২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০
আগামী বছরে টার্গেট ১৭ হাজার

সরকারি হজযাত্রী বাড়াতে নানা চিন্তা

সরকারি হজযাত্রী বাড়াতে নানা চিন্তা - ছবি : নয়া দিগন্ত

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী বাড়াতে নানা চিন্তাভাবনা চলছে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে। এ জন্য কম মূল্যের একটি সরকারি প্যাকেজ ঘোষণা করে হাজীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার বিষয় সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।
হাজীদের মক্কার মসজিদুল হারাম শরিফ থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে আজিজিয়া নামক স্থানে রাখা এবং ঢাকা-মদিনা-ঢাকা রুটে হাজীদের পরিবহনের মাধ্যমে সৌদি আরবে অবস্থানের দিনের সংখ্যা কমিয়ে এনে এই প্যাকেজ ঘোষণার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে আগামী বছরের হজযাত্রী ইতোমধ্যে প্রাক নিবন্ধিত হয়ে যাওয়ার কারণে সরকারি হাজী বৃদ্ধির এই পরিকল্পনা তাৎক্ষণিক কতটুকু বাস্তবায়ন সম্ভব হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে কর্মকর্তাদের। আগামী বছরের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনার জন্য ১৭ হাজারের কোটা রাখা হয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ বছর সৌদি সরকার যে ১০ হাজার অতিরিক্ত কোটা বৃদ্ধি করেছে তা সরকারি ব্যবস্থাপনার জন্য রাখা হয়েছে। ফলে এক লাখ ৩৭ হাজার ১৯৮ জনের কোটার মধ্যে বেসরকারি কোটা বিদায়ী বছরের মতোই এক লাখ ২০ হাজার বহাল রাখা হয়েছে। আর বাকি ১৭ হাজার ১৯৮ জনের কোটা সরকারি ব্যবস্থাপনার জন্য রাখা হয়েছে। হজচুক্তির সময় সৌদি হজকার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থা মোয়াচ্ছাসাকে বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

গত ৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আগামী বছরের হজের জন্য চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তি সম্পাদনের আগে ধর্ম মন্ত্রণালয় মোট কোটার ২০ শতাংশ সরকারি ব্যবস্থাপনায় রাখার চিন্তা করেছিল। চুক্তির সময় সৌদি সরকার অতরিক্তি ১০ হাজার কোটা বাড়ানোর পর ওই চিন্তা থেকে সরে এসে বর্ধিত কোটাই সরকারি ব্যবস্থাপনায় রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সরকারি কোটা বৃদ্ধির খবরে বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থাকার কারণে চুক্তির সময় এবং এখনো সরকারি হজযাত্রীর কোটার সংখ্যাটি প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ হজচুক্তির আগে নয়া দিগন্তকে জানিয়েছিলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় যারা হজে যাবেন তাদের সংখ্যা বাড়ানো হবে। তবে কত বাড়ানো হবে সেটি উল্লেখ না করেই বলেছিলেন, শুধু বাড়ালেই তো হবে না, হজযাত্রী পেতেও তো হবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগামী বছরের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের কোটার টার্গেট সাড়ে ১২ শতাংশ। গত বছর এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের কোটার বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে সর্বমোট হজযাত্রী যান, এক লাখ ২৭ হাজার ১৫২ জন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীর সংখ্যা ছিল ছয় হাজার ৯১৬ জন, যা ৫ শতাংশেরও কম ছিল। সরকারি ব্যবস্থাপনায় কোটা রাখা হয়েছিল ১০ হাজার ১৯৮ জন, যা ৮ শতাংশের মতো ছিল। ফলে এ বছর কোটা আরো প্রায় ৫ ভাগ বেশি রাখা হচ্ছে।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ হজ-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী বছর থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী বৃদ্ধির কথা জানিয়েছিলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, আমি তো অর্ধেকই সরকারি ব্যবস্থাপনায় পাঠাতে চাই।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র নয়া দিগন্তকে জানান, সরকারি হজযাত্রী বৃদ্ধির বিষয়টি সৌদি সরকারের সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকেই অনুরোধ করা হয়েছে। তবে মন্ত্রী যে তা ৫০ শতাংশে উন্নীত করার কথা বলেছেন সেটি রাতারাতি করার ইচ্ছার কথা বলেননি। আস্তে আস্তে বৃদ্ধি করা হবে।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) খন্দকার ইয়াসির আরেফীন এই প্রতিবেদককে বলেন, এবার সরকারি হজযাত্রীর কোটা ১৭ হাজার থাকছে। এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে আরো বাড়বে বলে প্রতিমন্ত্রী আশা করছেন। তিনি বলেন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশেরই সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ। সরকারি হজযাত্রীর বর্ধিত কোটা কিভাবে পূরণ হবে এ নিয়ে এখনো চিন্তÍাভাবনা চলছে বলেও এই কর্মকর্তা জানান। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা বাড়াতে হবে বলে মনে করছেন মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনাসংশ্লিষ্ট প্রায় সব কর্মকর্তাই।

আগামী বছরের বর্ধিত কোটা পূরণের জন্য সরকারের দু’টি প্যাকেজের মধ্যে একটি প্যাকেজমূল্য কমানোর লক্ষ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয় কয়েক মাস আগ থেকেই কাজ শুরু করেছে জানিয়ে অন্য এক কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে বলেন, বাড়িভাড়া এবং হাজীদের মক্কা-মদিনায় থাকার সময় ২৫-৩০ দিনের মধ্যে কমিয়ে আনতে পারলে প্যাকেজমূল্য অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। সেই লক্ষ্যে হজচুক্তির সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মক্কার আজিজিয়া এলাকা ঘুরে দেখে এসেছেন এবং হজচুক্তিতে ঢাকা-মদিনা ফ্লাইট বৃদ্ধির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। যদি প্যাকেজমূল্য বড় অঙ্কে কমিয়ে আনা যায় এবং ব্যবস্থাপনা উন্নত করা যায় তাহলে সরকারি ব্যবস্থাপনার দিকে হজযাত্রীরা ঝুঁকবেনÑ এমনটিই মনে করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আমিন উল্লাহ নূরী ইতঃপূর্বে মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক কর্মশালায় এমন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেছিলেন, হজের দিনগুলোর আগে মক্কায় হোটেল বা বাড়িভাড়া প্রায় দুই-দিন গুণ বৃদ্ধি পায়। অন্য দিকে মদিনায় বাড়িভাড়া কম থাকে। বাংলাদেশের হাজীদের এভাবে হিসাব করে মদিনায় রাখা হলে বাড়িভাড়ার খরচ অনেক কমে যাবে। একই সাথে হাজীদের সৌদি আরব অবস্থানের সময় ৪০-৫০ দিন থেকে কমিয়ে আনতে পারলে সে ক্ষেত্রে খরচ কমবে। এ ছাড়া শুরু থেকেই মক্কায় হাজীরে মসজিদুল হারামের কাছে না রেখে কিছুটা দূরে স্থায়ী বাড়িতে রাখলে হাজীপ্রতি খরচ অনেক কমানো সম্ভব।


আরো সংবাদ