১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

জেল পালানো আসামীরা স্বেচ্ছায় ফিরল জেলখানায়

স্বেচ্ছায় জেলখানা ফিরে নাম এন্ট্রি করছেন বন্দীরা - ছবি : এএফপি

জেলখানা থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর আবার সাজার মেয়াদ পূর্ণ করতে স্বেচ্ছায় ফিরেছেন ২৭০ জনেরও বেশি কারাবন্দী- যাদের মধ্যে আছেন হত্যা মামলায় অভিযুক্তরাও। ঘটনা ইন্দোনেশিয়ার। দেশটির পাপুয়া প্রদেশে সহিংস সঙ্ঘাতের সময় জেলখানা থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন অনেক বন্দী। তাদের মধ্যে প্রায় তিন শ’জন আবার কারাগারে ফিরে গেছেন সাজার মেয়াদ পূর্ণ করতে। দেশটির এক কারা কর্মকর্তা জানিয়েছেন এ তথ্য।

তিনি আরো জানান, ওই বন্দীরা যে শুধু ফিরে এসেছেন তাই নয়। তারা জেল কর্তৃপক্ষকে ভেঙে পড়া স্থাপনার বদলে অস্থায়ী একটি অফিস নির্মাণেও সাহায্য করেছেন।

সপ্তাহের শুরুতে ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া প্রদেশে সহিংস সঙ্ঘাতের যে ঘটনা ঘটেছে তার আচ লেগেছিল স্থানীয় জেলখানাতেও। সোরং শহরের জেলখানার পাশ্ববর্তী সড়কে বিক্ষোভ করার সময় বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি ভবনে আগুন দেয়। এতে জেলখানার একটি ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এসময় প্রায় তিন শ’ বন্দী জেলখানা থেকে পালিয়ে যায়। কিন্তু তাদের বেশিরভাগেই আবার ফিরে এসেছেন জেলখানায়।

ইলি ইউজার নামের জেলখানার এক কর্মকর্তা শুক্রবার সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘তারা আসলে পালাতে চায়নি। ভবনে আগুন লাগার পর নিজেদের বাঁচাতে তারা সেখান থেকে বেড়িয়ে যায়। পাশাপাশি এই বিক্ষোভের কারণে তারা তাদের পরিবার নিয়েও চিন্তিত ছিলো। স্বেচ্ছায় আবার ফিরে আসাদের মধ্যে হত্যা মামলার আসামীও রয়েছে।’

জেলখানা থেকে আসামীরা পালিয়ে যাওয়ার পরই সোরং ও আশাপাশের এলাকায় জোর তল্লাশি শুরু হয়। তবে বেশির ভাগই স্বেচ্ছায় ফিরে আশায় কর্তৃপক্ষ অনেকটাই স্বস্ত্বিতে। যদিও বেশ কিছু আসামী ফিরে আসেনি।

কিন্তু কেন তারা ফিরলেন আবার জেলখানায়- বিশেষ করে যেখান ইন্দোনেশিয়ার জেলখানাগুলোর অবস্থা ইউরোপ আমেরিকার মতো অত উন্নত নয়? এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা সব সময় বন্দীদের ভালো রাখার চেষ্টা করি। তারা এটাও জানে যে পালিয়ে যাওয়া কোন সমাধান নয়। এতে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে। তাদের এই শুভ চিন্তাকে আমি স্বাগত জানাই।

কয়েকজন ছাত্রকে গ্রেফতারের ঘটনায় গত সপ্তাহের শেষে ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া অঞ্চলে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তা সহিংসতায় রুপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাও মোতায়েন করা হয় ওই অঞ্চলে। এএফপি


আরো সংবাদ