১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মির্জাগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বারান্দায় শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান

-

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের উত্তর চতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে জায়গার সঙ্কুলান না হওয়ায় পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চললে শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভবনের পাশেই একটি তিন কক্ষবিশিষ্ট টিনশেড ঘর তুলে অন্য শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছেন। বিদ্যালয়টি অনেক আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা হলেও একাধিকবার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উপজেলা শিক্ষা অফিসকে অবহিত করলেও সিরিয়ালে আছেন বলেন জানান।
বিদ্যালটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ৪৯ বছর পর সিডর-পরবর্তী সংস্কার হয়েছে একবার। বর্তমানে চার কক্ষবিশিষ্ট ভবনটি জরাজীর্ণ ও ব্যবহারের অযোগ্যের কারণে এবং জায়গা সঙ্কুলান না হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষকেরা বাধ্য হয়ে বিদ্যালয়ের বারান্দায় ও একটি কক্ষে শিক্ষার্থীদের ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছেন। যেকোনো সময়ে বিদ্যালয়ের ভবনটি ধসে পড়তে পারে বলে শিক্ষক ও স্থানীয়রা মনে করেন। ভবনের সবকটি পিলার ও ছাদের আস্তর খসে পড়ে ভেতরের রড বেরিয়ে গেছে। জায়গা স্বল্পতাসহ বিভিন্ন সমস্যায় বর্তমানে বিদ্যালয়টির শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হতে যাচ্ছে। উপজেলা সদরের দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ফলে বিদ্যালয়টি নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ আটটি বিদ্যালয় ও ৫৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে এবং এরই মধ্যে দু’টি নদীভাঙনে কারণে নিলামসহ ১৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। সরেজমিন জানা যায়, মির্জাগঞ্জ উপজেলার উত্তর চতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিদ্যালয়টি সংস্কার করা হয়েছে একবার। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষকসহ পাঁচজন শিক্ষক এবং ৭২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। অনবরত খসে পড়তে থাকে ছাদের আস্তর। মেঝেতে ছাদের আস্তর খসে পড়ায় খানাখন্দে ভরে গেছে।
বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রছাত্রী মো: রবিউল, সাইমুন ইসলাম, অন্তু, লাভনী, জান্নাতী, সাদিয়া ও অপু বলে, জরাজীর্ণ কক্ষে ক্লাস করতে ভয় লাগে। ভয়ের কারণে অনেক ছাত্র স্কুলে আসে না। স্কুলে বেঞ্চের অভাবে বিদ্যালয়ের বারান্দায় ক্লাস করতে হচ্ছে। প্রতিদিনই বিদ্যালয়ের ছাদের আস্তর খসে পড়েছে। এতে আমাদের ভয়ে ভয়ে ক্লাস করতে হয়। যেকোনো সময়ে বিদ্যালয়টি ভেঙে পড়তে পারে। তাই নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রায়োজন। আমাদের বিদ্যালয়ে নতুন ভবন চাই। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা সুলতানা বলেন, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসে একাধিকবার বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ বিধায় লিখিতভাবে এবং বিদ্যালয়ের ছবি জমা দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। তাই বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এবং জায়গা সঙ্কুলান না হওয়ায় এখন শিক্ষার্থীদের ভবনের বারান্দায় পাঠদান করানো হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম চালাতে কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কািমটির সভাপতি মো: কাসেম মৃধা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বারান্দায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে ঝুঁকির মধ্যে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: রবিউল ইসলাম বলেন, উত্তর চতরা স্কুলসহ মির্জাগঞ্জে অনেক স্কুল ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। আমি একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। ভবনটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বিধায় নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। বরাদ্দ এলেই নতুন ভবনের কাজ শুরু করা হবে।


আরো সংবাদ