২১ অক্টোবর ২০১৯

তেজগাঁও এলাকায় তিন শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

-

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে শ্রমিক লীগের আঞ্চলিক কার্যালয়সহ রাস্তা ও ফুটপাথ দখল করে গড়ে ওঠা তিন শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ও অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। ডিএনসিসির দুই ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এ অভিযানে কারওয়ান বাজারে ফুটপাথ দখল করে গড়ে তোলা জাতীয় শ্রমিক লীগের তেজগাঁও থানার ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়টি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।
ডিএনসিসি জানায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে কারওয়ান বাজারের ফুটপাথ ও সড়কের অবৈধ স্থাপনা অপসারণে ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম এবং সাজিদ আনোয়ারের নেতৃত্বে অভিযান চলে। ওই এলাকায় রাস্তা ও ফুটপাথ দখল করে বিভিন্ন অবকাঠামো, টংদোকান, আড়ত প্রভৃতি গড়ে উঠেছিল। অভিযান চালিয়ে অবকাঠামোগুলো গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। টংদোকান ও আড়ত অপসারণ করা হয়। এ সময় ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, সারা দিন কারওয়ান বাজারসহ ফার্মগেট পুলিশ বক্স থেকে বিজয় সরণি, পান্থপথ সিগন্যাল থেকে সোনারগাঁও ফোয়ারা, জাহাঙ্গীর টাওয়ার থেকে এফডিসি রেলগেট, হলিক্রস কলেজ থেকে তেজগাঁও রেলগেট, তেজগাঁও রেলস্টেশন রাস্তার দুই পাশের ফুটপাথ, জনতা টাওয়ার থেকে পেট্রোবাংলা, ঢাকা ওয়াসার বাইলেন রাস্তার এক পাশের ফুটপাথ, প্রথম আলো ভবনের দক্ষিণ পাশের ফুটপাথ, ডিআইটি মার্কেট থেকে বিটিএমসি ভবন পর্যন্ত, ইন্দিরা রোড থেকে টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠ, ইন্দিরা রোড বাইলেন রাস্তা এবং গ্রিন রোড সিগন্যাল থেকে ফার্মভিউ সুপারমার্কেট এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চলে।
অভিযানকালে উপস্থিত থাকা ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, কারওয়ান বাজারের এই রাস্তাগুলো অনেক প্রশস্ত। অবৈধ দখলমুক্ত করা গেলে ফার্মগেট থেকে রেলক্রসিংয়ের পাশ দিয়ে কারওয়ান বাজারে যাতায়াতের পথ প্রশস্ত হবে। এতে ওই এলাকার যানজটও কমবে।
ফুটপাথ ও সড়কের ওপর কোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা রাখতে দেয়া হবে না। জনগণের ট্যাক্সের টাকা খরচ করে এসব রাস্তা ও ফুটপাথ নির্মাণ করা হয়েছে। জনগণ কোনো অবস্থাতেই চায় না এসব রাস্তা ও ফুটপাথ অবৈধ দখলদারদের হাতে চলে যাক। ফুটপাথ ও রাস্তা দখল করার কারণে জনগণ অনেক কষ্ট করেন, দুর্ভোগ পোহান। মরহুম মেয়র আনিসুল হক তেজগাঁও সড়কটিকে ট্রাক-কাভার্ডভ্যানের দখল থেকে মুক্ত করেছিলেন। কারওয়ান বাজারের এ রাস্তাগুলো অবৈধ দখলমুক্ত করা গেলে খুব সহজেই এ অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা আরো সহজ হবে।
মেয়র বলেন, ফুটপাথ ও সড়ক দখল করে জনগণকে দুর্ভোগে রেখে কোনো ধরনের বাণিজ্য করতে দেয়া হবে না। কারওয়ান বাজারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হবে বলে তিনি জানান। উদ্ধার ফুটপাথ ও সড়ক আবারো যাতে দখল হয়ে না যায়, সে জন্য গণমাধ্যম এবং জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন মেয়র।
আতিকুল ইসলাম বলেন, পুনরুদ্ধার ফুটপাথ ও সড়ক দখল হওয়া থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে রাজধানীর খিলক্ষেতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল হামিদ মিয়া এবং জুলকারনাইনের নেতৃত্বে অভিযান চলে। ওই এলাকার ফুটপাথ ও রাস্তা থেকে ছয় শতাধিক অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

 


আরো সংবাদ