১৯ জুন ২০১৯

এবার সরকারি কর্মচারীরা সুদমুক্ত ৩০ লাখ টাকা গৃহঋণ চেয়েছেন

এবার সরকারি কর্মচারীরা সুদমুক্ত ৩০ লাখ টাকা গৃহঋণ চেয়েছেন - সংগৃহীত

এবার সরকারি কর্মচারীরা বিনা সুদে ৩০ লাখ টাকা গৃহঋণ চেয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, এই ঋণ তারা ২০ বছরে পরিশোধ করবেন এবং ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে বয়সের কোনো বাধাও থাকবে না। সরকারি কর্মচারীরা বলেছেন, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল করে দেয়ার পর থেকে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে তারা বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি ৫ ভাগের পরিবর্তে ২০ ভাগেরও দাবি জানিয়েছেন। 
বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ অর্থসচিব বরাবর এই দাবিগুলো গতকাল উপস্থাপন করেছে। 

পরিষদের বক্তব্য হচ্ছেÑ টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড তাদের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তার পরিবর্তে ৫ ভাগ হারে বেতন বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে চতুর্থ শ্রেণী, তৃতীয় শ্রেণী ও দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মচারীরা ভীষণভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, ‘২০তম গ্রেডে বর্তমান জাতীয় পে-স্কেলে (৮২৫০-২০০১০)= ৮২৫০ টাকা’র ৫% মোট বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি পায় ৪১২ টাকা। অপর দিকে, একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বেতন বৃদ্ধি পায় ৪ হাজার টাকা। এটি সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি শুভঙ্করের ফাঁকি বলে ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন। তাদের যুক্তি সরকারি নিম্নবেতনভুক্ত কর্মচারীদের আগের মতো যদি ইনক্রিমেন্ট, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড দেয়া হতো তা হলে তারা এরচেয়ে অনেক বেশি উপকৃত হতেন। 

আবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান বাজারের ঊর্ধ্বগতি থামানো যাচ্ছে না। দিন দিন চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়েই চলেছে। তাই এ পরিস্থিতিতে আমাদের যদি টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড না দেয়া হয় তা হলে ৫ ভাগের পরিবর্তে ২০ ভাগ মূল বেতনের সাথে যোগ করার অনুরোধ করছি। 

একই সাথে পেনশন ভাতা শতকরা ২৩০ এর পরিবর্তে ৩০০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। কারণ বর্তমানে পেনশন ভাতা অর্ধেক সরকারের কাছে সমর্পণের বিধান রাখা হয়েছে। কেউ যদি ২০ লাখ টাকা পেনশনভাতা পান তবে সে ক্ষেত্রে তাকে ১০ লাখ টাকা সরকারের কাছে সমর্পণ করতে হবে। বাকি ১০ লাখ টাকা দিয়ে একটি মুদিদোকান খোলাও সম্ভব নয় বলে কর্মচারী ঐক্য পরিষদ উল্লেখ করেছে। তাই আগের মতো পুরো পেনশনভাতা উত্তোলনের সুযোগ চেয়েছেন তারা। 

ঐক্য পরিষদ আবেদনে বলেছে, বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাংকের মাধ্যমে ৫ শতাংশ সরল সুদে গৃহনির্মাণ ঋণ দেয়ার সুযোগ করা হয়েছে। সেখানে আমরা কর্মচারীরা এ সুবিধ থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছি। একজন কর্মচারী যদি ৪০ লাখ টাকা গৃহনির্মাণ ঋণ গ্রহণ করেন তাহলে তাকে প্রতি মাসে ১৮ হাজার টাকা কিস্তি গুনতে হবে। একজন কর্মচারীর চাকরি ৫ বছর পূর্ণ হলে তার আনুমানিক মূল বেতন ১০ হাজার ৫০০ টাকা দাঁড়াবে এবং সর্বসাকুল্যে তিনি ১৮ হাজার টাকা বেতন পাবেন। সে ক্ষেত্রে গৃহনির্মাণ ঋণ বাবদ ব্যাংক তার কাছ থেকে কত টাকা কর্তন করবে তা আমাদের বোধগম্য নয়।
বলা হয়েছে, আমরা ধরে নিতে পারি গৃহনির্মাণ ঋণের জন্য ব্যাংকগুলো আমাদের কাছ থেকে ১৮ হাজার টাকা কর্তন করবে। এরপর আর কোনো বেতন উত্তোলন করতে পারব না। তা হলে আমরা আমাদের সংসারের ব্যয় কিভাবে নির্বাহ করব? এরপরও আমাদের পক্ষে গৃহনির্মাণ ঋণ নিলে তা পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। ফলে কর্মচারীরা গৃহনির্মাণ ঋণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এর আগে, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যেমন গাড়ি কেনার জন্য সুদবিহীন ৩০ লাখ টাকার ঋণ নিয়েছেন। এখন সরকারি কর্মচারীদেরও একইভাবে সুদবিহীন ৩০ লাখ টাকা গৃহনির্মাণ ঋণ দেয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি, যা আমরা ২০ বছরে পরিশোধ করব। এ ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে কোনো বয়সসীমা থাকবে না।

জানা গেছে, বর্তমানে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য অর্থসচিব আবদুল রউফ তালুকদার ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফেরার পর এ বিষয়টি তার কাছে উত্থাপন করা হবে।


আরো সংবাদ