২৫ আগস্ট ২০১৯

শঙ্খের ভাঙন আতঙ্কে দক্ষিণ চট্টগ্রামের শতাধিক পরিবার

শঙ্খ নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে পুরানগড় বৈতরণী এলাকা। ইনসেটে ভাঙনের মুখে একটি স্থাপনা : নয়া দিগন্ত -

শঙ্খ নদী ও খালপরিবেষ্টিত দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ সাতকানিয়ায় বোয়ালখালী ও বাঁশখালী উপজেলায় ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে শতাধিক পরিবার। রাত কাটছে তাদের শঙ্কায়। বিশেষ করে শঙ্খ নদী আর বান্দরবানের সুয়ালক খালের মোহনায় অবস্থিত প্রায় অর্ধশত এবং সাতকানিয়ার আমিলাইশ, বোয়ালখালীর জৈষ্টপুরা ও বাঁশখালীর পুকুরিয়ায় শতাধিক পরিবার নদী ও খালের ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। সম্প্রতি ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তীব্রতায় বাঁশখালীর পুকুরিয়ায় ও বোয়ালখালীর জৈষ্টপুরায় বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি নদী ও খালে বিলীন হয়ে গেছে।
এদিকে বর্ষণের কারণে নদী ও খাল দিয়ে তীব্রভাবে ঢলের পানি প্রবাহিত হওয়ায় সাতকানিয়ার আমিলাইশ এলাকায় গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই সাথে শঙ্খ নদীর মোহনায় বান্দরবান পার্বত্য জেলা থেকে সৃষ্ট সুয়ালক খালের সংযোগস্থল বৈতরণী এলাকায় হিন্দু পাড়ার দয়াল সাধু ও মুসলিম পাড়ার মোহাম্মদ ইউসুফের বাড়ির প্রায় অর্ধশত অসহায় কৃষি পরিবার ঝুঁকিতে রয়েছে। সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার শতাধিক পরিবারও নদী ও খালের ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
ভাঙন থেকে নিজেদের বসতবাড়ি জমিজিরাত সহায় সম্বল টিকিয়ে রাখার জন্য বৈতরণীর ভাঙন আতঙ্কে থাকা পরিবারের সদস্যরা ২০১৫ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রাম জোনের প্রধান প্রকৌশলীর বরাবরে আবেদন করেও কোনো ফলাফল পায়নি।
সম্প্রতি ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ভাঙন আরো তীব্র আকার ধারণ করায় ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে রয়েছে এসব ভূমিহীন কৃষি পরিবার। সরেজমিন পুরানগর বৈতরণী গ্রামের দয়াল সাধু ও ইউসুফের বাড়ির প্রায় অর্ধশত পরিবারের বসতবাড়ি ভাঙনের ঝুঁকিতে দেখা গেছে। ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না গেলে ভাঙনে এসব পরিবার সহায় সম্বল হারিয়ে পথে বসবে।
দয়াল সাধুর বাড়ির দয়াল সাধু বলেন, আমরা হিন্দু মুসলিম একই সাথে বসবাস করে আসছি। নদীর ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বহু দেন দরবার করেছি। আমাদের কথা কারো কর্ণকুহরে পৌঁছায় না। সর্বশেষ পাঁচ বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে আবেদন করেছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। জানা গেছে, বর্তমানে ওই মোহনায় দয়াল সাধু, কেশব দাশ, নিখিল দাশ, কার্তিক দাশ, রামপদ দাশ, রামজয় দাশ, দুলাল দাশ, কোমলকান্তি দাশ, সমীর দাশ, বিধান দাশ, সুজন দাশ, পরিমল দাশ, শিবন দাশ এবং ইউসুফ বাড়ির ইউসুফ, ফরিদুল আলম, সেলিনা আক্তার, মোহাম্মদ আলী, মো: জলিল, মো: ইয়াসিন, জাহেদুল আলম, নুরুল ইসলাম, শামসুল আলম, সিরাজুল আলম, আবদুল শুকুর, জেসমিন আক্তার ও নুরজাহানের বসতবাড়ি ভয়াবহ ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম ডিভিশন-১ এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শওকত ইবনে শায়িদ বলেন, চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার আংশিক এলাকার এমপি আলহাজ মো: নজুরুল ইসলামের প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যে ভাঙন প্রতিরোধে ১৪০ কোটি টাকার টেকসই বেড়িবাঁধের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সাথে সাথে উপজেলার চরবরমা, সুয়ালক বৈতরণী, চরখাগরিয়া, কাঠগড় ও কেশুয়ার যেসব এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ নেই তেমন প্রায় সাড়ে আট কিলোমিটার এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ডিও লেটার দেয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত কাজ করছে। এতে প্রায় ৮২ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে তিনি জানান।

 


আরো সংবাদ