০৮ ডিসেম্বর ২০১৯

ভেদরগঞ্জে বারোমাসি তরমুজ চাষে সফলতা

ভেদরগঞ্জে বাবুল দালালের ক্ষেতে বারোমাসি জাতের গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ : নয়া দিগন্ত -

বারোমাসি জাতের গোল্ডেন ক্রাউন ও ব্ল্যাকবেবি তরমুজ আবাদ করে সাফল্য পেয়েছেন শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার মহিষকান্দি গ্রামের বাবুল দালাল নামে এক কৃষক। ৪০ শতক জমিতে মাচায় এ জাতের তরমুজ আবাদ করে খরচের তিন গুণেরও বেশি লাভবান হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কৃষক বাবুল। তার এ সাফল্য দেখে উপজেলার অনেক কৃষক এখন এ জাতের তরমুজ আবাদে আগ্রহী হয়েছেন বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম-২ এর আওতায় ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতায় গত জুন মাসে ৪০ শতক জমিতে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে বারোমাসি জাতের গোল্ডেন ক্রাউন ও ব্ল্যাকবেবি তরমুজ আবাদ করেন বাবুল দালাল। রোপণের ৭০ দিনের মাথায় তরমুজের ফলন আসতে শুরু করে। এর মধ্যে গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজের বাহারি রঙের কারণে এলাকায় বেস চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ জাতের তরমুজ জেলায় প্রথম আবাদ হওয়ায় কৃষকসহ সাধারণ মানুষ তরমুজ দেখতে যান বাবুল দালালের তরমুজের জমিতে। বর্তমানে প্রতি কেজি তরমুজ ক্ষেত থেকেই ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে ক্রেতারা কিনে নিচ্ছেন। বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। কৃষক বাবুল দালাল এরই মধ্যে ৪০ শতক জমির তরমুজ ৮০ হাজার টাকা বিক্রি করে বেশ লাভবান হয়েছে। আরো ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করা যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
কৃষক বাবুল দালাল বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় ৪০ শতক জমিতে বারোমাসি জাতের গোল্ডেন ক্রাউন ও ব্ল্যাকবেবি তরমুজ আবাদ করি। এতে আমার ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রথমে কিছুটা ভয় থাকলেও তরমুজের ফলন দেখে বেশ আনন্দিত হই। বর্তমানে প্রতি কেজি তরমুজ ক্ষেত থেকেই ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে ক্রেতারা কিনে নিচ্ছেন। বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। এরই মধ্যে আমি ৪০ শতক জমির তরমুজ ৮০ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। আরো ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করা যাবে বলে আশা করছি।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহ মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ এলকায় এর আগে বারোমাসি জাতের তরমুজ আবাদ না হওয়ায় কৃষকদেরকে উৎসাহিত করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম-২ এর আওতায় কৃষক বাবুল দালালকে পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা করায় তিনি বারোমাসি জাতের গোল্ডেন ক্রাউন ও ব্ল্যাকবেবি তরমুজের আবাদ করেন। আবাদের ৭০ দিনের মাথায় কৃষকের ক্ষেতের তরমুজের দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য দেখে আশপাশের কৃষক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ বেশ আগ্রহ নিয়ে দেখছেন ও কিনছেন। অ-মওসুমেও অল্প সময়ে এ জাতের তরমুজের ফলন পাওয়ায় এবং তুলনামূলক বেশি বাজারমূল্য পেয়ে কৃষক অর্থনৈতিকভাবে বেশ লাভবান হয়েছেন। তার এ সাফল্য দেখে উপজেলার অনেক কৃষকই বারোমাসি জাতের এ তরমুজ আবাদে বেশ আগ্রহী হয়েছেন। আমরা আশা করছি আগামীতে উচ্চমূল্যের এ ফসল আবাদ করে এলাকার কৃষকেরা অন্যান্য ফসলের চেয়ে বেশি লাভবান হবেন।


আরো সংবাদ