১৯ আগস্ট ২০১৯

প্রবল বর্ষণে বান্দরবান সড়কের ৬৭ কোটি টাকার ক্ষতি

-

গত দুই বছরের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না উঠতেই এ বছর প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সড়কগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর অবস্থা খুবই শোচনীয়। বানের তোড়ে সড়কে পাহাড় ধস সেই সাথে সড়ক দেবে ও ধসে গিয়ে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এক সপ্তাহর বেশি সময় ধরে বান্দরবানের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে সড়ক যোগাযোগ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। বান্দরবান রুমা সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্য দিকে বান্দারবান কেরানীর হাট চট্টগ্রাম সড়কের ওপর দিয়ে বেশ কয়েকটি স্থানে পানি প্রবাহিত হওয়ায় এই সড়কটিতে টানা আট দিন পর সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। সড়কের ওপর থেকে পানি নেমে গেলেও বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া বান্দরবান রুমা, থানচি আলীকদম সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে মাটি ধসে সড়কের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সড়ক বিভাগ জানিয়েছে পাহাড়ি ঢলে তাদের আওতাধীন সড়কগুলোতে ৬৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সড়কগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য মন্ত্রণালয়ের কাছে তারা বরাদ্দ চেয়েছেন। গত বছর প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতির জন্য প্রায় ২২ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হলেও মন্ত্রণালয় থেকে সড়ক সংস্কারে পাওয়া যায় মাত্র সাত কোটি ২৫ লাখ টাকা। এর আগের বছর প্রায় ৪০ কোটি টাকা চাওয়া হলেও মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া যায় মাত্র ১৩ কোটি ছয় চল্লিশ লাখ টাকা। সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন যথাসময়ে সঠিক বরাদ্দ না পাওয়ায় সড়কগুলো পুরোদমে মেরামত করা যাচ্ছে না। অন্য দিকে প্রতি বছরই প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সড়কগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ফলে সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সড়ক বিভাগের রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বান্দরবান সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান চন্দ্রঘোনা ঘাগড়া সড়কে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে এবার সাড়ে ১৯ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সড়কটির ৩৩, ৩৮, ৫৫, ৫৭ ও ৫৯ কিলোমিটার অংশে সোল্ডার ও পেভমেন্ট উঠে ভূমি ধসে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া রামু নাইক্ষ্যংছড়ি চিরিংগা লামা-আলীকদম সড়কে ছয় কোটি করে মোট ১২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আজিজ নগর গজালিয়া সড়কে তিন কোটি টাকা, টঙ্কাবতী বারো আউলিয়া সড়কে এক কোটি টাকা, চেমি ডলু পাড়া, খান হাট, ধোপাছড়ি সড়কে ৫০ লাখ টাকা, বান্দরবান চিম্বুক থানছি আলীকদম বাইশারী ঘুনধুম সড়কে ২৮ কোটি টাকা ও বান্দরবান রোয়াংছড়ি রুমা সড়কে ৩০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে পাহাড়ি ঢল ও বন্যায়। অন্য দিকে বান্দরবানের প্রধান সড়ক কেরানীহাট চট্টগ্রাম সড়কের বাজালিয়া, বুড়ির দোকানসহ বেশ কয়েকটি অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এ সড়কটির মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে এবার। এই সড়কটির সংস্কার ও উঁচুকরণ কাজ সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগ করছে। সড়কটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দীর্ঘ আট দিন ধরে বান্দরবানের সাথে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ছিল। এখনো ওই সড়কটির বাজালিয়া অংশে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে গত অর্থবছরে এই সড়কটির দস্তিদার হাট অংশে উঁচুকরণের ফলে ওই অংশটি এবার পানিতে তলিয়ে যায়নি। এ দিকে বান্দরবন চিম্বুক থানছি সড়কে এবার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সড়কটির সাতটি অংশে পাহাড় ধসে পড়ে ও বলিপাড়া অংশে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ ছিল। এ সড়কটি সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগ সংস্কার কাজ করছে। তবে এবার কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। বান্দরবান সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সজীব আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন এবারের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে সড়ক বিভাগের আওতাধীন সড়কগুলোতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাহাড় ধস, সড়ক দেবে গিয়ে ধসে পড়ায় ও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পুরো বান্দরবানের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সব ক’টি সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক করা যায়নি। সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারে মন্ত্রণালয়ের কাছে ৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এসব সড়ক দ্রুত সংস্কার করা না গেলে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

 


আরো সংবাদ