১৮ নভেম্বর ২০১৯
ইএফটি সুবিধার আওতায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ

৩০ সেকেন্ডে বেতন ভাতা পেনশন

৩০ সেকেন্ডে বেতন ভাতা পেনশন - ছবি : সংগ্রহ

আগামী ৬ মাসের মধ্যে স্বায়ত্তশাসিত সকল প্রতিষ্ঠানে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারে (ইএফটি) মাত্র ৩০ সেকেন্ডে মিলবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা। এমনকি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অবসর গ্রহণ করলে পরদিনই তার একাউন্টে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাবে অবসরভাতা (পেনশন)।

বৃহস্পতিবার জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ভবনে এক অনুষ্ঠানে ইএফটি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মো. রাশিদুল ইসলাম। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কর্মসূচি পরিচালক, সরকারি ব্যয়ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ কর্মসূচি ও অর্থ বিভাগের (বাজেট-১) অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) ও যুগ্ম সচিব ড. মো. মইনুল হক আনছারী।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ইএফটি পদ্ধতি চালু করার ফলে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, গৃহঋণ, পেনশন প্রদানের পুরো প্রক্রিয়াটিই হবে সহজ, স্বচ্ছ ও দ্রুত। দূর হবে প্রতিষ্ঠানগুলোর সব ধরনের আর্থিক অনিয়ম। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইনক্রিমেন্ট, অর্জিত ছুটি, ভ্রমণ তথ্য, সার্ভিস রেকর্ড অর্থাৎ চাকরিতে যোগদানের পর থেকে সব ধরনের তথ্য ইএফটি ডাটাবেজে থাকবে। এর ফলে মুহূর্তেই মিলবে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাওনাদিসহ অবসরে যাওয়ার যাবতীয় তথ্যদি। এমনকি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অবসরে যাওয়ার একদিনের মধ্যে মিলবে পেনশন সুবিধা।

জানা যায়, ২০১৮ এর অক্টোবরে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার পদ্ধতি চালু করতে একটি চিঠি দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট অনুবিভাগ। এরপর প্রথম কোনো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ইএফটি পদ্ধতি চালু করতে সক্ষম হলো। বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডসহ আরো ৪টি প্রতিষ্ঠান এ কার্যক্রম শুরু করলেও তারা এখন পর্যন্ত এ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারেনি।

অনুষ্ঠানে অর্থবিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট-১) ও সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ কর্মসূচির পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আগামী ৬ মাসের মধ্যে রাষ্ট্রের সকল স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ইএফটি পদ্ধতি চালু করা হবে। তিনি তাঁর দেয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলামের দূরদর্শিতা ও যোগ্য নেতৃত্বের কারণে এ প্রতিষ্ঠানে সবার আগে ইএফটি চালু করা সম্ভব হয়েছে। এজন্য অর্থবিভাগের পক্ষ থেকে তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি বলেন, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এখন থেকে আর কেরানিনির্ভর হিসাব ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর হলো।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মো. রাশিদুল ইসলাম বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে তিন ধরনের কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি করেন। পুরো বিষয়টি অটোমেশনে আনা ছিল অত্যন্ত জটিল কাজ। আমরা নিবিড় তদারকির মাধ্যমে সেই জটিল কাজটি স্বল্প সময়ে সমাধান করে এখানে ৩২১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরিকালীন সকল সুবিধা প্রদানে ইএফটি পদ্ধতি চালু করতে সক্ষম হয়েছি। এই অর্জনে অত্যন্ত খুশি এবং এ কাজে সার্বিক সহযোগিতার জন্য তিনি অর্থ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের যুগ্মসচিব ও সদস্য (অর্থ ও প্রশাসন) ড. মো. মইনুল হক আনছারীসহ প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এসময় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইএফটি পদ্ধতির উদ্বোধন বাটনে চাপ দিলেই উপস্থিত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সারাদেশে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে চাকরিরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর অক্টোবর-২০১৯ মাসের বেতন-ভাতা তাদের নিজ নিজ একাউন্টে পৌঁছে যায়; যা তারা তাদের মোবাইল ফোনে মেসেজ আকারে দেখতে পান।


আরো সংবাদ