২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

শিডিউল বিপর্যয় : দুর্দশায় ফিরতি হজ ফ্লাইটের যাত্রীরা 

জেদ্দায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফিরতি হজ ফ্লাইটের শিডিউল বিপর্যয়ের পর হাজারো বাংলাদেশী বিপাকে পড়েছেন। জেদ্দা বিমানবন্দরে তাদের রাত কেটেছে নির্ঘুম। প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেকে। সঙ্কট কাটাতে শিডিউল ফ্লাইট বাদ দিযে এয়ার এশিয়ার ভাড়া (লিজ) করা বিমানে কিছুসংখ্যক হাজীকে দেশে পাঠানো গেলেও আসনসংখ্যা কম হওয়ায় নতুন সমস্যা দেখা দেয়। দেশে ফিরতে উন্মুখ যাত্রীদের মধ্যেও আসন পাওয়া নিয়ে ঝামেলা তৈরি হয়। 

এ দিকে গতকালও ঢাকা-জেদ্দা ও ঢাকা-রিয়াদ রুটে হজ এবং শিডিউল ফ্লাইট নির্ধারিতগুলো নির্ধারিত সময়ের অনেক দেরিতে ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে একটি ফ্লাইট ২৪ ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়ে যাওয়ার শিডিউল তৈরি করা হয়। 

জেদ্দা থেকে বাংলাদেশী যাত্রীদের কয়েকজন গতকাল নয়া দিগন্তকে তাদের দুর্দশার কাহিনী তুলে ধরে জানিয়েছেন, পবিত্র মক্কা নগরী থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তারা ফ্লাইট বিপর্যয়ের কথা জানতে পারেন। সেখানে পৌঁছেই তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে হয়। বাংলাদেশী হাজীদের যেখানে জায়গা দেয়া হয় সেখানে পর্যাপ্ত ফ্যানও ছিল না। এক জায়গায় বসে থাকতে হয়েছে ৩-৪টি ফ্লাইটের যাত্রীদের। ছিল ভিড়। আবার ফ্লাইট কখন আসবে, আদৌ আসবে কি না সে রকম খবর জানানোর মতো কাউকে পাওয়া যায়নি। নানান রকম খবর শুনে অনেকেই বিনিদ্র রাত কাটান। অনেকেই না খেয়ে থাকেন। হাজীদের মধ্যে বয়স্ক ও নারীরা খুবই কষ্টে পড়েন। 
শনিবার দুপুর ১২টায় জেদ্দা রওনা হয়ে রোববার বেলা পৌনে ১২টায় এয়ার এশিয়ার বিমানে ওঠা একজন যাত্রী এ প্রতিবেদককে জানান, অবস্থা কী হয় বুঝতেই তো পারেন। আমরা সময়মতো জানতে পারলে এতটা কষ্ট হতো না। নিদ্রাহীন রাত, প্রচণ্ড গরম ও খাওয়া-দাওয়ার কষ্টে অবস্থা চরমে পৌঁছেছে। 
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত থেকে গতকাল রোববার রাত পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাজীদের আনার জন্য জেদ্দা ও রিয়াদের উদ্দেশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যে কয়টি ফ্লাইট ঢাকা ছেড়ে যায় তার সবগুলোই বিলম্বে ছেড়ে গেছে। 

শনিবার রাত দেড়টায় ঢাকা-রিয়াদের উদ্দেশে বিমানের (বিজি-০৩৯) ফ্লাইটটি ছাড়ার কথা ছিল। সেটি রোববার রাত দেড়টায় ছাড়া হবে বলে নতুন শিডিউল জানানো হয়। আবার রোববার রাতে যে ফ্লাইটটি রাত দেড়টায় ছাড়ার কথা সেটি আজ সোমবার রাত দেড়টায় ছাড়বে। মোটকথা শিডিউল সব লণ্ডভণ্ড। অপর দিকে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে জেদ্দার উদ্দেশ এয়ার এশিয়ার যে শিডিউল ফ্লাইটটি ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল সেটি আজ সোমবার সন্ধ্যায় একই সময়ে ছেড়ে যাবে বলে শিডিউল করা হয়েছে। এ ছাড়া গতকাল চারটি হজ ফ্লাইট ঢাকা থেকে জেদ্দার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে এয়ার এশিয়ার লিজ এয়ারক্রাফট ফ্লাইটটি ৭-৮ ঘণ্টা বিলম্বের পর বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে যায়। অন্যগুলো ৩-৪ ঘণ্টা বিলম্বে গেছে। 

গতকাল বিমানের একাধিক কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে বলেন, বিমানের হযরবল অবস্থার জন্য পরিচালনা পর্ষদ ও সংশ্লিষ্টরা কমবেশি দায়ী। কারণ নিয়ম মোতাবেক বিমান ম্যানেজমেন্ট পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞ ব্যবস্থাপনা পরিচালক দরকার। কিন্তু গত ৩ মাস ধরেই এই পদটি শূন্য পড়ে আছে। আর এই পদে যাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাকে একবার তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে, আবার আরেকটি আদেশ দিয়ে ওই জায়গায় পদায়ন করা হচ্ছে। মানসিক চাপের কারণে কর্মকর্তারা তাদের সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। 

সূত্র মোতাবেক আগামী মঙ্গলবার বিমানের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসার কথা রয়েছে। 
এ দিকে গতকাল রোববার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার স্বাক্ষরিত পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জেদ্দা থেকে কিছুসংখ্যক সম্মানিত হাজীকে সময়মতো দেশে ফিরিয়ে আনতে না পারার কারণে বিমান দুঃখ প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছে যে, একটি উড়োজাহাজের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বেশ কিছুসংখ্যক সম্মানিত হাজীকে সময়মতো ঢাকায় ফেরত আনা বিঘিœত হয়েছে। বিমান তার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এবং নিজ খরচে সম্মানিত হাজীদেরকে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা প্রদান করে অতি দ্রুত ঢাকায় আনার ব্যবস্থা করছে। সাময়িক এ অসুবিধার জন্য বিমান আন্তরিকভাবে সংশ্লিষ্ট সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী বলেও উল্লেখ করা হয়।


আরো সংবাদ