১৪ অক্টোবর ২০১৯

মোহনগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ১২ লাখ মানুষের জন্য ১৩ ডাক্তার

-

সঙ্কটের আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে অবহেলিত ভাটি বাংলার একমাত্র ৫০ শয্যার মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স। নেত্রকোনা জেলার উত্তর-পূর্ব অংশের পাঁচটি এবং সুনামগঞ্জের পাঁচটিসহ মোট ১০টি উপজেলার প্রায় ১২ লাখ মানুষের ভরসা এই হাসপাতালটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। অবকাঠামোগত সমস্যার পাশাপাশি রয়েছে বিশাল জনবল সমস্যা। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নিতে এখানে ভিড় করলেও উপযুক্ত চিকিৎসাসেবা না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে মাত্র পাঁচজন রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসক কর্মরত আছেন। তাদের সাথে আছেন ছয়জন মেডিক্যাল সহকারী। এই ছয়জন মেডিক্যাল সহকারী দিন-রাত সেবা দিয়ে চলেছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রথম শ্রেণীর পদ রয়েছে ২৮টি। পুরুষ ৯ জন, মহিলা চারজন মোট ১৩ জন বহাল আছেন (কাগজে-কলমে) ১৫টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডেমস্টলজি একটি, জুনিয়র কনসালট্যান্ট সার্জারি একটি, জুনিয়র কনসালট্যান্ট মেডিসিন একটি, জুনিয়র কনসালট্যান্ট অ্যানেসথেসিয়া একটি, জুনিয়র কনসালট্যান্ট সার্জন ডেল্টাল একটি, মেডিক্যাল অফিসার ইউএসসি একটি, জুনিয়র কনসালট্যান্ট চক্ষু একটি, জুনিয়র কনসালট্যান্ট নাক কান গলা একটি, অ্যাসিসট্যান্ট সার্জন প্যাথোলজি একটি, জুনিয়র সার্জন অ্যানেসথেসিস্ট একজন, অ্যাসিসট্যান্ট সার্জন (ইউনিয়ন এইচসি) একটি।
দ্বিতীয় শ্রেণীর পদ রয়েছে ২৫টি। ২২ জন কর্মরত আছেন। খালি রয়েছে সিনিয়র স্টাফ নার্সের তিনটি পদ। তৃতীয় শ্রেণীর পদ রয়েছে ৮৯টি। ৫০ জন পুরুষ ও সাতজন মহিলা কর্মরত রয়েছেন। শূন্য রয়েছে ৩২টি পদ।
এর মধ্যে হেড অ্যাসিসট্যান্ট কাম অ্যাকাউন্টট্যান্ট একটি, স্টোরকিপার একটি, অফিস অ্যাসিসট্যান্ট দুইটি, টিএলসিএ ফার্মাসিস্ট চারটি, এমটি ল্যাবরেটরি একটি, স্বাস্থ্য সহকারী ১০টি, জুনিয়র মেকানিক একটি, সিএইচসিও দুইটি। চতুর্থ শ্রেণীর পদগুলোর মধ্যে ৯ জন পুরুষ, চারজন মহিলা। শূন্যপদগুলো হলোÑ অফিস সহায়ক চারটি, ওয়ার্ডবয় একটি, সিকিউরিটি গার্ড একটি, কুক মসালিচি একটি, পরিচ্ছন্নতাকর্মী পাঁচটি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও প প কর্মকর্তা নূর মো: সামছুল আলম বলেন, পুরনো দু’টি বিল্ডিং ভেঙে ফেলার কারণে আবাসন সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া জায়গা কমে যাওয়ার কারণে ডায়েটের রুমটির অবস্থা বেগতিক, ল্যাবরেটরিটিও একটি জরাজীর্ণ ভবনে। এসব সমস্যার সমাধান না হলে সঙ্কট আরো ঘনীভূত হবে।

 


আরো সংবাদ