১৪ নভেম্বর ২০১৯

‘নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে চট্টগ্রামে নতুন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র

‘নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে চট্টগ্রামে নতুন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র - ছবি : সংগৃহীত

এবার ‘নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে সৌরবিদ্যুৎ কিনবে সরকার। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করা হবে চট্টগ্রামের বারৈয়ারহাটে। সম্পূর্ণ বেসরকারিখাতে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষমতা হবে ৫০ মেগাওয়াট। একই স্থানে অবস্থিত ১৩২/৩৩ কেভি সাব-স্টেশনের কাছে এই প্রকল্পটি স্থাপন করা হবে। বিল্ড ওন অপারেট (বিওও) পদ্ধতিতে উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে কেনা প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুতের দাম পড়বে ৮ টাকা ৭৫ পয়সা। উদ্যোক্তা সংস্থার কাছ থেকে ‘নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে ২০ বছর মেয়াদে বিদ্যুৎ ক্রয়ে সরকারের মোট ব্যয় হবে এক হাজার ৪১৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে যতটুকু বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে তার দামও ততটুকু দেয়া হবে। বিদ্যুৎ পাওয়া না গেলে কোনো অর্থ প্রদান করা হবে না।

এ সংক্রান্ত একটি ক্রয় প্রস্তাব আজ বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

প্রস্তাবের সার-সংক্ষেপে বলা হয়েছে, প্রাইভেট সেক্টর পাওয়ার জেনারেশন পলিসি-১৯৯৬ এর আওতায় বিওও ভিত্তিতে দেশের চারটি স্থানে প্রতিটি ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে দরপত্রের মাধ্যমে স্পন্সর নির্বাচনের প্রস্তাবে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে ২০১৮ সালের ২৩ এপ্রিল সম্মতি দেয়া হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
দরপত্রে জার্মানির কনসোর্টিয়াম অব আইবি ভোগড জিএমবিএইচ অ্যান্ড এজি অ্যাগো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং নরওয়ের স্কেয়াটেক সোলার এএসএ নামক দু’টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি বারৈয়ারহাটে ১৩২/৩৩ কেভি সাবস্টেশনের নিকটবর্তী স্থানের জন্য প্রাপ্ত দুটি কোয়ালিফিকেশন স্টেটমেন্ট মূল্যায়ন শেষে প্রতিবেদন দাখিল করে। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি তার মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উভয় প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে যোগ্য হিসেবে সুপারিশ করে। পরবর্তীতে টেকনিক্যাল, কমার্শিয়াল এবং ফাইনান্সিয়্যাল মূল্যায়নে জার্মানির কনসোর্টিয়াম অব আবি ভোগড জিএমবিএইচ অ্যান্ড এজি অ্যাগো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেকে যোগ্য হিসেবে নির্বাচনের জন্য সুপারিশ করে।

জানা গেছে, মূল্যায়ন কিমটির প্রতিবেদন ২০১৮ সালের ১০ ডিসেম্বর বিউবোর সাধারণ বোর্ড সভায় অনুমোদিত হয়। এবং আনুষাঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করা হয়। বিউবোর সুপারিশ অনুযায়ী দাখিলকৃত কোয়ালিফিকেশন স্টেটমেন্টের মূল্যায়ন প্রতিবেদন এবং রেসপনসিভ বিডারের ট্যারিফ প্রোপোজাল খোলার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি অনুমোদন দেয়া হয়। পরে ১৭ জানুয়ারি বিউবো কর্তৃক বারৈয়ারহাট সাইটের একমাত্র রেসপনসিভ বিডারের আর্থিক প্রস্তাব তাদের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে খোলা হয়।

কমিটি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বারৈয়ারহাট ১৩২/৩৩ কেভি সাবস্টেশনের নিকটবর্তী স্থানে বিওও ভিত্তিতে আইপিপি হিসেবে ‘নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একমাত্র রেসপনসিভ বিডারের কনসোর্টিয়াম অব আইবি ভোগড জিএমবিএইচ অ্যান্ড এজি অ্যাগো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের লেভেলাইজড ট্যারিফ চার্জ ১০ দশমিক ৭৫ ইউএস সেন্ট/কিলো ওয়াট ঘণ্টা সমপরিমাণ বাংলদেশী ৮ দশমিক ৭৫ টাকা/কিলোওয়াট ঘণ্টা অনুমোদনের সুপারিশ করেছে।

এর আগে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে আরো ৮টি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ওইসব কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ক্রয়মূল্যর সাথে তুলনা করে তার সাথে সামঞ্জস্য পেয়েছে এবং জার্মানির কনসোর্টিয়াম অব আইবি ভোগড জিএমবিএইচ অ্যান্ড এজি অ্যাগো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের দেয়া প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের দামের প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের এক সূত্র জানায়, উপরোক্ত ট্যারিফের ভিত্তিতে বিদ্যুৎ ক্রয় করা হলে ২০ বছর মেয়াদে উক্ত কোম্পানিকে এক হাজার ৪১ কোটি ৪০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। অর্থ বিভাগের আর্থিক ক্ষমতা অর্পনবিষয়ক পরিপত্র ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গেজেট অনুযায়ী গণখাতে পণ্য ক্রয়সংক্রান্ত চুক্তি অনুমোদন-সম্পাদন বিষয়ে ১০০ কোটি টাকার ঊর্ধ্ব মূল্যের দরপত্র অনুমোদনকারী কর্র্তৃপক্ষ সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এ কারণে ২০ বছর মেয়াদে কোম্পানিটির উৎপাদিত বিদ্যুৎ ক্রয়ের অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হবে। কমিটির অনুমোদন পাওয়া গেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। শিগগিরই বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে বলা হবে।


আরো সংবাদ