২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নে ২৭ কোটি টাকা

সরকার আগামী ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য দেশের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নের কথা ভাবছে। আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে এই পরিকল্পনার দলিল তৈরি করা হবে। এই পরিকল্পনা দলিল প্রণয়নের জন্য ২৭ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে।

দলিলটি তৈরিতে ৩৫ জন জনবল লাগবে বলে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত দুই দশকের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়নের যেকোনো সূচকের বিচারে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছে। সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো অর্জন বিশেষত দারিদ্র্য নিরসন, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় জেন্ডার সমতা আনয়ন, নবজাতক ও অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর বয়সী শিশুর মৃত্যুহার হ্রাস এবং মাতৃমৃত্যু হার হ্রাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ সফলতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে।

বর্তমান সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে রেখে দেশের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে রূপকল্প-২০২১ ঘোষণা করেছে।

রূপকল্পের লক্ষ্য হলো, ২০২১ সালের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা। দারিদ্র্যের হার সাড়ে ১৩ শতাংশে নামিয়ে আনা, জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে মাথাপিছু আয় দুই হাজার ডলারে উন্নীত করা। ২০২১ সালের মধ্যে বাণিজ্য অনুপাত (আমদানি ও রফতানি) জিডিপির ৬০ শতাংশে উন্নীত করা।

অন্য দিকে উন্নত বাংলাদেশের অভিলাষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-৪১ প্রণয়নের কাজও এগিয়ে চলছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা সমাপনের পরপরই ২০২১-২৫ অর্থবছর থেকে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করতে হবে। তাই এই প্রকল্পটির প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা দলিল প্রণয়নে ৩৫ জন জনবলকে সম্মানী দেয়া হবে। সম্মানীর পরিমাণ তাদের প্রত্যেকের মূল বেতনের সমতুল্য। নবম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার নতুন কারিগরি কাঠামো প্রণয়নের জন্য অতিরিক্ত পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও এসডিজি-সংশ্লিষ্টতা নির্ধারণ, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কৌশলসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

পরিকল্পনা কমিশন বলছে, জনবলের ব্যাপারে অর্থ বিভাগের জনবল নির্ধারণ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রকল্পের জনবলের সংখ্যা ও বেতনভাতা নির্ধারণ করতে হবে। বৈদেশিক এক্সপোজার ভিজিট, প্রশিক্ষণ সেমিনার এবং কর্মশালার সংখ্যা ও ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে কমিয়ে আনতে হবে।


আরো সংবাদ