০৬ ডিসেম্বর ২০১৯

সিসিকে সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান

মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল-সিসি - সংগৃহীত

মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল-সিসির বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান ব্যাপক বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক আইনের চূড়ান্ত লঙ্ঘন বন্ধ না করা পর্যন্ত সামরিক সহায়তা স্থগিত করার পক্ষে জোরালো দাবি উঠেছে। মিসরের পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোর সরকারের প্রতি এই আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার পরিচালক সারা লাহ হুইটসন বলেছেন, ‘বিশ্ব নেতৃবৃন্দের এই স্বীকৃতি দেয়া উচিত যে নিরাপত্তা বাহিনী ও সামরিক বাহিনীকে আপত্তিজনক কাজে সামরিক সহায়তা প্রদান মিসরে স্থিতিশীলতা আনবে না। এর পরিবর্তে দরকার হলো এমন একটি সরকার, যা মিসরীয়দের অধিকার ও স্বাধীনতাকে সম্মান করে।’

নাগরিকদের বিক্ষোভ করার অনুমতি প্রদান করে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারকে সম্মান করার এবং গ্রেফতারকৃত সবাইকে মুক্তি দেয়ার জন্য মিসরের সরকারকে আহ্বান জানান হুইটসন। তিনি বলেন, ‘দেশজুড়ে বিক্ষোভ দমন করা থেকে বোঝা যায় যে প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল-সিসি মিসরীয়দের সমালোচনা ও প্রতিবাদ দেখে আতঙ্কিত।’

উপসাগরীয় দেশগুলো সিসির কট্টর সমর্থক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাকে দৃঢ় সমর্থন দিয়েছেন এবং মানবাধিকারের ব্যাপক লঙ্ঘন করা সত্ত্বেও সিসিকে ‘একজন মহান নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, ‘গত সাত বছরে নিরাপত্তা বাহিনী সন্দেহজনক অভিযানে বিচারবহির্ভূতভাবে ৫০০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছে। হাজার হাজার লোককে অন্যায় বিচারে দোষী সাব্যস্ত করেছে।’

তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প মিসরকে এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করেছেন এবং স্পষ্টতই তিনি সিসির সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। কায়রো ইনস্টিটিউটের হিউম্যান রাইটস স্টাডিজের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মোহাম্মদ জারি বলেন, তাহরির স্কয়ার বন্ধ করে দেয়ায় বিক্ষোভ দমন করা যাবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দমন-পীড়ন আর গ্রেফতারে হয়তো জনগণ আতঙ্কে থাকবেন কিন্তু গত শুক্রবারে শুরু হওয়া আন্দোলন এত তাড়াতাড়ি বন্ধ করা যাবে না। গত শুক্রবার বিক্ষুব্ধ তরুণদের যে ঢল নামে তাতে নিশ্চিত যে সিসি আর আগের মতো নিশ্চিন্তে তার গদিতে বসে রাজত্ব করতে পারবেন না।

২০ সেপ্টেম্বর তাহরির স্কয়ারে নজিরবিহীন এক বিক্ষোভ দেখা যায়। সিসির একচ্ছত্র স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে হাজার হাজার মানুষ। পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল গত সপ্তাহের ওই বিক্ষোভ। ২০১১ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের বিরুদ্ধে তাহরির স্কয়ার থেকেই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। পতন হয়েছিল দীর্ঘ সময় মিসর শাসন করা মোবারকের। দেশটির ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ২০১৩ সালে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সব ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেন সামরিক শাসক সিসি। মিসরীয়দের কাছে স্কয়ারটি বিক্ষোভের অন্যতম স্থান।

তাই দীর্ঘ ছয় বছর পর সেখানে মিসরীয়দের বিক্ষোভে ফেটে পড়ার পর টনক নড়ে যায় সিসি প্রশাসনের। সিসির পদত্যাগের দাবিতে রাস্তায় নামেন তরুণেরা। সিসিকে ক্ষমতাচ্যুত না করা পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা। বিক্ষোভে অংশ নেন মানবাধিকারকর্মী, মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী, সাংবাদিক, আইনজীবীরা।

বিক্ষোভ দমাতে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেন মিসরের প্রেসিডেন্ট। প্রথম বিক্ষোভের পরবর্তী ছয় দিনের মধ্যে বিক্ষোভের আয়োজক, অংশগ্রহণকারী, প্রত্যক্ষদর্শী, সাংবাদিক, আইনজীবীসহ প্রায় ২০০০ মানুষকে গ্রেফতার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। বিদেশী গণমাধ্যম প্রচার বন্ধ রাখা হয়। বিদেশী সাংবাদিকদের সতর্ক করা হয়।

২৭ সেপ্টেম্বর রাতে তাহরির স্কয়ারে ফের বিক্ষোভের পরিকল্পনা ছিল সিসি-বিরোধীদের। আগ থেকেই এর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছিলেন সিসি। এ দিন কায়রোজুড়ে বন্ধ ছিল দোকানপাট, রেস্তোরাঁ। রাস্তাগুলো ছিল জনমানবশূন্য। সূত্র : ডেইলি সাবাহ, নিউ ইয়র্ক টাইমস ও এবিসি নিউজ।


আরো সংবাদ