২০ অক্টোবর ২০১৯
হুমকির মুখে মাছচাষ

চৌগাছায় মর্জাদ বাঁওড়ে ভরা মওসুমেও পানি নেই

যশোরের মজাদ বাঁওড়ের বর্তমান হাল :নয়া দিগন্ত -

যশোরের চৌগাছায় মর্জাদ বাওড়ে ভরা মওসুমেও পানি না থাকায় মাছচাষ হুমকির মুখে পড়েছে। ফলে বাওড়ের ধারে বসবাসকারী ১৪৫টি মৎস্যজীবী পরিবার দুর্দিনে পড়েছেন। আষাঢ় মাসে বৃষ্টির দেখা মেলেনি তাই বাওড়ের বেশির ভাগ অংশে পানি নেই। ফলে শতশত একর জমি ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাওড় ব্যবস্থাপক আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ বলেন, এ বাওড়ে সরকারি কর্মচারী কর্মকর্তা রয়েছে আটজন এবং দৈনিক হাজিরায় কাজ করেন ১৫ জন শ্রমিক। ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট ১৬ টন প্রস্তুত করা মাছের পোনা অবমুক্ত করা হবে। যার কার্যক্রম ১ জুলাই থেকে শুরু করা হয়েছে। ২ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ২ টন কার্ব জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। তবে বাওড়ে পানি না থাকায় মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আমরা চিন্তিত। ইতোমধ্যে সরকারি দলের সাইনবোর্ড লাগিয়ে জমি দখল নিতে মেতে উঠেছেন অনেকে।
তিনি আরো বলেন, বাওড়টির মোট আয়তন ২৫৩ হেক্টর এবং লম্বা ১০ কিলোমিটার। ভরা মওসুমে বৃষ্টি না হওয়ায় প্রায় ১০০ হেক্টর মূল জলাকার এবং ৪ কিলোমিটার লম্বা অংশে কোনো পানি নেই। যে অংশে পানি রয়েছে তার মধ্যে প্রায় ৫০ হেক্টর জলকার আবার কচুরি পানায় ভর্তি। ফলে মাছের বিচরণ ভূমি কমে এসেছে। যার ফলে ২০১৯-২০ অর্থবছরে মাছের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পোনা অবমুক্ত করা হয় ১৬ টন। উৎপাদন হয় কার্ব জাতীয় মাছ ৯০ টন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪২ লাখ টাকা ও রানি মাছ উৎপাদন হয় ৪৫ টন যার মূল্য ৯০ লাখ টাকা।
মৎস্যজীবী সমিতির সদস্য দেবেন হালদার, লক্ষণ হালদার, মহাদেব, সনতোষ, নরউত্তম, গকুল, কৃষ্ণ, জয়গোপাল ও নিমাই হালদার জানান, মর্জাদ বাওড়টি ঘিরে ১৫টি দলের মর্জাদ-নলভাঙ্গা মৎস্যজীবী সমিতি নামে একটি সংগঠন রয়েছে। বাওড়ের ধারে বসবাসকারী চৌগাছা উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের পাতিবিলা, হায়াতপুর, তেঘরী, মুক্তদহ, জগদিশপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর, কান্দি, হাকিমপুর ইউনিয়নের হাজীপুর, কালিগঞ্জের কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের মর্জাদ, নলভাঙ্গা ও হাওলী গ্রামের ১৭০টি পরিবার এখান থেকে মাছ ধরে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। এ দিকে ভূমিদস্যুরা বাওড়ের শুকনা জমি সরকারি নিয়ম-কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দখল করে ধান, পাট, মিষ্টি কুমড়া, ভেন্ডি, লাউ, বেগুন ও শিমসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করছে। তাদের এ কাজে বাধা-নিষেধ করতে গিয়ে বাওড়ের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েক বার সালিস-দরবারও হয়েছে। হায়াতপুর গ্রামের মৎস্যজীবী সমিতির সদস্য বিশারত আলী তার লোকজন নিয়ে বাওড়ের কয়েক হেক্টর জমি দখল করেছে। এলাকাবাসী জানান, আওয়ামী লীগ নেতা বিশে গলাছেড়ে বলেছেন আমার কাজে বাধা দিয়ে কোনো লাভ হবে না।
মৎস্যজীবী দলপতি অনিল হালদার, অন্তা ও সুকুমার জানান, আমাদের আশঙ্কা বাওড়ের শত শত একর জমি ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাবে। যে বাওড়ে উৎপাদিত মাছ বিক্রি করে সরকার প্রতি বছর প্রায় কোটি টাকা আয় করে থাকে। তারা আরো বলেন, শুকিয়ে যাওয়া বাওড়ের জমি দখল মুক্ত করে পুনঃখনন করে তার নাব্যতা ফিরিয়ে আনলে সরকার লাখ লাখ টাকা বাড়তি আয় করতে পারবে। সে সাথে ১৭০টি মৎস্যজীবী পরিবারের জীবন জীবিকার ব্যবস্থা হবে।
চৌগাছা উপজেলার মুক্তদহ গ্রাম থেকে শুরু করে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের কাষ্টভাঙ্গা গ্রাম পর্যন্ত বাওড়টির বেশির ভাগ অংশের পানি শুকিয়ে গেছে। ভরা বর্ষা মওসুমে এ অংশে পানি নেই। বাওড়ের শুকনা অংশে এলাকার সাধারণ মানুষ গরু-ছাগল চরাই। শুকনা জমির বুকে সবুজ গালিচায় অনেক সময় এলাকার কিশোর-যুবকরা ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলা করে। এ সব সরকারি জমি দখল করতে ভূমিদস্যুরা মরিয়া। বাওড়ের জমি দখলমুক্ত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী।


আরো সংবাদ