২৫ আগস্ট ২০১৯

কুষ্টিয়া ইকো পার্ক উন্নয়নে অনিয়মের অভিযোগ ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ

-

কুষ্টিয়া ইকো পার্কের উন্নয়নের জন্য পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দকৃত অর্থ অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেনের বিরুদ্ধে। আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত করছে বিভাগীয় কমিশনার অফিস। অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নিশ্চিন্ত কুমার পোদ্দার (উন্নয়ন) গত ৯ জুলাই কুষ্টিয়া এসে সরেজমিন পার্কের কাজসহ বিষয়টি তদন্ত করে গেছেন। সার্কিট হাউজে বসে কথা বলেন জেলা প্রশাসকসহ অন্যদের সাথে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান হাবিব। হাসান হাবিবের বিরুদ্ধেও এ অনিয়মের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে জানা যায়।
তবে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেন জানান, কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। প্রথমে ৯০ লাখ টাকা কয়েকটি ইকো পার্কের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। পরে কুষ্টিয়া-৪ আসনের এমপি মন্ত্রণালয়ে চিঠির মাধ্যমে এ অর্থ দিয়ে কুঠিবাড়ির উন্নয়নের অনুরোধ করেন। পরে মন্ত্রণালয় থেকে শুধুমাত্র কুঠিবাড়ির উন্নয়নের নির্দেশ দেয়া হয়। অখ্যাত কয়েকটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার বিষয়ে মন্ত্রণালয় আপত্তি জানায়। পরে সেটি বাতিল করা হয়েছে। তবে নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়নি এখনো। তবে অনেক আগের রেট থাকায় ঠিকাদাররা লোকসানের ভয়ে দরপত্র ফেলছে না। দু’জন ঠিকাদার দরপত্রে অংশ নিয়েছে।’ এ দিকে পর্যটন মন্ত্রণালয় আর্থিক অনিয়ম, অদক্ষতা ও কাজে অবহেলার বিষয়টি আমলে নিয়ে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসনকে শোকজ করেন।
একটি সূত্র জানিয়েছে, পর্যটনের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে সাবেক জেলা প্রশাসক জহির রায়হান একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেন। সেই মোতাবেক মন্ত্রণালয় থেকে ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে তিনটি ইকো পার্কের উন্নয়নের জন্য প্রথমে একটি চিঠি পাঠানো হয়। এরপর বদলি হয়ে যান জেলা প্রশাসক মো: জহির রায়হান। পরে জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগ দেন মো: আসলাম হোসেন। তিনি ইকো পার্কের উন্নয়নের জন্য একটি রূপরেখা তৈরি করে টেন্ডার আহ্বানসহ কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেন। এর মধ্যে কিছু টাকা খরচও হয়। তবে এ অর্থ শুধুমাত্র কুঠিবাড়ির উন্নয়নে খরচ করার জন্য বলা হলেও অন্য ইকো পার্কে খরচ করা হয়। কুঠিবাড়ি ছাড়া যেসব ইকো পার্কে অর্থ খরচ করা হয়েছে সেখানে কোনো লোকসমাগম হবে না জানিয়ে এ অর্থ অপচয় হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কুঠিবাড়িতে দর্শনার্থীদের ওয়াস বক্স, বসার বেঞ্চ ও ছাতা নির্মাণসহ নানা কাজের ব্যয়ের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেয়া হয়। কুঠিবাড়িতে কাজ করার জন্য ডিও দেন স্থানীয় এমপি সেলিম আলতাফ জর্জ। তার ডিও পেয়ে মন্ত্রণালয় আরেকটি চিঠি প্রেরণ করেন। তার আগে কিছু অর্থ ব্যয় করা হয়। তবে অনিয়ম হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। এর আগেও মন্ত্রণায়লয়ের দু’জন যুগ্মসচিব বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করেছেন। তারা আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
অনিয়মের অভিযোগ ওঠার কারণে মন্ত্রণালয় থেকে কাজ শুরুর নির্দেশ দেয়া হচ্ছে না। এ দিকে কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের গড়াই নদীর তীরে বালুর চরে একটি ইকো পার্কের উন্নয়নের কাজ চলছে। সেখানে সড়ক নির্মাণ, বেঞ্চ ও ছাতা নির্মাণের জন্য ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সাড়ে ৪ লাখ টাকা ছাড় করা হয়েছে। কাজ শেষে ঠিকাদার চূড়ান্ত বিল নেয়ার জন্য চেষ্টা করছে। জেলা নাজির জানান, কয়া পার্কের জন্য সাড়ে ৪ লাখ টাকা অগ্রিম বিল দেয়া হয়েছে। বাকি বিল এখনো ঠিকাদারকে দেয়া হয়নি। কিছু সমস্যা হওয়ায় কুঠিবাড়ির আগের টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। নতুন করে কোনো ঠিকাদারকে ওয়ার্ক অর্ডার দেয়া হয়নি। কুমারখালী কুঠিবাড়ির কাস্টোডিয়ান মুখলেসুর রহমান জানান, আমি টেন্ডার কমিটির সদস্য। তবে টেন্ডারের বিষয়ে কিছু জানি না। খুলনা থেকে তদন্ত টিম এসেছিল। সেখানে আমার বক্তব্য জানিয়েছি।’
তদন্ত কমিটির প্রধান নিশ্চিন্ত কুমার পোদ্দার বলেন,‘পর্যটন মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে এখই কিছু বলা যাচ্ছে না। কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ জানান,‘কুঠিবাড়ির উন্নয়নের জন্য একটি ডিও লেটার দিয়েছিলাম। অর্থও বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে কাজ শুরু হয়েছে কি-না জানি না। আমাকে কেউ এ বিষয়ে অবহিত করেনি। কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে মন্ত্রণালয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে। তবে কাজের বিষয়ে সচ্ছতা থাকতে হবে।


আরো সংবাদ