২১ অক্টোবর ২০১৯

মশার ওষুধ কেনায় দুর্নীতি হয়েছে দুই সিটি করপোরেশনেই

-


ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মশার ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে পদে পদে দুর্নীতি হয়েছে বলে মনে করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। কয়েক বছর ধরে দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা গেলেও এ রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে যথাযথ গুরুত্ব দেয়া হয়নি এমন অভিযোগ করে সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলেছেন, অকার্যকর ওষুধ কেনা ও সঠিক কর্মপরিকল্পনা না থাকার পাশাপাশি কীটনাশক কেনার ক্ষেত্রে যথাযথভাবে সরকারি ক্রয়নীতি অনুসরণ না করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
গত বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি কর্মকর্তারা এসব কথা বলেন। ‘ঢাকা শহরের এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। টিআইবির ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার (গবেষণা ও পলিসি) মো: জুলকারনাইন ও মোস্তফা কামাল গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই সিটি করপোরেশন শুধু সাধারণ কিউলেপ মশাকে লক্ষ্য করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের অন্যতম উপায় হচ্ছে উৎস নির্মূল। কিন্তু চলতি বছর ব্যাপক প্রাদুর্ভাবের আগে এডিস মশার উৎস নির্মূলে কোনো কার্যক্রম নেয়া হয়নি। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা, জৈবিক ব্যবস্থাপনা, রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ ও যান্ত্রিকÑ এই চারটি পদ্ধতির প্রয়োজন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন শুধু রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। দেশে ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থাকলেও অন্য তিনটি পদ্ধতি করপোরেশনের পরিকল্পনায় ও বাজেটে রাখা হয়নি। এ ছাড়া কীটনাশক নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গবেষণা আমলে না নিয়ে একই কীটনাশক বারবার কেনা হয়। দুই সিটির মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে উত্তর সিটি করপোরেশনের কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে ওষুধ কিনেছে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
মশার ওষুধ ক্রয়ে দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা সিটি করপোরেশন সরকারি প্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডকে প্রতি লিটার কীটনাশক ৩৭৮ টাকায় সরাসরি ক্রয়ের কার্যাদেশ দেয়। এতে করে প্রতি লিটার কীটনাশক ক্রয়ে ১৬১ টাকা করে ক্ষতি হয়েছে। সংস্থাটি লিমিট অ্যাগ্রো প্রোডাক্ট নামে যে প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এই কীটনাশক কেনে, সেই একই প্রতিষ্ঠান উত্তর সিটি করপোরেশনের উন্মুক্ত দরপত্রে প্রতি লিটারের দাম ২১৭ টাকা প্রস্তাব করে। এই হিসাবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কীটনাশক ক্রয়ে ৪০ শতাংশ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের সমালোচনা করে প্রতিবেদনে বলা হয়, সক্ষমতার ঘাটতির কারণে স্বাস্থ্য অধিদফতর কেবল রাজধানীর সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ৪১টির তথ্য সঙ্কলন করে। রোগ নির্ণয় কেন্দ্রগুলো থেকে পরীক্ষায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত, অথচ হাসপাতালে ভর্তি হয়নি- এমন রোগীদের তথ্য সঙ্কলন করা হয়নি। অথচ ঢাকার বেসরকারি ছয় শতাধিক হাসপাতাল ও প্রায় এক হাজার রোগ নির্ণয় কেন্দ্র রয়েছে। হাতেগোনা কয়েকটি হাসপাতালের খণ্ডিত পরিসংখ্যান দিয়ে অন্যান্য দেশের ডেঙ্গু আক্রান্তের হারের সাথে তুলনা করে ডেঙ্গুর মাত্রা কমিয়ে দেখানো হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ডেঙ্গু একটি বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিক্ষিপ্তভাবে লোক দেখানো অকার্যকর কার্যক্রম গ্রহণ এবং সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনের মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা, অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ডেঙ্গু সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

 


আরো সংবাদ