২০ নভেম্বর ২০১৯

মৌলভীবাজারে বন্যা উপদ্রুত এলাকায় চারা সঙ্কট : হুমকিতে আমন আবাদ

মৌলভীবাজারের বন্যা উপদ্রুত এলাকায় জমি প্রস্তুত হলেও হালি চারা সঙ্কটের কারণে কবে নাগাদ আমন আবাদ শুরু করতে পারবেন তা জানেন না কৃষক হনয়া দিগন্ত   -

মৌলভীবাজারে বন্যা উপদ্রত এলাকায় হালি চারা সঙ্কটে ভুগছেন কৃষকেরা। নাবি জাতের বীজ সরবরাহের সরকারি উদ্যোগ থাকলেও তা এখনো কৃষকের হাতে পৌঁছেনি। কৃষকরা হতাশÑ আমন ধান লাগানোর শেষ সময়ে এসে অনেকেই হালিচারা সঙ্কটে ধান রোপণ করতে পারছেন না। কৃষকেরা জানান, সময় মতো চারা সংগ্রহ করতে না পারলে ক্ষেতের জমি অনাবাদি থাকবে।
বন্যার ক্ষয়ক্ষতি পোষাতে আশায় বুক বেঁধে ক্ষেতে নেমেছেন মৌলভীবাজারের বন্যা দুর্গত এলাকার কৃষকরা। বানের পানি নামার সাথে সাথে শ্রাবণ মাসের শেষের দিকে জমি তৈরি ও হালি চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। কৃষকরা জানান, বানের পানিতে বীজতলা তলিয়ে যাওয়ায় এলাকায় হালি চারার চরম সঙ্কট রয়েছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, হালি চারার সঙ্কট নিরসনে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোতে নাবি জাতের বীজ কৃষকদের মাঝে সরবরাহের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
কৃষকরা জানান, তাদের হাতে নতুন করে বীজতলা তৈরির কোনো বিশেষ জাতের বীজ এখনো পৌঁছেনি। এলাকার জনপ্রতিনিধিরা কৃষকদের সাথে একমত প্রকাশ করেছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসার অধিদফতরের তথ্য মতে জানা গেছে, গত ১৫ জুলাইর বন্যায় মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলার ১০ হেক্টর, রাজনগর উপজেলার ১০ হেক্টর, কমলগঞ্জ উপজেলার ৪ হেক্টরসহ মোট ২৪ হেক্টর বীজতলা বানের পানিতে তলিয়ে গিয়ে নষ্ট হয়। এ সময় পাকা-আধপাকা ৫৬ হেক্টর আউশ ধান তলিয়ে যায়।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার হামরকোনা ও ব্রাহ্মণ গ্রামের রহমত, আছকান মিয়া ও খাজা মিয়া জানান, আমরা কষ্ট করে ধান রোপণের জন্য জমি তৈরি করেছি হালি চারা সঙ্কটের কারণে রোপণ করতে পারছি না। রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের মশাজান কিছন পাড়া ক্ষেতের মাঠে কথা হয় নাছির উদ্দিন ও নাজিম মিয়ার সাথে তারা জানান, চার একর আউশ ধান বানের পানি তলিয়ে নিয়েছে। আউশের ক্ষতি পোষানোর জন্য আশায় আশায় আবার ক্ষেতে নেমেছি, কিন্তু চারা সঙ্কটের কারণে হতাশায় পড়েছি। একই ইউনিয়নের পঞ্চানন্দন পুরের নিদুল দাশ জানান, ‘আমরা কৃষক চাষবাস করে ঘরে ধান তুলি এতে মনের আনন্দ রয়েছে। গত বন্যায় দেড় একর আউশ ধান নষ্ট হয়েছে, তবুও আশায় বুক বেঁধে আবার ক্ষেতে নেমেছি আউশের ক্ষতি পুষানোর জন্য।’
হালি চারার চরম সঙ্কট রয়েছে দূরবর্তী কুলাউড়া উপজেলা থেকে এক কেজি ধানের হালি চারা ৮০০ টাকা দিয়ে এক বিঘা জমিতে রোপণ করেছি। আরো দুই বিঘা জমি চাষ দিয়ে চারা রোপণের জন্য তৈরি করেছি কিন্তু হালি চারার অভাবে পারছি না। এ দিকে ক্ষেতের সময়ও চলে যাচ্ছে। যদি চারা না পাই তাহলে জমি অনাবাদি থাকবে। একই এলাকার অকিল দাশ জানান, চাষবাস ভালোবাসি, তাই ক্ষতি হলেও ধান উৎপাদন করি। নতুবা ক্ষেতের আয়ে পোষানো যায় না। দেরিতে ধান লাগানোর জন্য বিশেষ ধানের বীজ নাবি জাতের বীজ পেয়েছেন কি নাÑ প্রশ্নের উত্তরে সুজিত দাশ জানান, সরকারি সহযোগিতা বা কোনো বিশেষ জাতের বীজ এখন পাইনি। কমলগঞ্জের গোপিনগর, বৃন্দাবনপুর, রুপশপুর এলাকার আব্দুল হান্নান একই সমস্যার কথা জানান। কামারচাক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজমুল হক সেলিম বলেন, নাবি জাতের বীজ সরবরাহে অপ্রতুলতা রয়েছে। বলা হয়েছে তালিকা তৈরির জন্য, কিন্তু কৃষি বিভাগ তালিকা সংক্ষিপ্ত করার কথা বলায় বিপাকে পড়েছি। এখনো কোনো বীজ আসেনি।
রাজনগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা মো: শাহাদুল ইসলাম বলেন, সরকারি উদ্যোগ ও নির্দেশ রয়েছে, নাবি জাতের বীজ সরবরাহের জন্য কিন্তু আমরা এখনো কোনো বীজ পাইনি। পাওয়া মাত্র কৃষকের হাতে পৌঁছে দেবো।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রবীন্দ্র কুমার দে জানান, হালিচারার সঙ্কট সমাধান হবে। বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দেরিতে রোপণ করার মতো নাবি জাতের ধানের বীজতলা তৈরির জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 


আরো সংবাদ