১৭ নভেম্বর ২০১৯

সিংগাইরে আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ

তথ্য দিচ্ছে না জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস
-

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে তথ্যের জন্য লিখিতভাবে আবেদন করলেও মিলছে না কোনো তথ্য। সম্প্রতি বলধারা ইউনিয়নের খোলাপাড়া গ্রামের নূর মোহাম্মদের বাড়িতে স্থাপিত প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
জানা গেছে, ওই ইউনিয়নের ২৯টি প্রকল্প বাস্তবায়নে মহিলা মেম্বার সুফিয়া খাতুনের মাধ্যমে উপকারভোগী আটজনের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বিশাল অঙ্কের টাকা। সাড়ে সাত হাজার টাকার স্থলে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। খোলাপাড়া গ্রামের নূর মোহাম্মদের কাছ থেকে ২০ হাজার, জসিম উদ্দিনের কাছ থেকে ২৮ হাজার, রানার কাছ থেকে ২৮ হাজার, মহিদুরের কাছ থেকে ২৮ হাজার, জসিমের কাছ থেকে ২০ হাজার, জহিরুলের কাছ থেকে ২০ হাজার তেলিখোলা গ্রামের মরিয়মের কাছ থেকে ২৫ হাজার, রামকান্তপুরের আনিস খাঁর কাছ থেকে ২০ হাজার ও খৈয়ামুড়ি গ্রামের সুজনের কাছ থেকে ২৮ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে।
একই চিত্র পাওয়া গেছে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে। বায়রা ইউনিয়নে সদ্য নলকূপ পাওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকেও হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বিশাল অঙ্কের টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সানাইল মোল্লাপাড়া গ্রামের জনৈক নারী বলেন, এলাকার ইন্তাজ মোল্লা, শিউলী আক্তার, নাসরিন মেম্বার, এখলাছ মোল্লা, জাকির হোসেন, জসিম মোল্লা ও সুচিত্রা দাসের কাছ থেকে ৩০ হাজার করে টাকা নেয়া হয়েছে। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ায় জনস্বাস্থ্যের লোকজন প্রকল্পের কাজ তড়িঘড়ি সম্পন্ন করছেন। স্থাপিত প্রকল্প থেকে আর্সেনিকমুক্ত সুপেয় পানি না পাওয়ায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে হস্তান্তর পত্রে স্বাক্ষর করতে তারা অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। ভুক্তভোগী নূর মোহাম্মদ অভিযোগ করে বলেন, ২০ হাজার টাকা দিয়েও আমার বাড়িতে স্থাপিত নলকূপ থেকে নিরাপদ সুপেয় পানি পাচ্ছি না। তিনি আরো বলেন, জনস্বাস্থ্যের ফিল্ড অফিসার আমিনুর রহমান হস্তান্তর পত্রে স্বাক্ষর নিতে আমার বাড়িতে এলে আমি অস্বীকৃতি জানাই। এ নিয়ে বাগি¦তণ্ডার একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আপস-মীমাংসা করে দিলেও প্রতিনিয়ত জনস্বাস্থ্যের লোকজন আমাকে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
অভিযুক্ত সুফিয়া মেম্বার বলেন, বলধারা ইউনিয়নে ২৯টি টিউবওয়েল বরাদ্দ হয়েছে। তার মধ্যে পাঁচ-ছয়টি আমি দিয়েছি। প্রতিটি টিউবওয়েলের জন্য ৯ হাজার টাকা অফিসে জমা দেয়া হয়েছে। এক হাজার টাকা করে আমাকে খুশি হয়ে দিয়েছে। জনস্বাস্থ্যের ফিল্ড অফিসার আমিনুর রহমানকে লাঞ্ছিত সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
সিংগাইর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপসহকারী প্রকৌশলী রাসেল মিয়ার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


আরো সংবাদ