১৫ অক্টোবর ২০১৯

ইসিতে নজরদারিতে ১৫ জন, চলবে শুদ্ধি অভিযান

ইসিতে নজরদারিতে ১৫ জন, চলবে শুদ্ধি অভিযান - সংগৃহীত

জালিয়াতির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট ও এনআইডি দেয়ার ঘটনায় প্রকাশ হওয়ার পর জালিয়াতি ও দুর্নীতি বন্ধে নির্বাচন কমিশনে ‘শুদ্ধি অভিযান’ শুরু হয়েছে মন্তব্য করে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেছেন, ইতোমধ্যে দুটি তদন্ত কমিটির দেয়া প্রাথমিক তথ্যে সন্দেহভাজন ১৫ জনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সোমবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, এনআইডি জালিয়াতি বন্ধে যা যা দরকার, তার সবই করা হবে। আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আমাদের মূল ডেটাবেজ সুরক্ষিত আছে। যারা এখানে ঢোকার অপচেষ্টা করেছিল তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের আইটি বিভাগ এই অপচেষ্টাকারীদের চিহ্নিত করেছে। আমরা কাউকে ছাড় দেব না।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অব্যাহত রাখার কথা ঘোষণা করে তিনি বলেন, এটা বাস্তবায়ন করতে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট, সিআইডি, দুদক, এসবির সহায়তা প্রয়োজন হলে আমরা তাদের সহায়তাও নেব।

অবশ্য এই জালিয়াত চক্রের সঙ্গে কতজন সম্পৃক্ত রয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান প্রকাশ না করে মহাপরিচালক সাইদুল ইসলাম বলেন,‘এ মুহূর্তে নাম বলতে চাই না। আমরা পর্যায়ক্রমে তাদের নাম প্রকাশ করব। আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে এর সঙ্গে কতজন জড়িত। তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার স্বার্থে আমরা এখনই তাদের নাম প্রকাশ করছি না। তবে এই সংখ্যা ১৫ জনের বেশি না।’

মহাপরিচালক আরো বলেন,‘ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের ৬১ জনের তালিকা পেয়েছি, যারা ভোটার হওয়ার চেষ্টা করেছে। তাদের তথ্য যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। তারা কীভাবে ভোটার হওয়ার চেষ্টা করল, কারা তাদের সহযোগিতা করল… যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইসির এনআইডি উইংয়ের পরিচালক (অপারেশন্স) আবদুল বাতেন, ইসির আইসিটি মেনটেইনেন্স ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ হোসেন, ৫ সদস্যের প্রশাসনিক তদন্ত কমিটির প্রধান এনআইডি উইং পরিচালক খোরশেদ আলম, কারিগরি বিশেষ তদন্ত কমিটির প্রধান এনআইডি পরিচালক ইকবাল হোসেন ও সদস্য এনআইডি উইংয়ের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট সাহাব উদ্দিন।

উল্লেখ্য, এক রোহিঙ্গা নারী সম্প্রতি ভুয়া এনআইডি সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে পাসপোর্ট নিতে গিয়ে ধরা পড়ে। এরপরই জালিয়াত চক্রের খোঁজে নামে নির্বাচন কমিশন। এ ঘটনার পর রোহিঙ্গা সন্দেহে অর্ধশত এনআইডি বিতরণ আটকে দেয় জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অণুবিভাগ।


আরো সংবাদ