১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ছয় মাসেও অচলাবস্থা কাটেনি আলজেরিয়ায়

ছয় মাসেও অচলাবস্থা কাটেনি আলজেরিয়ায় - ছবি : সংগৃহীত

বিক্ষোভ শেষ হয়নি আলজেরিয়ায়। ছয় মাস আগে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে দেশটির অসুস্থ ও কার্যত অচল প্রেসিডেন্ট আবদুল আজিজ বুতাফ্লিকার পদত্যাগের পর এখনো বিক্ষোভ চলছে। সামরিক সমর্থিত সরকার ক্ষমতা ধরে রাখার সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি হাজার হাজার আলজেরিয়ান রাস্তায় নামে। এর পর থেকে এই বিক্ষোভ একটি স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি মঙ্গলবার সেখানে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর এবং প্রতি শুক্রবার বৃহত্তম বিক্ষোভ হয়। 

গত সপ্তাহে এই বিক্ষোভ আবার তীব্র হয়। কারণ পুরনো আলজেরিয়ান বিক্ষোভকারীরা শিক্ষার্থীদের সাথে যোগ দেয়। ফলে বিক্ষোভ দমনে সামরিক সরকার নতুন বিধি প্রবর্তন করে। এতে বিক্ষোভকারীদের মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে সামরিক সরকার। গত শুক্রবারের বিক্ষোভের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমরা আলোচনায় আসিনি, আমরা আপনাদেরকে উৎখাত করতে এসেছি।’ বুতাফ্লিকাকে আবার যাতে ক্ষমতায় বসাতে না পারে সে জন্য বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। আন্দোলনের মুখে গত এপ্রিলে ৮২ বছর বয়সী বুতাফ্লিকা পদত্যাগে বধ্য হন। এরপর ৪ জুলাই নির্বাচনের ঘোষণা দেয়া হলেও বিক্ষোভের মুখে নির্বাচন করতে পারেনি সরকার। বিক্ষোভকারীদের সন্দেহ ছিল গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রার্থী না থাকায় বুতাফ্লিকাকে আবার ক্ষমতায় বসানো হতে পারে। সেই থেকে বুতাফ্লিকা সমর্থিত রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিবর্গের অস্বচ্ছ জোট, যা লে পাওভেয়ার নামে পরিচিত তারা আর ছাড় দিতে অনীহা প্রকাশ করে আসছে। 

অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আবদুল কাদের বিন সালাহ সেনাবাহিনী প্রধান আহদে গাদ সালাহর পাশাপাশি ক্ষমতায় রয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা বলছেন বেসামরিক গণতান্ত্রিক সরকার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। তবে নতুন করে এখনো নির্বাচনের কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। ২০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বিক্ষোভকারী নুরহান আতমানি বলেছেন, আপনি যদি বড় ছবিটির দিকে তাকান তবে দেখবেন, আর কোনো সরকার নেই। রয়েছে সেনা ও জনগণ। সরকারের অনেক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এখন তাদের বিচার চলছে। আমরা যেভাবে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করছি, ঠিক তেমনিভাবে তারা শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করবেÑ এটিই আশা। 

দু’জন সাবেক প্রধানমন্ত্রী আহমদ ওহি ও আবদুল মালেক সেলালকে বেশ কয়েকজন সাবেক পার্লামেন্ট মেম্বারসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিচারের অপেক্ষায় করারগারে রাখা হয়েছে। এ দিকে আলজেরিয়ান কর্তৃপক্ষ এখনো যে শীর্ষে রয়েছে তা প্রমাণের জন্য ছোট ছোট লড়াই করছে। বিক্ষোভের সময় ১৮ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকার মান ক্ষুণœ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। আটক সবাই প্রান্তিক বার্বার সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর সদস্য। 

এই মাসে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেনাবাহিনীকে জনগণের দাবির সমর্থনে ক্ষমতা ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে ভিডিও প্রকাশ করলে সরকার ইউটিউব ও গুগলে প্রবেশ বন্ধ করে দেয়। এ ছাড়া হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক গবেষণা কর্মকর্তাকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আবদুল কাদের বিন সালাহ দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে নেতৃত্ব দেয়ার কথা বলেছিলেন। তিনি ভয় দেখিয়েছিলেন যে, এ বিষয়ে তিনি ব্যবস্থা নেবেন। কিন্তু বাস্তবায়ন সমালোচনার ঊর্ধ্বে যেতে পারেনি। 
বিন সালাহ একজন অজনপ্রিয় ব্যক্তি, কিন্তু কিংমেকার। জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্সের বিশ্লেষক ইসাবেল ভেরেনফেলস বলেছেন, দেশের প্রতিদিনের জীবনযাপন চালাতে চান এমন কয়েকটি লক্ষণ রয়েছে। তিনি এমন একজন প্রেসিডেন্ট চান যিনি স্বীকৃত। দেশে বর্তমানে জরুরি ভিত্তিতে নির্বাচনের প্রয়োজন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে বিন সালাহ বড় ছাড় দিয়ে নির্বাচন দেবেন কি না। 

বিরোধী দল জিল জাদিদের প্রধান সুফিয়ান ডিজিলি বলেছেন, সিদ্ধান্তের জন্য সেপ্টেম্বর মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে হয়তো উভয়পক্ষ সহিংসতার আশ্রয় নেবে অথবা শান্তিপূর্ণভাবে দেশ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাবে।

সূত্র : গার্ডিয়ান 


আরো সংবাদ