১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

সবজি চাষে দিন বদলেছেন কৃষাণী সখিনা বেগম

নিজের সবজি ক্ষেতে কৃষাণী সখিনা বেগম : নয়া দিগন্ত -

সবজি চাষ করে কষ্টের দিন বদলে ফেলেছেন সখিনা বেগম। পরিমিত জৈব সার ব্যবহার করে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত সবজি চাষে সফল হয়েছেন তিনি। কষ্টের সংসারে এসেছে সুখের পরশ। এলাকায় সখিনা বেগম দেখিয়েছেন কৃষিকাজ করে কিভাবে স্বপ্ন জয় করা যায়।
কৃষিতে জীবন বদলানো সখিনা বেগমের বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নেবাখালী গ্রামে। স্বামী মালেক গাজী দরিদ্র কৃষক। সংসারে চার ছেলের তিনজনই আলাদা। তারা অন্যের ক্ষেত খামারে কামলা খাটে (জোন দেয়)। ছোট ছেলে আছে সখিনার সংসারে। তাকে সাথে নিয়ে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে সবজি চাষ করে নিজের সংসারে এনেছেন সচ্ছলতা।
সখিনা বেগম বলেন, স্বামীর চাষযোগ্য জমি নেই। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষ করেন বিভিন্ন ফসল। তাতে বছরের খোরাকি হতো না তার। ফলে অভাব যেন পিছু ছাড়ত না। দিন আনা দিন খাওয়া সংসারে নুন আনতে পানতা ফুরাতো। অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কেটেছে তাদের। এমনও সময় গেছে তার ওষুধ কেনার পয়সা ছিল না। ঈদ উৎসবেও জুটত না নতুন কাপড়। অর্থাভাবে ছেলেদের লেখাপড়াও শেখাতে পারেননি তিনি। আজ তার সুদিন ফিরেছে। ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে শুরু করেন সবজি চাষ। সবজি বিক্রি করে তিনি দেখেন লাভের মুখ। সেই থেকে সূচনা। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে এগিয়ে গেছেন সামনের দিকে।
সখিনা বেগম বলেন, তিনি বাণিজ্যিকভাবে সবজি চাষ করেন। স্থানীয় এলাকায় অনেক কৃষাণী নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত সবজি বাড়ির আঙিনায় আবাদ করার জন্য তার কাছে পরামর্শ নিচ্ছে। তার উৎপাদিত সবজি সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন বাজারে পাঠানো হচ্ছে। আর অন্য কৃষাণীরাও তাকে অনুসরণ করছেন।
পাঁচ মাস আগে নিজের বর্গা নেয়া দেড় বিঘা জমিতে ঢেঁড়স, এক বিঘা জমিতে পটোল ও ১৫ কাঠা জমিতে মেটে আলু চাষ করেন। অধিক ফলনের আশায় প্রথম দিকে ক্ষেতে বেশি রাসায়নিক সার ব্যবহার করতেন। তাতে খরচ বেশি হতো। পরে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে পরিমিত মাত্রায় জৈব সার ব্যবহার করেন। এতে বেশি লাভ হওয়ায় বর্তমানে চার বিঘা জমিতে ঢেঁড়স ও পটোল চাষ করেন। তিনি এক লাখ টাকার সবজি বিক্রয় করেন।
সখিনা বেগম বলেন, আগে আমি ক্ষেতে কীটনাশক দিতাম, যাতে রোগ বালাই না হয়। আর কীটনাশক স্প্রে করার পরদিনই ওই সবজি বাজারে বিক্রি করতাম। আর এখন জৈব সার দিচ্ছি পরিমিত মাত্রায়। এখন কীটনাশক স্প্রে করার এক সপ্তাহ পর সবজি তুলছি। এতে ক্রেতারা অনেকটা বিষমুক্ত সবজি পাচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, আগে আমার দিন আনা দিন খাওয়া ছিল। এখন আমি সচ্ছল। সিনজেনটার হাইব্রিড বীজ নিয়ে আমি উপকৃত হয়েছি। এখন আমার স্বপ্ন একটি বাড়ি একটি খামার। যে খামারে উৎপাদিত ফসলের ভাগ কাউকে দিতে হবে না। তিনি ফলে ফুলে ভরে তুলতে চান তার বাড়ির আঙিনা। এ জন্য তিনি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা আশা করেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক অরবিন্দু মণ্ডল বলেন, জেলার সখিনা বেগমসহ কয়েকজন কৃষাণী নিরাপদ উপায়ে সবজি উৎপাদন করছেন। এতে ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি ক্রেতারা পাচ্ছেন স্বাস্থ্যসম্মত সবজি, যা দেখে অন্য কৃষাণীরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। কৃষি অধিদফতরের পক্ষ থেকে কৃষক-কৃষাণীদের বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এক ইঞ্চি জমিও যাতে অনাবাদি না থাকে সে জন্য কৃষি অধিদফতরের প্রতিটি ইউনিট মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।

 


আরো সংবাদ