২১ অক্টোবর ২০১৯

বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুর হার বেশি

-

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, চলতি বছরে ৮৬ হাজার ১৫৫ জনের মধ্যে ঢাকার ১২টি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ২৭ হাজার ৮৮৩ জন, ২৯টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৮ হাজার ৭৮২ জনসহ ঢাকা মহানগরীতে মোট চিকিৎসা নিয়েছেন ৪৬ হাজার ৬৬৫ জন।
ডেঙ্গু চিকিৎসা বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি হাসপাতালে সাধারণ, দরিদ্র মানুষ থেকে শুরু করে যে কেউ চাইলেই এসে ডেঙ্গুর পরীক্ষা করাতে পেরেছেন, পরীক্ষাতে ডেঙ্গু পজিটিভ এলে তারা ভর্তি হয়েছেন। তবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে অনেকেরই আইসিইউ ট্রিটমেন্ট দরকার হয়েছে এবার। আর আইসিইউ আসলে ঢাকাতে বেশির ভাগই বেসরকারি পর্যায়ে। যারা এবারে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ক্রিটিক্যাল অবস্থানে ছিলেন, তাদের বেশির ভাগই বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা নিয়েছেন। আর যখন ক্রিটিক্যাল রোগী আইসিইউতে গেছে, তখন সেখানে মারা যাওয়ার রিস্কও বেশি ছিল।
ঢাকার ১২টি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতাল থেকে পাঠানো ৮১টি মৃত্যুর মধ্যে ৩০টি মৃত্যু পর্যালোচনা করে ১৬টি মৃত্যু ডেঙ্গুতে হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আইইডিসিআরের ডেথ রিভিউ কমিটি। এর মধ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাঠানো ৪০টি মৃত্যুর মধ্যে ১৩টি মৃত্যু পর্যালোচনা করে পাঁচটি, ঢাকা শিশু হাসপাতাল থেকে পাঠানো ১১টি মৃত্যুর মধ্যে চারটি মৃত্যু পর্যালোচনা করে চারটি, বিএসএমএমইউ থেকে পাঠানো তিনটি মৃত্যুর মধ্যে দু’টি মৃত্যু পর্যালোচনা করে দু’টি, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাঠানো ১৫টি মৃত্যুর মধ্যে ছয়টি মৃত্যু পর্যালোচনা করে তিনটি, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে পাঠানো দু’টি মৃত্যুর মধ্যে দু’টি পর্যালোচনা করে দু’টি মৃত্যুর ঘটনা রয়েছে।
অন্য দিকে, ঢাকার ২৯টি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে পাঠানো ১০২টি মৃত্যুর ঘটনার মধ্যে ৮১টি মৃত্যু পর্যালোচনা করে ৫৫টি মৃত্যু ডেঙ্গুতে হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ডেথ রিভিউ কমিটি। এর মধ্যে বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাঠানো তিনটি মৃত্যুর মধ্যে দু’টি মৃত্যু পর্যালোচনা করে একটি, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল থেকে পাঠানো ১১টি মৃত্যুর মধ্যে সাতটি পর্যালোচনা করে পাঁচটি, বারডেম হাসপাতাল থেকে পাঠানো চারটির মধ্যে দু’টি মৃত্যু পর্যালোচনা করে একটি, ইবনে সিনা হাসপাতাল থেকে পাঠানো সাতটি মৃত্যুর মধ্যে পাঁচটি পর্যালোচনা করে তিনটি, স্কয়ার হাসপাতাল থেকে পাঠানো ১২টি মৃত্যুর ঘটনা ১২টি পর্যালোচনা করে ১২টি, শমরিতা হাসপাতাল থেকে পাঠানো দু’টি ঘটনার মধ্যে দু’টি পর্যালোচনা করে একটি, মিরপুরের ডেলটা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সেন্ট্রাল হাসপাতাল, হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতাল থেকে পাঠানো একটি করে মৃত্যুর ঘটনা পর্যালোচনা করে একটি করে ডেঙ্গু আক্রান্ত মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া গ্রিন লাইফ মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাঠানো চারটি ঘটনার মধ্যে চারটি পর্যালোচনা করে একটি, কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল থেকে পাঠানো ছয়টি ঘটনার মধ্যে চারটি পর্যালোচনা করে তিনটি, ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে পাঠানো আটটি ঘটনার মধ্যে সাতটি পর্যালোচনা করে ছয়টি, অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে পাঠানো পাঁচটি ঘটনার মধ্যে পাঁচটি পর্যালোচনা করে পাঁচটি, ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে পাঠানো চারটি ঘটনার মধ্যে চারটি পর্যালোচনা করে চারটি, বিআরবি হাসপাতাল থেকে পাঠানো সাতটি ঘটনার মধ্যে সাতটি পর্যালোচনা করে তিনটি, আজগর আলী হাসপাতাল থেকে পাঠানো সাতটি ঘটনার মধ্যে পাঁচটি পর্যালোচনা করে চারটি, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাঠানো তিনটি ঘটনার মধ্যে একটি পর্যালোচনা করে একটি এবং অন্যান্য মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে পাঠানো ৯টি মৃত্যুর মধ্যে পাঁচটি পর্যালোচনা করে দু’টি মৃত্যু ডেঙ্গুতে হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিউটের ডেথ রিভিউ কমিটি।
বেসরকারি হাসপাতালে কেন মৃত্যু বেশি, সে সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের সভাপতি অধ্যাপক ডা: রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, সরকারি হাসপাতালে প্রথম থেকেই একটি গাইডলাইনের ভেতর দিয়ে চিকিৎসকরা গেছেন, সেখানে তাদের ( চিকিৎসক) নিজস্ব কোনো চিকিৎসা দেয়ার সুযোগ ছিল না। তারা নির্দিষ্ট প্রটোকল মেনে কাজ করেছেন, আর এর ঘাটতি ছিল বেসরকারি হাসপাতালে। সেসব হাসপাতালে সবসময়ের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও উপস্থিত থাকেন না। আর বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়া রোগীদের বেশির ভাগই ‘সিরিয়াস’ অবস্থায় গেছেন। সেখানে সিরিয়াস রোগীদের চিকিৎসার যে প্যাটার্ন তাতে কিছুটা ঘাটতি থাকতে পারে।
বর্তমানে ভর্তি হওয়া এবং আক্রান্ত হওয়া রোগীর মৃত্যুর সংখ্যাও ঢাকার তুলনায় ঢাকার বাইরে অনেক বেশি।

 


আরো সংবাদ