১৫ অক্টোবর ২০১৯

জীবননগরে আদম ব্যবসায়ীর খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব যুবকেরা জাল কাগজ দিয়ে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে

-

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সেনেরহুদা গ্রামের আদম ব্যাপারি মাসুদের খপ্পরে পড়ে এলাকার বহু যুবক সর্বস্বান্ত হয়েছেন। বিদেশে ভালো কাজ আর বড় অঙ্কের বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে ইরাকে পাঠানোর নামে প্রতারক মাসুদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যেই তার বিরুদ্ধে বিদেশে লোক পাঠানোর নামে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
জীবননগর শহরের হাইস্কুলপাড়ার আজাদ হোসেন বলেন, উপজেলার উথলী ইউনিয়নের সেনেরহুদা গ্রামের বসতিপাড়ার মমিন উদ্দিনের ছেলে মাসুদ রানা(২৫) আমার ছেলে আকমল সাইদকে(২৫) ইরাকে ভালো কাজ দেয়া এবং বড় অঙ্কের বেতনের কথা বলে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি আমার কাছ থেকে চার লাখ টাকা নিয়ে ছেলেকে ইরাকে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু পরে দেখা যায় ইরাকে পাঠানো হলেও ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত কাগজপত্রে ত্র“টির কারণে দুই মাস আমার ছেলেকে ইরাকে কাজকর্ম না দিয়ে গোপন স্থানে আটকিয়ে রাখে।
পরে ইরাকের এক দালালের মাধ্যমে সেখানে এক রেস্টুরেন্টে কাজের ব্যবস্থা করে। একপর্যায়ে আমার ছেলে ওই রেস্টুরেন্টে কাজ করতে অস্বীকার করে এবং দেশে ফিরে আসার কথা বললে ওই রেস্টুরেন্ট মালিক ছেলেকে বলে তোকে আমরা ৫০০ হাজার ডলারের বিনিময়ে কিনে নিয়েছি, ওই টাকা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত তুই দেশে যেতে পারবি না। এ দিকে অবৈধভাবে রেস্টুরেন্টে কাজ করাকালীন আমার ছেলেকে ইরাকের ইমিগ্রেশন পুলিশ আটক করে। এ অবস্থায় আমরা ছেলেকে ফেরত আনার ব্যবস্থাসহ আমাদের টাকা ফেরত চাইলে আদম ব্যবসায়ী মাসুদ আমার ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সমাঝোতা করলেও পরবর্তীতে তা না করে উল্টা আমাকে মামলায় ঝুলিয়ে হয়রানি করার হুমকি দেয়। বর্তমানে ছেলেকে নিয়ে শঙ্কার মধ্যে আছি।
আদম ব্যবসায়ী মাসুদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, শুধু আকমল সাইদই নয়, মাসুদের খপ্পরে পড়ে একইভাবে সর্বস্বান্ত হয়েছে উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের বকুলের ছেলে সোহেল ও আরিফ।
এলাকায় খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, মাসুদের বাড়িতে প্রায় দিনই ভুক্তভোগীদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। মাসুদ ঠিকমতো বাড়িতে না থাকায় ভুক্তভোগীরা তার সাক্ষাৎ পান না। এলাকার বেকার যুবকদের ভালো কাজ আর বড় অঙ্কের বেতনের প্রলোভন দিয়ে বিদেশ পাঠানোর নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে মাসুদ আলীশান বাড়ি আর বাবুয়ানা জীবনযাপন করলেও ভুক্তভোগীদের পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভুক্তভোগী অনেক পরিবার জমিজমা বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করছে।
প্রতারক মাসুদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হওয়া উপজেলার সেনেরহুদা গ্রামের বক্তিয়ার রহমান বলেন, মাসুদ আমার মামা হয়। তিনি আমার কাছ থেকে চার লাখ টাকা নিয়ে জাল ভিসা দিয়ে ইরাকে পাঠিয়ে দেন। পরে জানতে পারি ওই ভিসায় ইরাকে কাজ করার কোনো বৈধতা নেই। ইরাকে আমাকে কাজের পারমিট দেয়া হয়েছিল তাও ভুয়া। আমি প্রতারক মাসুদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
অভিযুক্ত মাসুদ রানা বলেন, আমি বিদেশে পাঠানোর নামে টাকা নিয়েছি সত্যি, যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি তাদের তো ইরাকে পাঠিয়েছি। তবে সেখানে কিছু সমস্যা হয়েছে সেটাও ঠিক। ভুক্তভোগীদের জাল কাগজপত্র দেয়ার ব্যাপারে তিনি কোনো সদুত্তর না দিলেও বেশ দম্ভ করে বলেন, পারলে কিছু করে নিতে বলেন।
উথলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, মাসুদ রানা আমার গ্রামের ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিদেশে লোক পাঠানোর নামে বড় অঙ্কের টাকা আত্মসাতের বহু অভিযোগ আছে। তার ব্যাপারে বিচারের দিন এলেই সে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে থাকে। সে যাদেরকে বিদেশে পাঠিয়েছে তারা সবাই দুর্ভোগের মধ্যে আছে বলে শুনেছি ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকজন বিদেশ থেকে চলেও এসেছেন আবার কিছু লোক সেখানে আটক হয়েছে।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, মাসুদ রানা এলাকায় চিহ্নিহ্নত প্রতারক আদম ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে বিদেশে প্রতারণা করে লোক পাঠিয়ে বড় অঙ্কের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জীবননগর থানায় একটি মামলা হয়েছে। তবে মামলাটি তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।


আরো সংবাদ