২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ঢাকার জলাবদ্ধতায় দায়ী ওয়াসার গতিহীন দুই প্রকল্প

-

সামান্য বৃষ্টিতেই ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা হওয়ায় এই অবস্থার উন্নয়নে গত বছর দুটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। তবে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের গতি কচ্ছপের গতিকেও হার মানিয়েছে। এক বছরে এর একটি প্রকল্পের অগ্রগতি ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ, আর ১৪ মাসে অন্য প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র দেড় শতাংশ। প্রকল্প দুটির একটির অনুমোদিত মেয়াদ ২৯ মাস ও অন্যটির ২০ মাস।
প্রকল্প বাস্তবায়নের এমন গতিকে অস্বাভাবিক বলছেন নগর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রকল্প পাসের পর নানা ধরনের সমস্যার কারণে শুরুর দিকে বেশি সময় লাগে। পরে প্রকল্পের গতি বাড়ে। কিন্তু স্বল্পমেয়াদি প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের অগ্রগতি অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে।
ঢাকা ওয়াসার বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প দুটি হচ্ছে ‘ঢাকা মহানগরের ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও খাল উন্নয়ন’ এবং ‘হাজারীবাগ, বাইশটেকি, কুর্মিটোলা, মাণ্ডা ও বেগুনবাড়ি খালে ভূমি অধিগ্রহণ এবং খনন, পুনঃখনন’ প্রকল্প।
খাল উন্নয়ন প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়া হয় গত বছরের জুলাই মাসে। ৫৫০ কোটি ৫০ লাখ টাকার এই প্রকল্প আগামী বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্পটি সম্পর্কে ওয়াসা বলছে, ঢাকা মহানগরীর পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থার সাথে ১৫১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ৪৪টি খাল, ১০টি বক্স কালভার্ট ও বিভিন্ন সংস্থার কয়েক হাজার কিলোমিটার নালা যুক্ত। তবে এই ব্যবস্থার প্রাথমিক অবকাঠামো হচ্ছে খাল। এর মাধ্যমেই বৃষ্টির পানি নদী পর্যন্ত যায়।
ওয়াসা জানিয়েছে, ঢাকা মহানগরীর খালগুলোর মধ্যে ওয়াসার আওতায় ২৬টি খাল আছে। কিন্তু খালগুলোর অধিকাংশই স্থায়ী অবকাঠামোর মাধ্যমে উন্নয়ন করা হয়নি। ফলে বর্ষা মওসুমে অতিবৃষ্টির সময় পানি দ্রুত বের হতে পারে না। ফলে শহরে জলাবদ্ধতা হয়। এ জন্য এসব এলাকায় নতুন ‘ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক’ সম্প্রসারণ ও খালগুলোর উন্নয়নে এ প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে খালগুলো খননের পাশাপাশি প্রশস্ততাও বাড়ানো হবে। খালের তীর উন্নয়ন করে সেখানে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। এতে প্রকল্প এলাকায় বসবাসরত মানুষের পানিবাহিত রোগের স্বাস্থ্যঝুঁঁকি কমবে। এ প্রকল্পের আওতায় ১৬টি খালের ২০ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হবে। রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে ১১ কিলোমিটার এবং ৮ কিলোমিটার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন নালা ও ৭ কিলোমিটার সড়ক খনন করা হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ১৩টি এলাকা জলাবদ্ধতামুক্ত হবে। প্রকল্প এলাকার প্রায় ৫২ লাখ মানুষ বর্ষা মওসুমে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে।
২৯ মাসের এই প্রকল্প অনুমোদনের পরবর্তী এক বছরে (গত জুন) অগ্রগতি মাত্র ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ।
অন্য দিকে ‘হাজারীবাগ, বাইশটেকি, কুর্মিটোলা, মাণ্ডা ও বেগুনবাড়ি খালে ভূমি অধিগ্রহণ এবং খনন, পুনঃখনন’ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয় গত বছরের এপ্রিল মাসে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৩০ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, অধিগ্রহণ করে খননের মাধ্যমে খালের গভীরতা ও প্রশস্ততা বাড়ালে বর্ষা মওসুমে বৃষ্টি ও গৃহস্থালি বর্জ্যসহ পানি সহজেই খাল দিয়ে নদীতে নিষ্কাশিত হবে। ওয়াসা জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা মহানগরীর ৩০ লাখ মানুষ জলজট থেকে রক্ষা পাবে।
প্রকল্প দুটির বাস্তবায়নের ধীরগতি সম্পর্কে জানতে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানিয়েছেন, অচিরেই সংবাদ সম্মেলন করে প্রকল্প দুটির ব্যাপারে জানানো হবে।


আরো সংবাদ