই শিখেছি। মনে পরে বাবার কথা মনে পরে স্কুল-কলেজের সেই শিক্ষকদের কথা। যারা আমার এই ছোট পায়ের ছাপগুলোকে বড় পায়ের পদক্ষেপে পরিণত করার পথ দেখিয়েছে।

 


আরো সংবাদ