২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মুসলিমদের প্রতি সহমর্মিতা দেখাতে নিউজিল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন প্রিন্স উইলিয়াম

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে হতাহতদের প্রতি সহমর্মিতা দেখাতে ব্রিটেনের প্রিন্স উইলিয়াম আগামী মাসে নিউজিল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন।

১৫ মার্চ নিহতদের স্মরণে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে আগামী এপ্রিলের শেষ দিকে। এতে ব্রিটেনের সাবেক এই উপনিবেশে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্রতিনিধি হিসেবে আসবেন ডিউক অব দ্য ক্যামব্রিজ প্রিন্স উইলিয়াম। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্নের আমন্ত্রণে তিনি এ সফরে আসবেন। জেসিন্ডা জানান, ওই সন্ত্রাসী হামলায় হতাহত ও ক্রাইস্টচার্চের লোকজনের পাশে যে ব্রিটেন রয়েছে, এই সফর তারই প্রমাণ।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, সফরে হামলায় নিহতদের পরিবার এবং আক্রান্তদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ডিউক উইলিয়াম। নিউজিল্যান্ডের জনগণের সঙ্গে তিনি সংহতি ও সহানুভূতি প্রকাশ করবেন। এতে বলা হয়, এ অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনসহ ৫৯টি দেশের প্রতিনিধিরা এ অনুষ্ঠানে অংশ নিবেন।

 

আরো পড়ুন : ওআইসিতে জেসিন্ডার প্রশংসা করলেন এরদোগান
নয়া দিগন্ত অনলাইন, ২৩ মার্চ ২০১৯, ১১:৫৩

ওআইসির বৈঠকে তুরস্ক সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার পরবর্তী পর্যায়ে যথাযথ অবদান রাখার জন্য নিউজিল্যান্ড সরকার ও প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্নের প্রশংসা করেছে। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুই মসজিদে হামলা এবং তাতে ৫০ জন মুসল্লি নিহত হওয়ার প্রেক্ষিতে ইস্তাম্বুলে গতকাল শুক্রবার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ওই বৈঠকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেছেন, ‘সন্ত্রাসী হামলার পরবর্তী সময়গুলোতে মুসলমানের প্রতি যে সহানুভূতি ও সহমর্মিতা দেখিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন। তা সব দেশের নেতাদের আদর্শ হওয়া উচিত।

এরদোগান আরো বলেন, সব ধরনের মানবতা ও ইসলামিক জগতের ভবিষ্যৎকে হুমকি দেয় এমন ঘটনাগুলোর প্রতি উদাসীন হতে পারে না ওআইসি। তাই সবার উচিত ইসলাম বিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই করা।

রজব তাইয়েব এরদোগান তার বক্তৃতায় গোলান মালভূমির ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ইচ্ছার ব্যাপারে কড়া সমালোচনা করেন।

গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় আল নুর ও লিনউড মসজিদে হামলা চালায় ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারেন্ট। অভিবাসী ও মুসলিমদের প্রতি ঘৃণা থেকেই তিনি ভয়াবহ ওই হামলা চালিয়েছেন। হামলার পরপরই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, তাকে সর্বোচ্চ শাস্তিই প্রদান করা হবে। আপাতত ৫ এপ্রিল পর্যন্ত রিমান্ডে থাকছে সে।

ব্রেন্টনের ওই হামলার পর দেশের মানুষ মুসলিমদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। নিউজিল্যান্ডের সরকার কোনোপ্রকার রাখঢাক ছাড়াই মুসলমানদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন যেভাবে বারবার করে হামলার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, মুসলমানদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন, মুসলিম নারীদের সাহস জুগিয়েছেন তা এক কথায় অনন্য। তিনি নিজে মুসলমানদের মতো করে হিজাব পরেছেন, পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু করেছেন পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে, এমনকি পার্লামেন্টে নামাজেরও ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

ওই ঘটনার পর ওআইসির পক্ষ থেকে বিশেষ জরুরি বৈঠকের ডাক দেয়া হয়েছিল। এতে এরদোগান বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াইয়ের আহ্বান জানান।


আরো সংবাদ