২৩ অক্টোবর ২০১৯

পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন চিকিৎসক দিয়ে ৪ লাখ মানুষের চিকিৎসা

-

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নানামুখী সঙ্কটের আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। চার লক্ষাধিক মানুষের জন্য সরকারি একমাত্র এই হাসপাতালে জনসাধারণ চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে না। এখানে দীর্ঘ দিন ধরে চলছে ডাক্তার সঙ্কট। পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি সঙ্কট তো আছেই। সব মিলে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। এসব সমস্যার সমাধান চেয়ে বারবার আবেদন করা হলেও সঙ্কট সমাধানে কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নেয়নি। সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য বিষয়টি সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও কাজ হয়নি।
জানা যায়, ৩১ শয্যার এ হাসপাতালটিকে ইতঃপূর্বে ৫০ শয্যা ঘোষণা করা হয়েছে। ৫০ শয্যার ভিত্তিতে রোগী ভর্তি এবং ওষুধপথ্য দেয়া হলেও জনবল কাঠামো রয়েছে ৩১ শয্যার। সেখানেও শূন্যতা আর শূন্যতা। ১০ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগে চিকিৎসক/সহকারী সার্জনের পদ রয়েছে ২১টি, যার মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র তিনজন। তারা হলেন জুনিয়র গাইনি কনসালটেন্ট ডা: নজরুল ইসলাম, ডেন্টাল সার্জন ডা: তহমিনা সুলতানা, পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা: এ এ এম আবু তাহের, ডেপুটেশনে মেডিক্যাল অফিসার আছেন আছেন দুজন ডা: আসমাউল ইসলাম তিনি পীরগঞ্জ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মরত ও ডা: আলী আজগর তিনি ভোমরাদহ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত। লোকবল সঙ্কটের কারণে এরা দুজন পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করছেন। অ্যানেসথেসিয়া প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন ডাক্তার দিয়ে গাইনি বিভাগের সিজারিয়ান অপারেশন ইতঃপূর্বে চালু রাখা গেলেও অ্যানেসথেসিস্টকে অন্যত্র বদলি করায় ২ জানুয়ারি ১৮ সাল থেকে প্রায় ২২ মাস ধরে এ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ রয়েছে। ফলে গর্ভবতী মায়েদের বিভিন্ন ক্লিনিকে দৌড়াতে গিয়ে হয়রানি পেরেশানিসহ সীমাহীন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অথচ জুনিয়র গাইনি কনসালটেন্ট পদে একজন সিনিয়র চিকিৎসক কর্মরত থাকলেও অ্যানেসথেসিস্টের অভাবে এ বিভাগের সিজারিয়ান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে ফলে দিনের পর দিন অব্যবহৃত থাকায় ওটির মূল্যবান যন্ত্রপাতিগুলোও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ডেন্টাল বিভাগে চিকিৎসক থাকলেও ডেন্টাল চেয়ারটি ২০০৭ সালে অকেজো ঘোষিত হওয়ায় এ বিভাগের কার্যক্রম ১২ বছর ধরে বন্ধ প্রায়। এদিকে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিসিন, সার্জারি, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, অ্যানেসথেসিয়া, ইউনানী ও শিশু বিভাগে কোনো চিকিৎসক নেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অন্যতম পদ আবাসিক মেডিক্যাল অফিসারের পদটিও শূন্য রয়েছে। হাসপাতালের স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের পদটি দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য।
এ পদের ব্যক্তি সুবিধামতো নিজের এলাকায় ডেপুটেশনে রয়েছেন বছরের পর বছর ধরে। স্টোর কিপারের পদটিও শূন্য দীর্ঘ দিন ধরে। স্যানিটেশন এবং স্টোরের দায়িত্ব নিজ কাজের পাশাপাশি পালন করছেন স্বাস্থ্য সহকারী বকুল আলম। জনগুরুত্বপূর্ণ দুটি সেক্টরের দায়িত্ব একা পালন করতে গিয়ে তিনি হাঁপিয়ে উঠেছেন। এ বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স সাবেরা খাতুন নিজের সুবিধামতো ঠাকুরগাঁওয়ে ডেপুটেশনে রয়েছেন। উপজেলা শহরে তিনটি ক্লিনিক ও ৯-১০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকলেও আল্ট্রাসনোগ্রাফি এবং অ্যনেসথেসিস্ট না থাকায় তারাও ঠালকুরগাঁও দিনাজপুর থেকে ডাক্তার নিয়ে আসতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা: এ এ এম আবু তাহের বলেন, ডাক্তার ও অন্যান্য পদের জন্য আমরা বারবার চাহিদা পাঠিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। এতে অনেক চিকিৎসাসেবা বেহাত হচ্ছে।


আরো সংবাদ