২৩ আগস্ট ২০১৯

মাদারীপুরে পদ্মা নদীর ভাঙনে অর্ধশত ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত চরাঞ্চলজুড়ে আতঙ্ক

-

পদ্মা নদীতে অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় মাদারীপুর জেলার শিবচরের চরাঞ্চলের ৩টি ইউনিয়নে নদীভাঙন আগ্রাসী রূপ ধারণ করেছে। ভাঙনের ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেয়ে অর্ধশত ঘরবাড়ি, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে ভবনসহ ৫টি স্কুল, ২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রÑ কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন হাটবাজারসহ তিন ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হাজারো বসতবাড়ি। ভাঙনকবলিতরা নিরাপদ স্থানে ছুটে যাচ্ছেন। এ দিকে চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর নির্দেশে বুধবার দিনভর নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিশ^জিৎ রায়, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: রফিকুল ইসলামসহ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতৃবৃন্দ। নদীভাঙন প্রতিরোধে এখনো পানি উন্নয়ন বোর্ড বা কোনো সংস্থা কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় চরাঞ্চলজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সরেজমিন জানা যায়, চার দিন ধরেই পদ্মা নদীর শিবচর অংশে পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে উপজেলার চরাঞ্চল বন্দরখোলা, চরজানাজাত, কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নে নদীভাঙনের ব্যাপকতা বেড়েছে। ভাঙনে আক্রান্ত হওয়ায় অন্যত্র সরে গেছে অন্তত অর্ধশত ঘরবাড়ি। ভাঙনের প্রকোপ বাড়ায় ক্ষতিগ্রস্তরা পরিবারের সদস্য, গবাদিপশু, বসতঘর নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পাড়ি দিচ্ছেন। ভাঙন মুখে পড়েছে শত শত ঘরবাড়ি হাজারো পরিবার। শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। বন্দরখোলার কাজীরসুরা তাহফীজুল কুরআন গোরস্থান মাদরাসার স্থানান্তরের কাজ চলার সাথে সাথে ভাঙন মুখে পড়েছে তিনটি স্কুল ভবনসহ পাঁচটি স্কুল। নদীভাঙনের মুখে রয়েছে ২৬ নম্বর বন্দরখোলার কাজীরসুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪৪ নম্বর মাগুরখণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩০ নম্বর পূর্ব খাস বন্দরখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৭২ নম্বর নারিকেল বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভাঙনের মুখে পড়ায় বন্দরখোলার নুরুউদ্দিন মাদবরেরকান্দি মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের তিনতলা ভবন থেকেও মালামাল সরিয়ে নেয়া শুরু হয়েছে। এ ছাড়াও চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। এ ছাড়াও বন্দরখোলার ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, কমিউনিটি ক্লিনিক ভবন, সুরার হাটের ৮০টি দোকান, চরজানাজাতের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রসহ ৩ ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ হাজারো বসতবাড়ি, হাজারো বিঘা জমি চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
চরজানাজাত ইউপি চেয়ারম্যান রায়হান সরকার বলেন, গত বছর পদ্মা নদীর ভাঙনে আমার এলাকাসহ চরাঞ্চলের তিন ইউনিয়নে ব্যাপক ভাঙনে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ বছরও ভাঙনে অনেক মানুষ গৃহহীন হয়েছে। পানি বৃদ্ধির গতি বেশি থাকায় যে যেভাবে পারছে, নিরাপদ স্থানে যাচ্ছে।
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান বলেন, আধুনিকতার ছোঁয়া পাওয়া চরাঞ্চল পদ্মা নদীর ভাঙনে গ্রাস হয়ে যাচ্ছে। চিফ হুইপ স্যার নূর-ই-আলম চৌধুরীর নির্দেশক্রমে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক পরিদর্শন করছি। আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে রয়েছি। ত্রাণতৎপরতা শিগগিরই শুরু করা হবে। শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

 


আরো সংবাদ