২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা

-

মাসব্যাপী শুরু হয়েছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা ২০২০। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ১ জানুয়ারি সকাল ১০টায় ২৫তম বাণিজ্যমেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৩২ একর জমির ওপর সুবিন্যাসের মাধ্যমে আয়োজন করা হয়েছে এবারের মেলা। মেলার গেট করা হয়েছে জাতীয় স্মৃতিসৌধের আদলে আর স্মৃতিসৌধের উপরে বসানো হয়েছে পদ্মা সেতুর সাদৃশ্য স্প্যান। এবার মেলায় স্টলের সংখ্যা কমিয়ে দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত জায়গা। এবার স্টলের সংখ্যা কমিয়ে ৪৮৩ করা হয়েছে। গত বছর স্টল ছিল ৬৩০টি। দেশী বিদেশী হরেক রকম বিপুল পণ্যের সমারোহ ঘটায় গৃহসজ্জার পণ্য থেকে শুরু করে আসবাব, ইলেকট্রনিকস পণ্য, ক্রোকারিজ সামগ্রী, প্লাস্টিক সামগ্রী, শিশু খেলনা, জুতা, স্যান্ডেল, পোশাক, গয়না, ফেব্রিক্স, শাড়ি, কসমেটিক্সসহ অন্যান্য জিনিসপত্রের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পণ্যসামগ্রী ক্রয় করতে মেলায় আসেন ক্রেতারা। তাই প্রতিদিন মেলায় সমাগম ঘটে থাকে সব বয়সের মানুষের। ঘর গৃহস্থালির পণ্যসামগ্রী কেনার জন্য এ মেলা গৃহিণীদের কাছে খুবই আকর্ষণীয়। গৃহিণীরা প্রয়োজনীর জিনিসপত্রের জন্য অধীর আগ্রহে অপেÿা করেন। তাই সাজসজ্জার চেয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় তৈজসপত্রের খোঁজে মেলার আসেন তারা।
প্রতি বছরের মতো এবারো দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে প্যাভিলিয়নগুলো নান্দনিকভাবে সাজানো হয়েছে। প্যাভিলিয়ন ও মিনি প্যাভিলিয়ন বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে, যাতে দর্শনার্থীরা মেলার প্রবেশের সাথে সাথে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। কারুশিল্পের দোকানগুলোর নির্মাণে বাঁশ ও বেতের কারুকাজ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। দেশীয় ÿুদ্র ও কুটির শিল্পের স্টলগুলোতে নান্দনিকতার কমতি নেই।
মেলায় অন্য দিনগুলোর তুলনায় সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে থাকে ক্রেতা দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। তবে জুয়েলারি, মেয়েদের পোশাক ও শিশু খেলনা, প্লাস্টিক পণ্য ও ক্রোকারিজের দোকানে নারী ক্রেতাদের আনাগোনায় মেলা প্রাঙ্গণ মুখরিত থাকে প্রতিদিন দুপুরের পর থেকেই। মেলার ১৩তম দিন সোমবার বিকেলে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতা দর্শনার্থীদের ভিড় থাকলেও বেচাবিক্রি ছিল তুলনামূলক কম। বিক্রেতারা বলেন, কয়েক বছর ধরে বাণিজ্যমেলায় বেচাবিক্রি কমে গেছে। সর্বাধিক ছাড়ের জন্য মেলার শেষে দিকে ভিড় করেন সবাই। এ বছর মেলায় বিদেশী পণ্য নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে ভারত, পাকি¯Íান, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দÿিণ কোরিয়া, চীন, হংকং, থাইল্যান্ড, ইরান, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া ও মরিশাস। বিদেশী স্টল থেকে মেয়েদের সাজসজ্জার জিনিসপত্র কেনাকাটা করায় নারী ক্রেতাদের ভিড় লÿণীয়। শীতের তীব্রতা উপেÿা করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মেলায় আসছেন শৌখিন মানুষ। শীতপোশাক কিনতে অনেকে আসছেন এবারের মেলায়। ছেলেদের প্লেজার, কটি ও মাফলারে মূল্য হ্রাস দেয়ার খবরে অনেকে মেলায় এসে পছন্দের পণ্য কিনছেন। ইলেকট্রনিকস পণ্যে বিপুল সমাহার। রেফ্রিজারেটর, এয়ারকুলার, এয়ারকন্ডিশনার, ওয়াশিং মেশিন, স্মার্টফোন, স্মার্ট এলইডি টেলিভিশন, মাইক্রোওভেন, বেøন্ডারসহ অন্যান্য সামগ্রীতে চলছে ১০ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়। যমুনা ইলেকট্রনিকসের এক বিপণন কর্মকর্তা জানান, প্রতিদিনের বিক্রির ওপর থাকছে লটারি আর লটারিতে জিতে নিচ্ছেন লÿাধিক টাকার পণ্য। এ ছাড়াও মেলা থেকে যমুনার যেকোনো পণ্য কিনলে নিজস্ব পরিবহনে বাসায় পৌঁছে দেয়া হচ্ছে পণ্যটি। আর সাথে ডিসকাউন্ট তো থাকছেই! কথা হয় একজন ক্রেতার সাথে। তিনি জানান, এক দিকে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা; অন্য দিকে নান্দনিক সব জিডাইনের কারণে মেলায় আসা। গত বছর থেকেই শিশু ও বড়দের জন্য খোলা হয়েছে আলাদা কর্নার। যেখানে দর্শনার্থীরা কেনাকাটার পাশাপাশি পরিবার পরিজন নিয়ে বেশ ভালোভাবেই সময় কাটাতে পারেন। খাবারের দোকানগুলোতে মিলছে সব ধরনের খাবার।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তিন সন্তান নিয়ে মেলায় এসেছিলেন ইউসুফ শরীফ। তিনি জানান, কয়েক বছর ধরে নিয়মিত শিশুদের নিয়ে মেলায় আসা হয়। স্কুলের উপকরণসহ অন্যান্য শখের জিনিসপত্র ওদের পছন্দমতো কেনাকাটা এ মেলা থেকেই করা হয়। পাশাপাশি মেলায় এসে মানুষের ভিড়ে ওরা আনন্দে মেতে ওঠে। ক্রোকারিজের প্রতিটি দোকানেই একটি পণ্য কিননে ফ্রি দিচ্ছেন একাধিক আইটেম। এ ছাড়া কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান ১০ থেকে ৩০ শতাংশ নগদ মূল্যছাড় দেয়ায় ক্রেতারা লুফে নিচ্ছেন পণ্যসামগ্রী।
এবারের বাণিজ্যমেলার প্রধান প্রবেশদ্বার নির্মাণ করা হয়েছে মেট্রোরেলের আদলে। মেলায় বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন, ফ্লাওয়ার গার্ডেন, ই-শপ, শিশুপার্ক, প্রাইমারি হেলথ সেন্টার, মা ও শিশুকেন্দ্র, রক্ত সংগ্রহ কেন্দ্রসহ ৩২ ধরনের সেবা চালু রয়েছে। প্রতিদিন মেলা খোলা থাকছে সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।

 


আরো সংবাদ