১৭ নভেম্বর ২০১৯

বকশীগঞ্জে সবজি চাষে স্বাবলম্বী হালিমা

বকশীগঞ্জে কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে সবজি চাষে স্বাবলম্বী হালিমা : নয়া দিগন্ত -

জামালপুরের বকশীগঞ্জে কৃষি ক্ষেত্রেও অবদান রেখে স্বাবলম্বী হয়েছেন হালিমা বেগম এক পরিশ্রমী নারী। বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পর পরিবেশবান্ধব সবজি চাষ করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। আত্মবিশ^াস আর কঠোর পরিশ্রেমে তিনি এখন সফল সবজি চাষি। গত জুন মাসে ৯০ শতংাশ জমিতে সবজি চাষ করেন হালিমা বেগম। জুলাইয়ে ভয়াবহ বন্যায় নষ্ট হয়ে যায় তার সবজি ক্ষেত। কিন্তু দমে যাননি অদম্য এ নারী। পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে দেড় বিঘা জমিতে শসা, ১৬ শতাংশ জমিতে করলা ও ১৩ শতাংশ জমিতে ঢেঁড়স চাষ করেন। সবজি চাষে তার ২২ হাজার টাকা খরচ হয়। বর্তমানে তার সবজি ওঠা শুরু হয়েছে। রাসায়নিক সারের ব্যবহারের পরিবর্তে কেঁচো কম্পোস্ট ও জৈব সার ব্যবহার করায় হালিমার ক্ষেতের সবজির চাহিদা অন্যান্য কৃষকের চেয়ে অনেক বেশি। তিনি নিজেই জৈব সার উৎপাদন করেন। তাকে সহায়তা করেন স্বামী তোফাজ্জল হোসেন।
দিনমজুর তোফাজ্জলের সংসার চলত খুবই অভাব অনটনের মধ্যে। অন্যের কাজ করে যা রোজকার করতেন তা দিয়ে কোনো মতে দিন পার হতো তোফাজ্জলের পরিবারের। ২০১০ সালে দাতা সংস্থা অক্সফ্যামের সহযোগিতায় রি-কল প্রকল্প কাজ শুরু করে পূর্ব কলকিহারা গ্রামে।
উপায়ন্তর না দেখে পূর্ব কলকিহারা সূর্যউদয় উন্নয়ন সঙ্ঘ নামে গ্রামভিত্তিক সংগঠনে (সিবিও) উৎপাদক দলের সদস্য হিসেবে যোগ দেন। রি-কল প্রকল্পের কর্মকর্তা ও ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটরদের পরামর্শ ও তাদের আর্থিক সহযোগিতায় এগিয়ে যেতে থাকেন হালিমা বেগম।
২০১৮ সালে দাতা সংস্থা অক্সফ্যাম বকশীগঞ্জ উপজেলায় নতুন করে কাজ শুরু করলে ভাগ্য খুলে যায় হালিমা বেগমের। উন্নয়ন সঙ্ঘ রি-কল ২০২১ প্রকল্পের মাধ্যমে হালিমা বেগমকে বিভিন্ন সবজি চাষের ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
পরিবেশবান্ধব সবজি চাষের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরু করে অন্যের জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন নিজ উদ্যোমে। উন্নয়ন সঙ্ঘ রি-কল ২০২১ প্রকল্প থেকে পরিবেশবান্ধব সবজি চাষের জন্য কৃষি প্রদর্শনী প্লট, কেঁচো কম্পোস্ট সার উৎপাদন ও সেক্স ফেরোমেন ফাঁদের জন্য ১৪ হাজার টাকা দেয়া হয়। এতে নতুন উদ্যোমে কাজ শুরু করেন হালিমা বেগম।
গত জুলাইয়ের বন্যায় তার সবজি ক্ষেত পানিতে বিনষ্ট হলে বন্যার পর ফের শসা ও বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করেন। এরই মধ্যে তার উৎপাদিত ফসলের ক্ষেত থেকে সবজি বিক্রি শুরু হয়েছে। সপ্তাহে দুই দিন শসা তুলে থাকেন। প্রতি সপ্তাহে তার ক্ষেত থেকে ৬ থেকে ৮ মণ শসা ওঠানো হয়। প্রতি মণ শসা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে।
হালিমা বেগম উন্নয়ন সঙ্ঘ রি-কল ২০২১ প্রকল্প থেকে সার্বিক সহযোগিতায় পাওয়ায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পরিবেশ অনুকূলে থাকলে শসা চাষ করে ৫০ হাজার টাকা লাভ হবে। শসা ও অন্যান্য সবজি চাষে এক লাখ টাকা থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নারী সবজি চাষি হালিমা বেগম জানান, সবজি চাষ করেই তার ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। আমার দেখাদেখি অন্য নারীরাও সবজি চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তারাও এখন সবজি চাষ করছেন।
বকশীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: আলমগীর আজাদ জানান, উপজেলা কৃষি দফতর হালিমা বেগমকে ফসল উৎপাদন সম্পর্কে সব সময় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সবজি উৎপাদনে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না তার খোঁজখবর রাখেন।

 


আরো সংবাদ