২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ঈদ শেষে জমজমাট হচ্ছে ঢাকা

-

ঈদ মানেই ফাঁকা ঢাকা। গত শনিবারও আর দশটি দিনের মতো সড়কে ছিল না কোনো যানজট। রাজধানীর সুপার মার্কেট, বিপণিবিতান, ফুটপাথ কোথাও নেই মানুষের ভিড় বা জটলা। কারণ ঢাকার বেশির ভাগ মানুষ গ্রামে ছিল ঈদ উদযাপন করতে। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মানুষ মূলত গত ৮ আগস্ট থেকেই ঘরমুখী হতে থাকে। এর কারণ এবারের ঈদের দিনের আগে এক দিনের বদলে তিন দিনের ছুটি মিলে যাওয়া।
ঢাকা ছেড়ে গ্রামে যাওয়া যাত্রীদের এবার যে ভোগান্তি সইতে হয়েছে, তা অতীতে খুব কমই দেখা গেছে। উল্লেখ করার মতো ছিল রেলের শিডিউল বিপর্যয়। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে একাধিক ট্রেন নির্ধারিত সময়ের ১২ ঘণ্টা পরও ছেড়ে যেতে পারেনি। ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গে ছেড়ে যাওয়া অনেক বাস সকালে যাত্রা করে যমুনা সেতু পর্যন্ত যেতেই সময় নিয়েছে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা। তবু বাড়ি যেতে হবে। এ যে নাড়ির টান।
টানা ছুটির পর গত রোববার থেকে পুরোদমে খুলছে সরকারি অফিস। সকাল থেকেই সচিবালয়, অফিস, আদালত ও ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর আগে ৯ আগস্ট (শুক্রবার) থেকে ১৭ আগস্ট (শনিবার) পর্যন্ত টানা ৯ দিনের ছুটি ছিল। এর মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি চার দিন। কোরবানির ছুটি তিন দিন ও জাতীয় শোক দিবসের ছুটি ছিল এক দিন। মাঝখানে ১৪ আগস্ট (বুধবার) এক দিনের জন্য সরকারি অফিস আদালত খোলা থাকলেও অনেকেই এ দিন ছুটি নিয়ে টানা ৯ দিন ছুটি কাটিয়েছেন।
কিছু মানুষের বাড়ি ছুটে যাওয়ার এই সুবাদে ঢাকায় বসবাস করা মানুষ কয়েক দিনের জন্য পেয়ে গেছেন স্বস্তির ঢাকা। ঈদের আমেজের কারণে ঢাকার সড়কগুলোতে যানবাহন খুব বেশি ছিল না প্রায় দিন দশেক। গত শনিবার আমিনবাজার থেকে বাস এসে কারওয়ান বাজার নামেন এক যাত্রী। তিনি বলেন, কারওয়ান বাজারে আসতে তার সময় লেগেছে মাত্র ২০ মিনিট। অন্য দিন এই দূরত্ব পার হতে সময় লাগে দুই ঘণ্টা বা তারও বেশি।
রিকশাচালক আখতার হোসেন বাড়ি যাননি। তিনি জানান, সকাল ৭টা থেকে দুপুর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তিনি যাত্রী নিয়ে রাজধানীর গুলিস্তান, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার এলাকা ঘুরে বেড়িয়েছেন। অন্য সময় তিনি এমনটি কল্পনাও করতে পারেন না। অন্য সময়ের চেয়ে আজ তার আয়ও বেশি হয়েছে।


আরো সংবাদ