১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ঈদের দেড় সপ্তাহ পরও দ্বিগুণ বাসভাড়া

-

ঈদ শেষ হয়েছে দেড় সপ্তাহ। ইতোমধ্যে সারা দেশে সব অফিস-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালু হয়েছে। ঢাকাসহ মানুষের কর্মক্ষেত্রে ফেরাও প্রায় শেষ। কিন্তু ঈদের এত দিন পরও চিলমারী থেকে ঢাকাগামী সব বাসের ভাড়া এখনো প্রায় দ্বিগুণ নেয়া হচ্ছে। প্রশাসন দেখেও যেন কিছুই জানে না। কোরবানির ঈদের আমেজ শেষ হলেও অতিরিক্ত ভাড়া যেন শেষ হচ্ছে না। সাধারণ ভাড়া ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা হলেও এখনো ভাড়া গুনতে হচ্ছে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা। এ নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ নেই। ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রী ভোগান্তি এখন চরমে। বছরের দুই ঈদে যাত্রীদের বাড়তি চাপ আর ভাড়া নৈরাজ্য কোনো নতুন বিষয় নয়। তবে ঈদ এবং ঈদের ছুটি শেষ হলেও বাসের বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধ হয়নি চিলমারী-ঢাকা রুটে।
ঈদের আমেজকে কাজে লাগিয়ে সিন্ডিকেটগুলো সুযোগ বুঝে ঢাকার যাত্রীদের এক ধরনের জিম্মি করেই দ্বিগুণ ভাড়া নিচ্ছে। এর মধ্যে এসএন পরিবহনের (ননএসি) ভাড়া ৫০০ টাকা হলেও তা বাড়িয়ে করা হয়েছে এক হাজার ২০০ টাকা, ফাহমিদা হকের (ননএসি) ৪৫০ টাকার ভাড়া এক হাজার ১৫০ টাকা করা হয়েছে। নাবিল এন্টারপ্রাইজে (ননএসি) ৫৫০ টাকার ভাড়া এক হাজার টাকা, এসি ৮০০ টাকার স্থলে এক হাজার ৫০০ টাকা, শ্যামলী পরিবহনে (ননএসি) ৪৫০ টাকার ভাড়া ৯৫০ টাকা, হানিফ এন্টারপ্রাইজের (ননএসি) ৫৫০ টাকার ভাড়া ৯৫০ টাকা, এনা ট্রান্সপোর্টের (ননএসি) ৫৫০ টাকার ভাড়া এক হাজার ১৫০ টাকা, এসি ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার ৩০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা নেয়া হচ্ছে।
ঢাকাগামী যাত্রী রুহুল আমিনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঈদের এক সপ্তাহ বেশি ভাড়া নেয়াটা মেনে নেয়া যায়, কিন্তু ১২ দিন পরও তা কি করে সম্ভব? আরেক যাত্রী রবিউল ইসলাম জানান, ঈদের অজুহাতে টাকা বেশি নেয়া হয়, এটা দু-এক দিন মেনে নেয়া যায়। ১২ দিন পরে এত বেশি টাকা নেয়া মেনে নেয়া যায় না। আরজিনা বেগম বলেন, আমরা আর কি করব, বাসের কাউন্টার মাস্টাররা বলে কোনো কম নাই। গেলে যান, না গেলে নাই। বাধ্য হয়েই যেতে হচ্ছে।
বাস কাউন্টার মাস্টার আনোয়ার হোসেন যাদু ও রহিম মিয়ার সাথে কথা হলে তারা জানান, ঈদ উপলক্ষে আমরা একটু বাসভাড়া বেশি করে নিচ্ছি। ১০-১২টা দিনই তো। সারা বছর তো আর নিই না।
ফাহমিদা হক বাস কাউন্টার মাস্টার রাজু মিয়া বলেন, আমরা এক হাজার ২০০ করে টিকিট বিক্রি করেও মানুষকে টিকিট দিতে পারি না। কারো মন চাইলে যাবে, না চাইলে না যাবে।
এ ব্যাপারে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা জানান, এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আরো সংবাদ