১০ ডিসেম্বর ২০১৯

গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের সমীক্ষাতেই ৫ বছর

গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের সমীক্ষাতেই ৫ বছর - ছবি : সংগৃহীত

৫৯০ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়কের সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্পই চলছে বছরের পর বছর। মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে দফায় দফায়। এই প্রকল্পেও ব্যয় বাড়ছে। ফলে মূল বিনিয়োগ প্রকল্পের কোনো হদিস মিলছে না। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণসহায়তায় নেয়া সাতটি সড়কের ওপর এই সমীক্ষা চলছে গত চার বছর ধরে। আবার এক বছর সময় বৃদ্ধির আবদার করা হয়েছে। সার্বিকভাবে প্রকল্পের ব্যয় ১৬ কোটি টাকার বেশি বেড়েছে বলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ফর সাব রিজিওনাল রোড ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট প্রিপারেটরি ফ্যাসিলিটি-২ এর আওতায় সাতটি এলাকায় মোট ৫৯০ কিলোমিটার সড়কের সম্ভাব্যতা যাচাই করার কথা। ২০১৫ সালে পরিকল্পনামন্ত্রী ৫০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটি অনুমোদন দেন, যা ২০১৮ সালের জুনে শেষ করার কথা। এই প্রকল্পে এডিবি ৩৫ কোটি ১ লাখ টাকা ঋণ দিচ্ছে। প্রকল্পের ভ্যাট ও ট্যাক্স খাতে ব্যয় বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে প্রকল্প খরচ সাড়ে ৪ কোটি টাকা বাড়ানো হয়। মেয়াদও বাড়ে আরো এক বছর। বর্ধিত মেয়াদেও সম্ভাব্যতা যাচাইও করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ব্যর্থ। এখন আবার এক বছর তিন মাস বাড়িয়ে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকল্পটি সমাপ্ত করার জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগে। এখন ব্যয় বাড়ছে আরো ১১ কোটি ১২ লাখ টাকার বেশি। তিন বছরের প্রকল্পটি গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সোয়া ৪ বছরে অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৫০.৫৩ শতাংশ। আর এটি হলো প্রকল্পের অর্থব্যয়। সম্ভাব্যতা প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। তবে বিস্তারিত ডিজাইন এখনো শেষ হয়নি বলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট উইং থেকে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিনিয়োগ প্রকল্প গ্রহণের জন্য দেশের উপ-আঞ্চলিক সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় জাতীয় মহাসড়ক, আঞ্চলিক মহাসড়ক ও জেলা মহাসড়কের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং বিস্তারিত ডিজাইনের প্রয়োজন হওয়ায় এডিবির সহায়তায় ২০১০ সালের জুলাই মাসে প্রথম এই প্রকল্প নেয়া হয়। ওই প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে জাতীয় মহাসড়ক, আঞ্চলিক মহাসড়ক ও জেলা মহাসড়কসহ সর্বমোট ১৩টি সড়কের ১ হাজার ৭৫২ কিলোমিটার মহাসড়কের সম্ভাব্যতা যাচাই, ডিটেইল্ড ডিজাইন ও টেন্ডারিং সাপোর্ট ডকুমেন্ট প্রস্তুত করা হয় ২০১৫ সালের জুনে। তারই ধারাবাহিকতায় আরো গুরুত্বপূর্ণ সাতটি মহাসড়কের ৫৯০ কিলোমিটার সড়কের এই প্রকল্প।

জানা গেছে, সড়কগুলো হলো- ভাঙ্গা-ভাটিয়াপাড়া-কালনা-লোহাগড়া-নড়াইল-যশোর-বেনাপল ১৩৫ কিলোমিটার, রংপুর-বাংলাবান্ধা ১৭২ কিলোমিটার, বনপাড়া-ইশ্বরদী-পাকশি, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ ১০৫ কিলোমিটার, সিলেট-চরখাই-শেওলা-সুতারকান্দি ৪৬ কিলোমিটার, চট্টগ্রাম বন্দর এক্সেস রোড ১৪ কিলোমিটার, নবীনগর-পাটুরিয়া ৫৮ কিলোমিটার এবং পাগলাপীর-ডালিয়া-বরকাঠা ৬০ কিলোমিটার। পরামর্শক নিয়োগে এক বছর সময় বিলম্বিত হওয়াতে প্রকল্পের মেয়াদ প্রথমে এক বছর বাড়ানো হয়। তবে প্রকল্পের কর্মপরিধি হ্রাস পায়। সেখানে প্রকল্প সংশোধন করার কথা ছিল। এ দিকে প্রকল্প সংশোধন না করেই বিধি লঙ্ঘন করে পরামর্শকদের সাথে চুক্তি করা হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক জানান, প্রকল্পে নিয়োজিত কর্মকর্তারা সম্ভাব্যতা যাচাই ও ডিটেইল্ড ডিজাইনে পারদর্শী না। তাই এডিবির পরামর্শক নিতে হচ্ছে।
ভৌত অবকাঠামো বিভাগ বলছে, এই প্রকল্পে পরামর্শক খাতে ব্যয় ছিল ৬১ কোটি ৫৫ লাখ ৪২ হাজার টাকা। সংশোধনীতে এই ব্যয় আরো বাড়ানো হয় ১১ কোটি ২২ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। যার মধ্যে জিওবিতে ৩ কোটি ৪১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। প্রকল্পে পরামর্শক খাতের ব্যয় তুলনমামূলকভাবে বেশি। এটাকে কমানোর জন্য বলা হয়েছে। এখানে পরামর্শকদের ভ্যাট ও ট্যাক্স প্রকল্প থেকেই বহন করতে হচ্ছে। এডিবি যে ঋণ দিচ্ছে তার পুরোটাই যাচ্ছে পরামর্শকদের পেছনে। তার সাথে জিওবি থেকেও যোগ করতে হচ্ছে।


আরো সংবাদ