২০ নভেম্বর ২০১৯

কলাপাড়া হাসপাতাল চত্বরে ময়লার স্তূপ

-

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল এখন ডেঙ্গুর ঘর। উপজেলাজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হলেও হাসপাতাল চত্বরে ময়লার স্তূপ করে রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের পুরুষ, মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডের বাথরুমে কয়েক ইঞ্চি পানি জমে আছে। তাতে ভন ভন করছে মশা ও মাছি। শ্যাওলা ধরা বাথরুমের কোনে স্তূপ করে রাখা ময়লা। হাসপাতালের ইনডোর থেকে আউটডোর সর্বত্রই ময়লার স্তূপ। ড্রেন থেকে শুরু করে বাথরুমে তিন চার ইঞ্চি পরিমাণ ময়লা, দুর্গন্ধযুক্ত পানি জমে থাকায় মশা, মাছি ভোঁ ভোঁ করছে। হাসপাতালের বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলার নিয়ম থাকলেও তা স্তূপ করে রাখা হচ্ছে বিক্রির জন্য। রোগীরা নাক চেপে বাথরুমে গেলেও এ ময়লা পরিষ্কারে কোনো উদ্যোগ নেই। এ চিত্র বাইরের। আর ভেতরের চিত্র আরো ভয়াবহ। দুর্গন্ধে রোগীরা অতিষ্ঠ হয়ে প্রতিবাদ করলেই তাদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নার্সরা এ অভিযোগ রোগী ও তাদের স্বজনদের। কলাপাড়া পৌরসভার পক্ষ থেকে হাসপাতালের বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলার জন্য চুল্লি করে দেয়া হলেও সেই চুল্লিটিই যেন ঢেকে দিয়েছে ক্লিনিকাল বর্জ্যতে। এরই মধ্যে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত কুয়াকাটা ২০ শয্যা হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা: আরিফ হোসেন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তাকে চিকিৎসার জন্য বরিশালে প্রেরণ করা হয়েছে।
কলাপাড়া হাসপাতালে ইতোপূর্বে আরো চারজন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। যার মধ্যে সর্বশেষ ভর্তিরত চাকামইয়ার আকলিমা বেগম চিকিৎসার জন্য বরিশালে গেছেন। এ ছাড়াও শহরের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আরো পাঁচজন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে কলাপাড়ায় এখন পর্যন্ত মোট ১০ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত কলাপাড়ায় মোট ২০টি কিট পেয়েছেন। কিট সঙ্কটে আসন্ন কোরবানির ঈদে ঢাকা থেকে আসা কোনো মানুষ ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা নিয়ে সঙ্কটের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কলাপাড়া হাসপাতালের চিকিৎসকেরা।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: জে এইচ খান লেলীন বলেন, জনবল সঙ্কটের অজুহাত এ অব্যবস্থাপনাকে দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর চাপে সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে পারছেন না। তারাও কাজ করছেন। তবে ক্লিনিক্যাল বর্জ্য পুড়িয়ে না ফেলে কেন স্তূপ করে রাখা হচ্ছে সে বিষয়ে কোনো জবাব দেননি
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মুনিবুর রহমান ও পৌরমেয়র বিপুল চন্দ্র হাওলাদার বুধবার (৭ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে এ দুরাবস্থা দেখে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেন। হাসপাতালের ভেতর ও বাইরের এ ময়লা আবর্জনা দ্রুত পরিষ্কার করার নির্দেশ প্রদান করেন। পৌরসভার পক্ষ থেকে ওষুধ ছিটানো ব্যবস্থা করা হয়। পৌরসভার পক্ষ থেকে ক্লিনিকাল বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলার জন্য চুল্লি করে দেয়া হলেও তাতে ময়লা না পুড়ে কেন স্তূপ করে রাখা হচ্ছে?


আরো সংবাদ