১৫ নভেম্বর ২০১৯

ছেলেবেলা

-

আমি যখন ক্লাস টুতে পড়তাম, তখন আমার স্কুলের দোতলায় যেতে ভীষণ ভয় করত। বাবা গিয়ে দিয়ে আসত। যদিও কাজটি করার দায়িত্ব মায়ের, কিন্তু দায়িত্বটি পালন করত বাবা। বাবার অফিস ছিল ভোর ৫টায়। আমার স্কুল সকাল ৮টায়। বাবার অফিসের জন্য আমাকেও ভোরে উঠতে হতো। বাবার সাথে ভোরের ঠাণ্ডা বাতাসে অফিসের গেটে বসে থাকতাম। নিশ্চুপ একটা শহর। কোনো শোরগোল নেই। আমি বাবার পাশে চুপটি মেরে বসে থাকতাম, বাবার সাথের সহকর্মীরা আমাকে এটা-সেটা জিজ্ঞেস করে দুষ্টুমি করত আর বাবা আমার বোকা হয়ে যাওয়া চেহারা দেখে মিটিমিটি হেসে আনন্দ পেত। আবার কোনো কোনো দিন বাবা ও আমি নিঃশব্দে বসেও থাকতাম। একদিন বাবার গাড়িতেই বসে রইলাম। আমি বললাম, বাবা বের হবে না? বাবা বলল, না মা ভালো লাগছে না। দু’জন নিঃশব্দে বসে রইলাম গাড়িতে। বেশির ভাগ সময়ই বাবা আর আমি সবার আগে গিয়ে হাজির থাকতাম। কতক্ষণ হাঁটতাম, কতক্ষণ বসতাম। আমি বসে থাকতেই বেশি ভালোবাসতাম। কিন্তু বাবা বলত, হাঁটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। চলো হাঁটি। বাবা-মেয়ে মিলে হাঁটা ধরতাম। সার্কেলের মতো একবার পুরো অফিসটির চারপাশ হাঁটতাম। এসে দেখতাম গেট খুলে গেছে। তাড়াহুড়া করে বাবা কার্ড পাঞ্চ করত, তারপর আমাকে স্কুলে দিয়ে আসত। বাবার দেরি হয়ে যেত খুব। তারপরও বাবা দোতলায় উঠে আমার বসার জায়গা গুছিয়ে দিত। আমি যদি বলতামÑ বাবা, এই টেবিলটা ভালো লাগছে না। বাবা বিরক্ত হতো না। পেছন সারি থেকে টেবিল এনে বদল করে দিত। একবার এক ভয়াবহ অবস্থা। এক আন্টি বাবাকে দেখে ফেলেছে। অবস্থা ভয়াবহ এ জন্য যে মেয়েদের স্কুলে মহিলা ছাড়া কোনো পুরুষ অ্যালাও নয়। বাবা তো দিলো জিহ্বায় কামড়। বললÑ মারে; মহিলা তো দেখে ফেলল আমাকে, এখন তো প্রিন্সিপালের কাছে নালিশ দেবে যে, আমি স্কুলে ঢুকে দোতলা পর্যন্ত যাই। আমি বললাম, বাবা এত ভয় পাচ্ছ কেন... প্রিন্সিপাল স্যার না তোমার বন্ধু? বাবা বলল, তা-ও ঠিক। কিন্তু স্কুলের কিছু নিয়ম-কানুন আছে তো, তাই না। কয়েক দিন পর দেখা গেল, ঠিকই মহিলা নালিশ করেছে। বাবাকে প্রিন্সিপাল স্যারের রুমে ডাকা হয়েছে। অবশ্য কিছু হয়নি। প্রিন্সিপাল বাবাকে দেখে অবাক। হেসে বললেনÑ আপনিই তাহলে সেই লোক, মেয়েকে দোতলা পর্যন্ত দিয়ে আসেন। অবশেষে প্রিন্সিপাল স্যার বাবাকে অনুমতি দিলেন। এরপর থেকে প্রতিদিন সেই আন্টি বাবাকে দোতলায় উঠতে দেখেন। মহিলা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকেন। আমি মিটিমিটি হাসি। আর বাবার হাত ধরে ক্লাসে যাই।
সময়ের সাথে সাথে অনেক বড় হয়ে গেছি। আর বাবার অফিসেও যাওয়া হয় না। বাবার সাথে বসে অফিসের গেট খোলার অপেক্ষাও করা হয় না। আজ বাবাকে ছাড়াই কলেজে যাই। বাবাকে ছাড়াই রাত করে বাসায় ফিরি। এখন আর আগের মতো ভয় হয় না। কিন্তু যখন গভীর রাত হয়, হঠাৎ মাথায় এক চিন্তা এসে নাড়া দেয়, ভয় হয় বাবাকে ছাড়া একলা চলার।


আরো সংবাদ

আগুন নেভাতে সাহসী ভূমিকা রাখা ১৬ ব্যক্তিকে সংবর্ধনা দিলো হোটেল কস্তুরি ঘুষ সন্ত্রাস মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বাংলাদেশ-নেপাল যোগাযোগ ও বাণিজ্য বাড়ানোর পরামর্শ রাষ্ট্রপতির মেহেদির রঙ মুছতে না মুছতেই... সর্বদা আল্লাহর জিকিরে থাকতে হবে : আল্লামা শফী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ, তাকে জামিনে মুক্তি দিন রোহিঙ্গা নিপীড়নের অভিযোগ তদন্তের আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক আদালত ৩০ বছর পর সগিরা হত্যার রহস্য উদঘাটন : চার আসামি গ্রেফতার ট্রেন দুর্ঘটনার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র থাকলে সরকার খতিয়ে দেখবে : প্রধানমন্ত্রী অর্থমন্ত্রীর পরিবারের আয়কর ৭ কোটি ৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা না’গঞ্জে আদালত চত্বরে বাদি ও আসামিপক্ষের মারামারি

সকল