২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

অক্সিজেন ভাণ্ডার এখন বিষাক্ত গ্যাসের খনি

অক্সিজেন ভাণ্ডার এখন বিষাক্ত গ্যাসের খনি - ছবি : সংগৃহীত

জ্বলছে পৃথিবীর ফুসফুস! আমাজনের বৃষ্টিচ্ছায় অরণ্য, যা কিনা পৃথিবীতে অক্সিজেনের জোগানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেয়, সেখানে হঠাৎ করেই দাবানল। গোটা জঙ্গল ঢেকে গেছে কালো ধোঁয়া, কার্বন মনোক্সাইডের বিষাক্ত গ্যাসে। ব্রাজিলের সাও পাওলোয় দিনেই নেমে এসেছে রাতের আঁধার। সবুজ চাঁদোয়ার নিচে দাউদাউ জ্বলছে আগুন। বহু বড় গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা। সেইসঙ্গে বিপন্ন আমাজনের জঙ্গলের বন্যপ্রাণীরাও।

জঙ্গলে দাবানল নতুন কোনও ঘটনা নয়। ইউরোপের বহু অরণ্য গ্রীষ্মকালে দাবানলের কোপে পড়ে। তা নেভাতে হিমশিম খেতে হয় দমকল কর্মীদের। কিন্তু আমাজনের জঙ্গলে এত বড় অগ্নিকাণ্ডে কার্যত আতঙ্কিত ব্রাজিলবাসী। সাও পাওলোর চেহারা তাঁদের দিশেহারা করে দিচ্ছে। অনেকেই ব্রাজিল সরকারের অরণ্য নীতিকে দুষছেন। সেখানকার পরিবেশ গবেষক আলবার্তো সেটজারের কথায়, ‘শুষ্ক আবহাওয়া সবসময়েই আগুন ছড়াতে সাহায্য করে। সেটা প্রকৃতির নিয়ম। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আগুন লাগার পিছনে সবসময়েই মানুষের হাত আছে। সে দুর্ঘটনাবশতই হোক বা ইচ্ছাকৃত।’

সাও পাওলো শহরের অনেকটা জুড়ে রয়েছে আমাজন জঙ্গল। পরিবেশবিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, জঙ্গলের জমি বেআইনিভাবে সাফ করে চাষযোগ্য করে তুলছেন অনেকে। যাতে ব্রাজিল সরকারও কোনো আপত্তি করছে না। এর জেরেই ভূমিক্ষয়ের আশঙ্কা বাড়ছে, আলগা হচ্ছে বড় গাছের শিকড়। যা খুব দ্রুতই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের বড় কারণ হয়ে উঠবে। যদিও পরিবেশবিদদের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারো। যিনি আবার জঙ্গল কেটে কৃষিকাজের পক্ষে বলেই দেশবাসীর কাছে পরিচিত। আর এই সুযোগেই সাধারণ মানুষ আমাজনের বিপদ বাড়াচ্ছেন বলে মত পরিবেশবিজ্ঞানীদের।

এমনিতেই বিশ্ব উষ্ণায়নের অভিশাপে ভুগছে গোটা পৃথিবী। পৃথিবীর এতটা অংশজুড়ে গড়ে ওঠা আমাজনের বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল এতদিন তার কোপে ততটা না পড়লেও, এই দাবানল আর ঠেকাতে পারল না। এরপর আমাজনের প্রকৃতিও নষ্ট হতে থাকবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে। এতদিন যে বিশুদ্ধ অক্সিজেন সরবরাহ করত গোটা পৃথিবীকে, তা এখন কার্যত কার্বন-ডাই-অক্সাইডের খনিতে পরিণত হয়েছে। এনিয়ে উদ্বেগের শেষ নেই। প্রেসিডেন্টের এই অরণ্যনীতির জন্য ইতিমধ্যেই বহু সমালোচিত তিনি।


আরো সংবাদ