১৫ নভেম্বর ২০১৯

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দরকার সমন্বিত মশক ব্যবস্থাপনা

-

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সমন্বিত মশক ব্যবস্থাপনা জরুরি। এ ছাড়া মশা নিয়ন্ত্রণে কাজ করা সব সংস্থার প্রতিনিধি নিয়ে ‘সমন্বিত মশা নিয়ন্ত্রণ গবেষণা কেন্দ্র’ স্থাপন প্রয়োজন। রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা ছাড়াও মশা নিয়ন্ত্রণে জৈবিক, পরিবেশগত এবং যান্ত্রিক ব্যবস্থাপনায় জোর দিতে হবে। গত শনিবার ‘মশা নিয়ন্ত্রণ ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব সুপারিশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো: তাজুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো: আতিকুল ইসলাম।
মো: তাজুল ইসলাম বলেন, এপ্রিল মাস থেকে মশা ও জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণের জন্য সভা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার চেষ্টার পরও মশা দেশের মানুষের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে সমন্বিত মশক ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মশক নিয়ন্ত্রণে অনেকটা সফল হয়েছি। এই কাজ আরো বেগবান করা হবে।
আতিকুল ইসলাম জানান, বিক্ষিপ্তভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ হয় এ দেশে। একটি সিন্ডিকেটকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার জন্য দীর্ঘ দিন মশার ওষুধ আমদানি বন্ধ রাখা হয়। গুটিকয়েক কোম্পানিই শুধু মশার ওষুধ আনতে পারত। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ বিভাগ এই কাজ করেছে। ওই বিভাগের অসাধু এসব কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় আনা জরুরি। তিনি বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে বছরব্যাপী কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ওষুধের সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়া হয়েছে। মশা নিয়ন্ত্রণে চতুর্থ প্রজন্মের ওষুধ ব্যবহারের চিন্তা করা হচ্ছে।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানিয়েছেন, এখন ডেঙ্গু নিয়ে বিপদ কেটে যাচ্ছে। গত আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এটা সবচেয়ে বেশি ছিল এবং এরপর থেকেই এটা নামতে শুরু করেছে। এটা কিন্তু বেশ ধারাবাহিকভাবেই নামছে। সে কারণে আমরা আশঙ্কা করছি না যে, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আবার বৃদ্ধি পাবে। আগের বছরগুলো পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে সেপ্টেম্বর মাসেই দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি ছিল। আর এবার সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু প্রকোপ কমছে।


আরো সংবাদ