২৩ অক্টোবর ২০১৯

সিংড়ায় যাত্রী ছাউনিতে আ’লীগ চেয়ারম্যানের ধানের গুদাম

সিংড়ার রাখালগাছা বাজারে যাত্রী ছাউনি দখল করে গুদাম ঘর নির্মাণ : নয়া দিগন্ত -

নাটোরের সিংড়ায় যাত্রী ছাউনি দখল করে ধানের গুদাম বানানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় তাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মিনহাজ উদ্দিন সরদারের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ ৩ বছর ধরে যাত্রী ছাউনিটি দখলে থাকার কারণে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে ভোগান্তি পোহাচ্ছে শিক্ষার্থীসহ এলাকার জনসাধারণ। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে ইউপি চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিনের দাবি, তিনি যাত্রী ছাউনি দখল করে রাখেনি। তার প্রতিপক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছে। জানা যায়, রোদ ও ঝড়-বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এলজিএসপি-২ এর অর্থায়নে দুই লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে ‘রাখালগাছা বাজার যাত্রী ছাউনি’ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু কয়েক মাস পরে ছাউনির চতুরদিকে ইটের প্রাচীর তুলে দখল করে নেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন সরদার। যাত্রী ছাউনিটি তার বাড়ির পাশে হওয়ায় ধানের গুদাম ঘর হিসেবে ব্যবহার করেন তিনি অভিযোগ এলাকাবাসীর।
স্থানীয়রা জানান, এই বাজার দিয়েই সিংড়া ও আত্রাই থানার প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াত। যাতায়াতের সময় হঠাৎ বৃষ্টি বা রোদের সময় যাত্রী ছাউনিতে দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নেয় তারা। কিন্তু নির্মাণের পর থেকেই চেয়ারম্যানের কব্জায় চলে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ে বাজারের জনসাধারণসহ স্কুল-মাদরাসার শিক্ষার্থীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাজারের একাধিক সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, ছাউনিটি প্রায় ৩ বছর ধরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন দখল করে ব্যবহার করছেন। আর তার বাড়ির কৃষাণ রুবেল হোসেনের দায়িত্বে রয়েছে যাত্রী ছাউিীটি। এ বিষয়ে ৭ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য হযরত আলী মুঠোফোনে বলেন, যাত্রী ছাউনিটি উদ্বোধনের পর বাজারের জনসাধারণ রোদ-বৃষ্টিতে বিশ্রাম নিত। আবার মাঝে মধ্যে এখানেই গ্রামের সালিস-দরবার করা হতো। কিন্তু সেটি তালাবদ্ধ থাকে। পার্শ্ববর্তী ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা আহসান হাবিব বলেন, যাত্রী ছাউনি তালা দিয়ে রাখা হয়েছে এটা ঠিক। তবে কে দিয়েছে এটা বলা কঠিন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এই ছাউনি সেবাকেন্দ্র বা আশ্রয়স্থল। ঝড়-বৃষ্টি হলে জনগণ এখানেই আশ্রয় নেবে। এটা বন্ধ রাখায় জনগণের সমস্যা হচ্ছে।
এ বিষয়ে তাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মিনহাজ উদ্দিন বলেন, এটা মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন। আমার বিপক্ষের লোকজন এটা একটা অপ্রচার চালাচ্ছে। গ্রামের মানুষের সেখানে কিছু ধান রয়েছে। আমার কোনো কিছু নেই। তবে, যাত্রী ছাউনি হিসেবে ব্যবহার হওয়া উচিত। আমি খুব তাড়াতাড়ি এটা ফাঁকা করে দেবো। যাতে যাত্রী ছাউনি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এ বিষয়ে নাটোর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম রাব্বি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এলাকাবাসী অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 


আরো সংবাদ