১৮ নভেম্বর ২০১৯

রাজবাড়ীর মিষ্টিকুমড়া প্রতিদিন যাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে

-

রাজবাড়ী বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর বাজারে প্রতিদিন জেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে আড়াই শ’ থেকে তিন শ’ টন মিষ্টিকুমড়া নামে। এগুলো জেলার চাহিদা মিটিয়ে ১২ থেকে ১৫টি ট্রাক যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। মরিচসহ অন্যান্য সবজি ক্ষেতে সাথী ফসল হিসেবে সামান্য খরচেরই চাষ হয় এ কুমড়া। এ বছর ফলন ভালো হলেও মওসুমের শুরুতে ২০ থেকে ২৫ টাকা এবং বর্তমানে ১৪ থেকে ১৯ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রকারভেদে ৪০০ থেকে ৮৫০ টাকা মণ হিসেবে বাজারে কুমড়া বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিদিন রাজবাড়ীর এ বাজারে বালিয়াকান্দি ও পার্শ্ববর্তী জেলা ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত শত শত মণ কুমড়া আমদানি করেন। সেসব কুমড়া বাজারের প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন আড়তদার বুঝে নেন এবং পাইকারি দরে স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে আড়তদাররা তাদের খরচ রেখে কৃষকদের প্রাপ্য টাকা বুঝিয়ে দেন। ফলে কৃষকদের হয়রানি হতে হচ্ছে না বলে মনে করছেন আড়তদাররা এবং কৃষকরা পাচ্ছেন ন্যায্যমূল্যে।
সরেজমিন দেখা যায়, বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর বাজারের বিভিন্ন স্থানে ট্রাক, ভ্যান ও বস্তাভর্তি এবং মাটিতে বোঝাই করা শত শত মণ মিষ্টিকুমড়া। কৃষকরা ভ্যানভর্তি করে কুমড়া এনে আড়তদারদের কাছে দিচ্ছেন বিক্রির জন্য। পরবর্তীতে সেই কুমড়া আড়তদাররা পাইকারি দরে বিক্রি করছেন ব্যাপারীদের কাছে। আর ব্যাপারীরা সেই কুমড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানোর জন্য ট্রাক লোড করছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের খরিপ মওসুমে ২৫০ হেক্টর জমিতে মিষ্টিকুমড়ার আবাদ হয়েছিল। আর এ বছর রবি মওসুমে ৩৬৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে মিষ্টিকুমড়ার।
কৃষকরা জানান, বিভিন্ন ধরনের ক্ষেতের মধ্যে সামান্য খরচে তারা কুমড়ার চাষ করলেও খরচের তুলনায় এ বছর দাম কম পাচ্ছেন, তবে ফলন মোটামুটি ভালোই হয়েছে। এ ছাড়া আড়তদারদের মাধ্যমে কুমড়া বিক্রি করায় বিক্রির ঝামেলাও কম। জেলার মধ্যে জামালপুর বাজার সবচেয়ে বড় কুমড়ার বাজার, যে কারণে তাদের কুমড়া বিক্রির জন্য এ বাজারে নিয়ে আসেন।
আড়তদার ভবতোষ দাসসহ অনেকে বলেন, কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই কৃষকদের থেকে নেয়া কুমড়া তারা ব্যবসায়ীদের কাছে প্রকারভেদে বিক্রি করছেন। পরবর্তীতে তাদের খরচ রেখে কৃষকদের টাকা বুঝিয়ে দিচ্ছেন। সামান্য খরচে কৃষকরা অন্যান্য সবজির মধ্যে কুমড়া চাষ করেন। এ বছর ভালো ফলন এবং দামও ভালো পাচ্ছেন। আসলে কৃষকরা কুমড়ায় এ বছর অনেক লাভবান। প্রতিদিন বাজারে বালিয়াকান্দি ও পার্শ্ববর্তী জেলা ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত শত শত মণ কুমড়া নিয়ে আসেন; যা তারা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন। এসব কুমড়া পরবর্তীতে ব্যবসায়ীরা ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান। প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫টি ট্রাক কুমড়া এখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। বর্তমানে ৪০০ থেকে ৮৫০ টাকা মণ এবং ১৪ থেকে ১৯ টাকা কেজি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। কিছু দিন আগে ২৪ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। এবার কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে পাচ্ছেন।
রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো: ফজলুর রহমান জানান, বালিয়াকান্দির জামালপুরসহ বিভিন্নস্থানের উঁচু জমিতে মরিচের পাশাপাশি ব্যাপক হারে কুমড়ার চাষ করেন কৃষকরা। এ কুমড়া চাষ করে তারা বেশ লাভবান। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় কুমড়ার বাজার জামালপুর। যেখানে প্রতিদিন কয়েক টন কুমড়ার আমদানি হয় এবং সেগুলো আড়তদারদের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যান। বর্তমানে বাজারে কুমড়ার দাম ভালো। কুমড়া চাষে উপজেলার দায়িত্বরত কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিয়েছেন।


আরো সংবাদ