২২ নভেম্বর ২০১৯

বিশ্ববিদ্যালয় বাদ দিয়ে সরকারি ৮ গ্রেডের নিয়োগ প্রক্রিয়া

বিশ্ববিদ্যালয় বাদ দিয়ে সরকারি ৮ গ্রেডের নিয়োগ প্রক্রিয়া - ছবি : নয়া দিগন্ত

সরকারি আটটি গ্রেডের নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে বাদ দেয়া হয়েছে। এখন থেকে এই আট গ্রেডে নিয়োগ স্ব স্ব মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা অধীনস্থ দফতর এককভাবে পরিচালনা করবে। শুধু তা-ই নয়, মন্ত্রণালয়/বিভাগ বা অধীনস্থ দফতর বা সংস্থায় আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনোরূপ বরাদ্দ রাখা বা প্রস্তাবও করা যাবে না।

গতকাল অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ এবং অধীনস্থ দফতর/সংস্থায় বেতন গ্রেড ১৩-২০ (পূর্বের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণী) পর্যন্ত পদে সরকারি কর্মচারী নিয়োগের জন্য পাবলিক/বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। একই সাথে মন্ত্রণালয়/বিভাগ বা অধীনস্থ দফতর/সংস্থায় আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো বরাদ্দ বা প্রস্তাব করা যাবে না। ’

এই পরিপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা গতকাল এই প্রতিবেদককে বলেন, বর্তমানে সরকারি ১৩ থেকে ২০ গ্রেডের অনেক কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালকে সম্পৃক্ত করা হয়। অনেক সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর মাধ্যমেও কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়ার বাছাই কার্যক্রম করা হয়ে থাকে। দেখা যায়, একেকটি পদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের জন্য ব্যয় কয়েক হাজার টাকা হয়ে থাকে। এই জন্য আবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থ বিভাগের কাছে অর্থ চেয়ে আবেদন করে। এই ব্যয় কমানোর জন্য এখন থেকে স্ব স্ব লাইন মিনিস্ট্রি তাদের ১৩ থেকে ২০ গ্রেডের(পূর্বের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণী) কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়ার কাজটি সম্পন্ন করবে। এতে সরকারের ব্যয় কমবে বলে আমরা মনে করি। সরকারি ওপর মহলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই পরিপত্রটি জারি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

তবে অন্য একটি সূত্র জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত নেয়ার ফলে এই সব নিয়োগে অস্বচ্ছতা ও অনিয়ম হতে পারে। সংশ্লিষ্ট লাইন মিনিস্ট্রি যদি সরকারি কর্মচারী নিয়োগদান প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে সেক্ষেত্রে সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠাই স্বাভাবিক। শুধু তা-ই নয়, এতে স্বজনপ্রীতিও হতে পারে।

উল্লেখ্য, আউট সোর্সিং নীতিমালা ২০০৮ অনুযায়ী মূলত ১১টি খাতকে এই সেবায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সেবাগুলো হচ্ছে- নিরাপত্তা ও পাহারা (কেপিআই ব্যতীত), পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং বাগান পরিচর্যা, পরিবহন সেবা, ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল ও কাঠের কাজ, কুকিং ও ডাউনিং সংক্রান্ত, হোস্টেল, মেসরুম, ক্লাব, স্পোর্টস এবং কমনরুম সংক্রান্ত, হাউজ কিপিং, কেয়ার টেকিং এবং হাসপাতাল সেবা সংক্রান্ত, লিফট মেইন্টেন্যান্স, পাম্প অপারেটিং, জেনারেটিং অপারেটিং, মেশিন অপারেটিং ও প্রজেক্টর অপারেটিং সংক্রান্ত, এয়ার কন্ডিশন যন্ত্র স্থাপন ও মেন্টেন্যান্স, ডাক বিতরণ সংক্রান্ত এবং স্যানিটারি ও প্লাম্বিং কাজ। এ ছাড়া অর্থ বিভাগ কর্তৃক সময়ে সময়ে নির্ধারিত অন্য যেকোনা সেবা থেকে আউটসোর্সিং নেয়া যাবে।
নীতিমালায় আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা প্রদানকারী ব্যক্তির বয়সসীমাও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এই বয়সসীমা হবে ১৮-৬০ বছর।


আরো সংবাদ